ভ্যাকসিন আসলেও করোনাভাইরাস সম্পূর্ণ নির্মূল হবে না!

প্রকাশিত: ১২:২২, ১৫ জুলাই ২০২০

আপডেট: ১২:২২, ১৫ জুলাই ২০২০

আফিয়া জ্যোতি: করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলেই সবকিছু আগের মতো স্বাভাবিক হবে বলে আশা বিশ্ববাসীর। আবার অনেকের ধারণা করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার পর তার শরীরে যে অ্যান্টিবডি বা প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী হয় তা পরবর্তীতে তাদের সুরক্ষা দেবে। কিন্তু এই প্রতিরোধ ক্ষমতা কি তাদের শরীরে থেকেই যাবে, তারা কি আর করোনায় আক্রান্ত হবে না নাকি ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলেই করোনাভাইরাস সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হবে এ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। 

লন্ডনের কিংস কলেজের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে বেশ কিছু তথ্য। ওই গবেষণা বলছে, মানুষের একাধিকবার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আক্রান্তরা কয়েক মাস পর আবার আক্রান্ত হতে পারেন। প্রতি বছরও আক্রান্ত হতে পারে একই ব্যক্তি। 

ভারতে প্রতি ২৪টি নমুনায় একটি কোভিড ...

কোনও মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার শরীরে এই রোগ প্রতিরোধের যে ক্ষমতা তৈরি হয়, সেটি খুব বেশিদিন টিকে থাকে না। গবেষকরা বলছেন, শরীরে অ্যান্টিবডির এই ক্ষণস্থায়ী অবস্থানের কারণে ভ্যাকসিন দিয়েও করোনাভাইরাস সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সম্ভব নাও হতে পারে।

কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন এমন ৯০ জনের বেশি মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতা কিভাবে সাড়া দিচ্ছে তা পরীক্ষা করা হয়েছে ওই গবেষণায়। এতে দেখা যায়, রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার তিন সপ্তাহ পর শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সবচেয়ে বেশি কার্যকর থাকে। যা করোনাভাইরাস ঠেকাতে পারে। তবে দ্রুত তা কমে যেতেও শুরু করে। অন্যান্য ভাইরাসের ক্ষেত্রেও বিজ্ঞানীরা এরকম স্বলমেয়াদী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দেখেছেন।

Blog - Primary Care Astor

উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকার সময় ৬০ শতাংশ মানুষের দেহে শক্তিশালী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। তবে সুস্থ হওয়ার তিন মাস পর সেই অ্যান্টিবডি থাকে মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষের দেহে। বেশিরভাগের ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে  অ্যান্টিবডির মাত্রা ২৩ গুণ পর্যন্ত কমে যায়। এমনকি তিন মাস পর কয়েক জনের রক্তে অ্যান্টিবডি শনাক্ত পর্যন্ত করা যায়নি।

home – এখন সময়

গবেষক দলের প্রধান ড. কেটি ডোরস বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তি করোনার বিরুদ্ধে কতটা লড়াই করতে পেরেছিলেন তার উপরও অ্যান্টিবডি কতদিন শরীরে স্থায়ী হবে তা নির্ভর করে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নানাভাবে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে। তবে  ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশির মাধ্যমে মানুষ একাধিকবার ভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে ভ্যাকসিনও হয়তো বেশিদিন সুরক্ষা দিতে পারবে না। 

ওই গবেষণা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, অনেকের শরীরের অ্যান্টিবডি না থাকলেও শরীরে টি-সেলের উপস্থিতি রয়েছে। এই টি-সেল করোনায় আক্রান্ত কোষকে শনাক্ত ও ধ্বংস করে।

সুখবর, করোনা ভ্যাকসিনের পরীক্ষা সফল ...

অ্যান্টিবডি যদি বেশিদিন শরীরে স্থায়ী না হয় এবং হ্রাস পেতে থাকে তবে ভ্যাকসিন নিলেও কোন সুফল আসবে না। আবার করোনার ভ্যাকসিন আসার পরও মানুষ নিশ্চিত সুরক্ষা পাবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে গবেষকদের। 

তাই গবেষকরা বলছেন, মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিরা দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার ভাইরাসের সংস্পর্শে আসলে আরো কি হতে পারে এবং ভ্যাকসিন আসলেও করোনা পুরোপুরি নির্মূল হবে কিনা তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা প্রয়োজন বলে জানায় গবেষকরা।  

এই বিভাগের আরো খবর

ভারতে একদিনে করোনায় আক্রান্ত ৫৩ হাজার 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গেলো একদিনে...

বিস্তারিত
ভারতে একদিনে ৬৫ হাজার শনাক্ত

অনলাইন ডেস্ক:  সময়ের সাথে পাল্লা...

বিস্তারিত
রাশিয়ায় বুধবার করোনার প্রথম টিকার নিবন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সব ঠিকঠাক চললে...

বিস্তারিত
করোনায় বিশ্বে মৃত্যু ৭ লাখ ২৪ হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: করোনাভাইরাসে...

বিস্তারিত
ভারতে ২১ দিনে করোনা শনাক্ত ১০ লক্ষাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: করোনাভাইরাস...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *