করোনায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী কমেছে 

প্রকাশিত: ০৫:৪৮, ১৮ জুলাই ২০২০

আপডেট: ১১:০৪, ১৮ জুলাই ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনার প্রভাবে দেশের পুঁজিবাজার থেকে গত ছয় মাসে হারিয়ে গেছে প্রায় সাড়ে ২৪ হাজার বিনিয়োগকারী। আর মূলধন কমেছে মোট প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। 

‘করোনার প্রভাব পুঁজিবাজারে’ শীর্ষক এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এই তথ্য তুলে ধরেছে চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জ-সিএই। সাধারণ ছুটিতে ৬৬ দিন ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ বন্ধ থাকার প্রভাব নিয়ে এই ভার্চুয়াল আলোচনার আয়োজন করে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ। 

অনুষ্ঠানে একটি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে সিএসই। এতে বলা হয়, করোনা এবং করোনার আগে বাজারে আস্থাহীনতার কারণে গত ছয় মাসে সাড়ে ২৪ হাজার বিনিয়োগকারী হারিয়েছে পুজিঁবাজার। একই সময়ে মূলধন হারিয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, জয়েন্ট স্টক একচেঞ্জে ১ লাখ ৫৫ হাজার কোম্পানি তালিকাভূক্ত থাকলেও পুঁজিবাজারে এই সংখ্যা মাত্র ৩শ ২৫টি। বহু বিদেশী কোম্পানি দেশে ব্যবসা করলেও পুঁজিবাজারে আছে মাত্র ৮ থেকে ১০টি। এমনকি সরকারি ভাল কোম্পানিগুলোও শেয়ার বাজারে আসছে না।

ভাল মানের কোম্পানিগুলোর অমূল্যায়ন এবং খারাপ ও নিম্নমানের কোম্পানিকে অতিমূল্যায়িত করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি কয়েছে বলে জানান মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নিহাদ কবীর।

ব্র্যাক ব্যাংকের সিইও সেলিম হুসেন ও গবেষক মাসরুর রিয়াজ বলেন, এক দশকে বেশ কিছু কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকভূক্ত হয়েছে। তবে কিছুদিন পরেই এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম ফেস ভ্যালুর নিচে নেমে গেছে। ভাল মানের কোম্পানীর শেয়ারের দাম না বেড়ে নিম্নমানের কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বাজারে ৮০ ভাগই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী উলে­খ করে তারা আরো বলেন, বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হাতে গোনা। এমনকি বিনিয়োগের জন্য নতুন পণ্যও নেই। 

পুঁজিবাজারকে নিস্ক্রিয় রাখায় দেশের আর্থিক বাজার ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে বলে জানান ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান। তিনি বলেন, অর্থের উৎস হিসেবে অতিমাত্রায় ব্যাংক নির্ভরতা, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও ঋণ খেলাপীর সুযোগ করে দিয়েছে। সুশাসনের অভাবে এক দশক ধরে পুঁজিবাজার আস্থাহীনতায় পড়েছে বলেও জানান তিনি।
 
এক দশকে পুঁজিবাজার ঘুরে না দাঁড়াতে পারায় বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়েছেন উলে­খ করে আবুল কাসেম খান বলেন, এই পরিস্থিতি উত্তোরণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা - বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান ও পর্ষদের প্রতি এখন সব বিনিয়োগকারীদেরই বড় প্রত্যাশা। 

আলোচনার প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন- বিএসইসি’র নতুন চেয়ারম্যান শিবলী রুবায়েত উল ইসলাম বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে অনেক কোম্পানি আইপিওতে এসেছে। ব্যাংকের কাগজও জালিয়াতি করেছে এসব প্রতিষ্ঠান। পুঁজিবাজারে জাতিয়াতি করে কেউ পার পাবে না, একে একে সবাইকে ধরা হচ্ছে। 

এসময় শিবলী রুবায়েত বলেন, নতুন নতুন বন্ড এবং দেশি-বিদেশি কোম্পানি তালিকাভূক্তির পথে রয়েছে। এগুলো আসলে বাজারে অর্থের সংকট কাটার পাশাপাশি আস্থা ফিরবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বিএসইসি’র নতুন চেয়ারম্যান।
 

এই বিভাগের আরো খবর

পেঁয়াজ আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রীর...

বিস্তারিত
সীমান্তে আটকে থাকা ভারতীয় পেঁয়াজ ঢুকছে

অনলাইন ডেস্ক: অবশেষে স্থলবন্দগুলোতে...

বিস্তারিত
আবারো বাড়লো স্বর্ণের দাম

অনলাইন ডেস্ক: আবারও দাম বেড়েছে...

বিস্তারিত
খুচরা বাজারেও কমেছে পেঁয়াজের দাম

নাঈম আল জিকো: কয়েকদিনের অস্থিরতার পর...

বিস্তারিত
পেঁয়াজের দাম কমলেও নেই ক্রেতাদের হিড়িক

ফারহানা জুঁথী: পেঁয়াজের দাম কিছুটা...

বিস্তারিত
রাতারাতি পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: একদিনেই পেঁয়াজের...

বিস্তারিত
আবারো পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলো ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবারো পেঁয়াজ...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *