বনানী কবরস্থানে চিরনিন্দ্রায় শায়িত মুর্তজা বশীর

প্রকাশিত: ১০:২৭, ১৫ আগস্ট ২০২০

আপডেট: ০৮:৪৬, ১৫ আগস্ট ২০২০

বিউটি সমাদ্দার: চলে গেলেন বরেণ্য চিত্র শিল্পী মুর্তজা বশীর। করোনা আক্রান্ত হয়ে শনিবার সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে অষ্টাশি বছর বয়সে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। পরে বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় বরেণ্য এই চিত্র শিল্পীকে

দেশের শিল্পকলার পরিসরে মুর্তজা বশীর ছিলেন অপরিহার্য্য ও অন্যতম এক নাম। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তুরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ছিলেন অগ্রভাগে। চিত্রকলার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পেয়েছে একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার। গুনী এই শিল্পীর মুত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

অনেক মৃত্যুর মিছিলে যোগ হলো বরেণ্য চিত্র শিল্পী মুর্তজা বশীরের নাম। করোনায় সংক্রমিত হয়ে তিনি চলে গেলেন অনন্ত যাত্রায়। আর একদিন পরেই ১৭ আগষ্ট অষ্টাশিতম জন্মদিন ছিলো মুর্তজা বশীরের। অষ্টাশিতম জন্মদিনের দুদিন আগেই চির বিদায় নিলেন তিনি। 

মুর্তজা বশীর বেশ কিছু দিন ধরেই হৃদরোগ, ফুসফুস ও কিডনী জটিলতায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে পরীক্ষায় ধরা পড়ে তার শরীরে বাসা বেঁধেছে করোনাও। শনিবার সকালে সব বাঁধা ছিন্ন করে পরপারে পাড়ি জমান চিত্রজগতের অন্যন্য এই ধ্র“বতারা।

বাবা প্রখ্যাত ভাষাবিদ ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল­াহর পরামর্শেই ছোট বেলা থেকেই নিজেকে বিখ্যাত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় ব্রতী হয়েছিলেন তিনি। কর্মগুনে পেতে চেয়েছিলেন অমরত্ব। তার সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে কি না তা হয়তো শিল্প সাহিত্যের মানুষেরা বিশ্লেষন করবেন। তবে হাজারো সৃজনশীলতার মাঝে তিনি যে অমর হয়ে থাকবেন বহুকাল তা নি:সন্দেহে বলা যায়। তার সৃষ্টি দেয়াল, শহীদ শিরোনাম, পাখা, রক্তাক্ত ২১শে, শিরোনামের চিত্রকর্মগুলো শিল্পজগতে অন্যরকম অবস্থান নিয়ে জ্বলজ্বলে হয়ে থাকবে।

বির্মূত ধারার চিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ মুর্তজা বশীরের সৃষ্টিশীলতা শুধু চিত্রকলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, তিনি ছিলেন একাধারে ভাষাসংগ্রামী, লেখক, গবেষক, ঔপন্যাসিক। ৫২ ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন মুর্তজা বশীর। ২২ ফেব্র“য়ারি কলা ভবনে খালো পতাকা উত্তোলনেও তিনি অংশ নেন। মুত্তিযুদ্ধ এবং স্বাদীনতা পরবর্তী নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলেনও তিনি ছিলেন অগ্রভাগের সৈনিক।

অসামান্য কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক। গুনী এই শিল্পী ১৯৩২ সালের ১৭ আগষ্ট ঢাকায় জন্মগ্রহন করেন। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি এঁকেছেন সংগ্রামী সব চিত্রকর্ম। 
 

এই বিভাগের আরো খবর

পেঁয়াজ আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রীর...

বিস্তারিত
এবার অনলাইনে মিলবে টিসিবির পেঁয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: এখন থেকে অনলাইনে...

বিস্তারিত
সিঙ্গাপুরেই ফিরে গেলেন ড. বিজন শীল

নিজস্ব সংবাদদাতা: বাংলাদেশ ছেড়ে...

বিস্তারিত
আবার ওয়াসার এমডি হতে যাচ্ছেন তাকসিম!

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবারও ঢাকা ওয়াসার...

বিস্তারিত
‘ভবন নির্মাণ আইন আছে, প্রয়োগ নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৃহত্তর ঢাকার...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *