ক্যান্সার রোধে গোলমরিচ

প্রকাশিত: ০১:২২, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

আপডেট: ০১:২২, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

অনলাইন ডেস্ক: আমরা সাধারণত গোলমরিচ রান্নার করার কাজেই ব্যবহার করে থাকি। গোলমরিচকে মশলার রাজা বলা হয়ে থাকে। রান্নার স্বাদ এবং ঘ্রাণ বৃদ্ধিতে গোলমরিচ প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আমরা মনে করি গোলমরিচ ছাড়া কোন রান্নার স্বাদ পূরণ হয় না। কিন্তু গোলমরিচের গুণাগুণ সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানিনা।

গোলমরিচ মূলত গাছের একটি ফল। গোলমরিচের মত গুণাগুণ অন্য কোন মশলায় নেই। এটি মূলত দক্ষিণ ভারতের মূল মশলা। একে পিপারাসি গোত্রের পিপার গণের একটি লতাজাতীয় উদ্ভিদ বলা হয়ে থাকে। এর ফলকে শুকিয়ে মসলা হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। গোল মরিচের ফলটি গোলাকার, ৫ মিলিমিটার ব্যাসের, এবং পাকা অবস্থায় গাঢ় লাল বর্ণের হয়ে থাকে।

গোলমরিচের ভেতরে একটি মাত্র বিচি থাকে। বিভিন্ন ধরণের গুণের অধিকারী এ ফলটি  রান্নার পাশাপাশি প্রাচীনকাল থেকেই আরো অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে আসছে।

গোল মরিচের বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান ও উপকারীতা-

ক্যান্সারের অন্যতম ওষুধ
ক্যান্সারের ওষুধ তৈরীর অন্যতম উপাদান পিপারিন। গোলমরিচের মধ্যে যে পিপারিন নামক উপাদানটি থাকে সেটি ক্যান্সারের অন্যতম ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এতে আছে ভিটামিন-এ ও ভিটামিন সি এবং প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যেটি ক্ষতিকারক ফ্রি রেডিকেলসের হাত থেকে এবং আমাদের শরীরকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার হাত থেকে বাঁচায়।

সর্দি কমাতে সহায়তা করে
মধুর সাথে এক চামচ গোলমরিচ গুড়া মিশিয়ে খেলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সর্দি কাশিতে গোলমরিচ দারুন ভাবে কাজ করে থাকে। এটি বুকে জমা সর্দি তুলতেও সাহায্য করে। গরম পানিতে গোলমরিচ আর একটু ইউক্যালিপটাস অয়েল মিশিয়ে, সেই স্টিমটা নিলে ঠান্ডা-কাশিতে বন্ধ হওয়া নাক ছেড়ে দেয়।

হালকা সর্দি কাশি ছাড়াও যদি জ্বর আসে তাতেও গোলমরিচ কাজে দেবে। এতে আছে প্রচুর ভিটামিন-সি, যা অ্যান্টিবায়োটিকের মত কাজ করে। জ্বরের সময় গোলমরিচ খেলে অত্যন্ত ঘাম হয় এবং জ্বর ছেড়ে যায়। গলা ব্যাথা কমাতে এটি সাহায্য করে। তাই ঠাণ্ডা লাগলে অবশ্যই গোলমরিচ খাওয়া উচিত।

হজমে সাহায্য করে
পিপারিন নামক উপাদান থাকার কারণে এটি ঝাঁঝালো স্বাদের হয়। এটি হজমে দারুন ভাবে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড হজমে সাহায্য করে। আর সঠিক ভাবে খাবার হজমে হলে ডায়রিয়ার মত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

পেশীর ব্যথা কমায়
গোল মরিচের তেলের ব্যবহারে পেশীর ব্যথা কমে । এটি আপনার পেশীর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে সাথে সাথে মাংশ পেশী শক্ত করতে সাহায্য করে থাকে। দুই টেবিল চামচ গোল মরিচের তেলের সাথে চার চা চামচ রোজমেরী তেল বা আদার রস মিশিয়ে নিতে পারেন। মাংশ-পেশীর যেখানে ব্যাথা সেখানে এই তেল ব্যবহার করুন। ব্যাথা কমে যাবে।

ক্যালরি কমায়
টক্সিন শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক।কেউ যদি তাঁর ডায়েট চার্টে রোজ এটি রাখেন, তাহলে শরীর থেকে এই টক্সিন ঘামের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে যায়। ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকলেও গোলমরিচ কাজে দেয়। ওজনও কিছুটা কমে। গোলমরিচ ফ্যাট সেলগুলিকে ভেঙ্গে দেয় এবং ক্যালোরি কমায় ও এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে।

ক্ষুধামন্দা দূর করে
এটি খেলে পাকস্থলী থেকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসৃত হয় যা খাবার দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে সেই সাথে আমাদের অরুচি ভাব দূর করে এবং ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয়।
 

এই বিভাগের আরো খবর

চোখের ছানি প্রতিরোধের উপায়

অনলাইন ডেস্ক: আমাদের দেহের...

বিস্তারিত
বিষন্নতা দূর করে রসুন

অনলাইন ডেস্ক: রান্নায় মসলা হিসেবে...

বিস্তারিত
আয়রনের ঘাটতি মেটাবে কুমড়ার বীজ

অনলাইন ডেস্ক: আয়রন দেহের জন্য খুবই...

বিস্তারিত
আমাশয়ের চিকিৎসায় ‘বহেড়া’

অনলাইন ডেস্ক: বহেড়া একটি ওষধি ফল।...

বিস্তারিত
সর্দি-কাশির চিকিৎসায় ‘জোয়ানের কাড়া’

নিজস্ব প্রতিবেদক: এখন বিশ্বময় করোনার...

বিস্তারিত
বন্ধ্যাত্বের সমস্যা দূর করতে ‘আখরোট’

অনলাইন ডেস্ক: আখরোট এক ধরনের বাদাম।...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *