ঈদের জামাতে করোনা মুক্তির প্রার্থনা

প্রকাশিত: ০৮:৩৩, ০১ আগস্ট ২০২০

আপডেট: ১১:৪০, ০১ আগস্ট ২০২০

ইমদাদুল্লাহ বাবু: করোনা মহামারিতে ভিন্ন আবহে এবার উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আযহা। সংক্রমণ রোধে ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত হয়নি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসলি­রা। জাতীয় ঈদগাহের পরিবর্তে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। নামাজ শেষে করোনাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্তি চেয়ে, বিশেষ মোনাজাত করা হয়। 

ঈদ মানে আনন্দ। কিন্তু এবার ঈদুল আযহা এসেছে করোনা মহামারীর সময়। তবুও স্বাস্থ্যবিধি মেনে আনন্দের দিনটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা শুরু করেন ঈদের নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে। এবার ঈদগাহ ময়দানের পরিবর্তে ঈদের নামাজের জন্য সবার গন্তব্য মসজিদের দিকে। 

রাজধানীতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে হয় ঈদের প্রধান জামাত। নিরপত্তা ফটক ও জীবানু নাশক টানেলের মধ্য দিয়ে সবাইকে প্রবেশ করতে হয় মসজিদে। 

বাইতুল মোকাররমে প্রথম জামাত হয় সকাল সাতটায়। সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান এতে ইমামতি করেন। 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ অসংখ্য মুসলি­ নামাজে অংশ নেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে জামাতের সারি পৌঁছে যায় জাতীয় মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ দুই প্রান্তে। করোনার কারণে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, রাজনীতিক, কূটনীতিক এবং বিশিষ্টজনেরা জামাতে অংশ নেননি। 

নামাজ শেষে করোনা ও বন্যার দুর্যোগ থেকে মহান আল্লাহর কাছে মুক্তি চেয়ে করা হয় বিশেষ মোনাজাত। 

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের ছয়টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। 

এছাড়া, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে এবারও সারাদেশে উন্মুক্তস্থানের পরিবর্তে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদুল আজহার জামাত। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজে অংশগ্রহণ করেন মুসলি­রা। পরে, দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া করা হয়। পাশাপাশি করোনা মহামারি ও বন্যায় দুর্গতদের রক্ষায় বিশেষ মোনাজাত করেন ধর্মপ্রাণ মুসলি­রা। ত্যাগের মহিমায় দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু পর এনিয়ে দ্বিতীয়বার উন্মুক্তস্থানের পরিবর্তে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসলি­রা। 

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করেই ঈদুল ফিতরের জামাত হয়েছে। নগরীর দামপাড়া জমিয়াতুল ফালাহ্ মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে করোনা থেকে মুক্তির জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেন মুসল­ীরা। 

সরকারী নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে রংপুরের প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মসজিদে ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে, এবারো দেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ ময়দানে কোন ঈদের জামাত হয়নি।

রাজশাহীর প্রতিটি মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ হয়েছে। মাস্ক পড়ে ও নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখেই জামাতে নামাজ আদায় করেন মুসলি­রা। নামাজ শেষে কোলাকুলি বা হাত মেলানো চিরায়ত রীতি থেকে দূরে থাকেন তারা। 

ময়নমনসিংহের প্রায় ১১ হাজার মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে সবাইকে কোরবানীর আত্মত্যাগের মূল শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ায়র আহ্বান জানানো হয়। 

সিলেটে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে। প্রধান জামাতে অংশগ্রহণ করেন সব শ্রেণি পেশার মুসলি­রা। 

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে খুলানায়ও নামাজ হয়েছে মসজিদে। প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় টাউন হল জামে মসজিদে।

বরিশালের সাড়ে সাতশ’ মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদের জামাত। প্রতিটি মসজিদেই নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া করা হয়।

এদিকে, সংক্রমণ প্রতিরোধে এবারো ঈদ জামাত হয়নি কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। 
 

এই বিভাগের আরো খবর

ধর্মীয় সহনশীলতা নষ্ট করতে দেয়া হবে না: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোনভাবেই ধর্মীয়...

বিস্তারিত
​​​​​​​সরাসরি করোনার টিকা ক্রয়ের অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রীয় জরুরি...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *