এক সংগ্রামী মায়ের স্বপ্ন পূরণ

প্রকাশিত: ০১:৩৯, ০২ জুলাই ২০২০

আপডেট: ০১:৩৯, ০২ জুলাই ২০২০

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: লালটু সরকার, যিনি ৩৮তম বিসিএস এ শিক্ষা ক্যাডারে সারাদেশের মধ্যে তৃতীয় হয়েছেন। কিন্তু এই অর্জন খুব শান্তিতে আসেনি তার, পিছনে রয়েছে সংগ্রামী জীবনের গল্প।  
 
সাতক্ষীরার তালা সদরের মাঝিয়াড়া গ্রামের ছেলে লালটু সরকার। বাবা তারাপদ সরকার মাছ বিক্রি করে কোনমতে চালাতো সংসার। কিন্তু ১৪ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর জীবন চালানো দুস্কর হয়ে পড়ে। গ্রামের বাড়িতে স্বামীর রেখে যাওয়া একটি কুঁড়ে ঘরে লালটু ও দিপালী কে নিয়ে জীবন যুদ্ধ শুরু করে মা সুলতা সরকার। সংসার চালানোই যেখানে দু:সাধ্য সেখানে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া রীতিমত বিলাসি ভাবনা ছাড়া আর কিছুই না। তারপর হাল ছাড়েননি মা সুলতা। সেলাই মেশিন চালিয়েই সন্তানের লেখাপড়া চালিয়ে যান তিনি। 

ছেলেও মায়ের এই পরিশ্রমের মূল্য দিয়ে মনোযোগ দিয়ে চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা। এত অভাবের মধ্যেও ২০১৩ সালে øাতক ও ২০১৪ সালে øাতোকত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর শুরু করেন চাকরির জন্য পরীক্ষা দেয়া। কিন্তু তেমন সুবিধা করে উঠতে পারেননি। তারপরও হাল ছাড়েননি, কারণ লক্ষ্য ছিল বিসিএস। গভীর মনোযোগ, পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছা শক্তিতে সেটি জয় করে ফেললেন তিনি। ৩৮তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে সারাদেশের মধ্যে তার সাবজেক্টে তৃতীয় হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ৩৮তম বিসিএসের ফলাফল পেয়ে পুরোনো দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মা-ছেলে।

লালটু সরকার বলেন, ‘মাস্টার্স শেষ করার পর বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা দিয়েছি। বার বার ব্যর্থ হয়েছি। তবে আমি স্বপ্ন দেখতাম বিসিএস ক্যাডার হব। ২০১৭ সালে ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলো। পরীক্ষা দিয়েই বুঝেছিলাম আমার নাম আসবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলাম। এরপর দৈনিক ১৮-১৯ ঘণ্টা পড়ালেখা করতাম। অবশেষে শিক্ষা ক্যাডারে সারা দেশে তৃতীয় হয়েছি। আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’ 

তিনি বলেন, ‘পরিশ্রম করলে সব সম্ভব। আমি চেষ্টা করেই আজ সফল হয়েছি। স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আমি খুব খুশি। এখন সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে চাই। সেজন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’ 

আর মা সুলতা সরকার বলেন, ‘খুব বেশি খরচ ছেলেকে কোনোদিন দিতে পারিনি। তবে চেষ্টা করেছি সাধ্যমতো। ছেলে বিসিএস ক্যাডার হয়েছে। এটি কি জিনিস আমি বুঝি না। তবে ছেলে বলেছে ভালো চাকরি পেয়েছে। আমাদের আর অভাব থাকবে না। খুব খুশি হয়েছি।’ 

লালটু সরকারের এমন সাফল্যে খুশি এলাকবাসীও। তারা মনে করেন, লালটু থেকে প্রতিটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা নেয়া উচিত, কিভাবে শত প্রতিকূলতার মাঝেও লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। 

এই বিভাগের আরো খবর

রংপুরে নৈশ প্রহরীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

রংপুর সংবাদদাতা: রংপুরের মিঠাপুকুরে...

বিস্তারিত
আজও ব্যাহত ফেরি চলাচল

ডেস্ক প্রতিবেদন: পদ্মায় তীব্র স্রোত ও...

বিস্তারিত
ফরিদপুরে মিশ্র ফল বাগানে সাফল্য

ফরিদপুর সংবাদদাতা: নিরাপদ ও বিষ মুক্ত...

বিস্তারিত
ময়মনসিংহে নষ্ট হচ্ছে অর্ধশত বিআরটিসি বাস

ময়মনসিংহ সংবাদদাতা: করোনা সংক্রমণ...

বিস্তারিত
ময়মনসিংহে সড়কে প্রাণ গেলাে ৭ জনের

নিজস্ব সংবাদদাতা: ময়মনসিংহের...

বিস্তারিত
চসিকে দুর্নীতির কোন সুযোগ নেই: চসিক প্রশাসক

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা: দুর্নীতি বড় হোক...

বিস্তারিত
তীব্র স্রোত ও ভাঙ্গনে ব্যাহত ফেরি চলাচল

ডেস্ক প্রতিবেদন: মুন্সীগঞ্জে পদ্মার...

বিস্তারিত
লালমনিরহাট-বুড়িমারী সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা 

লালমনিরহাট: লালমনিরহাট-বুড়িমারী...

বিস্তারিত
চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬

চুয়াডাঙ্গার সংবাদদাতা: চুয়াডাঙ্গার...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *