ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬

2019-04-22

, ১৬ শাবান ১৪৪০

সেনাবাহিনীতে পদোন্নতি হবে মেধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে: হাসিনা

প্রকাশিত: ১০:৫০ , ১০ জুলাই ২০১৭ আপডেট: ১০:৫০ , ১০ জুলাই ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেনাবাহিনীতে পদোন্নতির মাপকাঠি হবে মেধা, যোগ্যতা, শৃঙ্খলা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি আনুগত্যের ভিত্তিতে। তিনি আজ রোববার ঢাকা সেনানিবাসে সেনা সদরদপ্তরে সেনাবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০১৭’র বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন।

সকালে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহাম্মদ সফিউল হক। সভায় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক, মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসেরসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ সভায় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার পদবির কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়। সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী এ পর্ষদের মাধ্যমে সেনাবিহানীর ভবিষৎ জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়ে থাকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাঠ পর্যায়ে সাফল্য এবং প্রশিক্ষণে দক্ষতাই সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব ভবিষ্যতে জাতির উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা চিন্তা করে এবং গণতন্ত্রকে সুসংহতকরণে দক্ষ এমন দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের হাতে থাকা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমি আশা প্রকাশ করি যে, জাতির উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ আরো উত্তোরত্তর বৃদ্ধি পাবে।... দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অগ্রযাত্রায় তাদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। কাজেই এ কথা মাথায় রেখেই ভবিষ্যতে দক্ষ এবং দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের কাছেই নেতৃত্বের দায়িত্ব অর্পণ করা উচিত।"

প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে থাকা শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদেও নেতৃত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে চারটি বিশেষ গুণ থাকতে হবে। এগুলো হচ্ছেে-- একজন কমান্ডার, কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষক হওয়ার জন্য প্রথমত সেনা কর্মকর্তাদের দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস থাকতে হবে। দ্বিত্বীয়ত, তাদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। দেশ ও সমাজের সেবার মানসিকতা এবং উন্নত নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। তৃতীয়ত, তাদের মাঠ পর্যায়ের সাফল্যও থাকতে হবে। এবং চতুর্থত, তাদের অবশ্যই নেতৃত্বের যোগ্যতা, পেশাগত এক্সিলেন্স, নিয়মানুবর্তিতা, সততা এবং নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি গণতন্ত্রিক দেশে সেনবাহিনীর খুব গুরত্বিপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুষম করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীর ভূমিকা পালন করতে পারে। কাজেই সেনাবাহিনীতে তাদের কাছেই নেতৃত্বের দায়িত্ব অর্পণ করা উচিত-যারা সুশিক্ষায় শিক্ষিত, প্রতিযোগিতায় দক্ষ, মেধাবী এবং সর্বোপরি গণতন্ত্রের প্রতি পুরোপুরি শ্রদ্ধাশীল।

তিনি এ সময় কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য সিলেকশন বোর্ডকেও যোগ্যতার এই মাপকাঠি বিবেচনায় আনার আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রী পদোন্নতির জন্য সেনা কর্মকর্তা নির্বাচনে ট্রেস (টিআরএসিই- টেবুলেটেড রেকর্ড এন্ড কম্পারেটিভ ইভালুয়েশন) পদ্ধতির অন্তর্ভুক্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সিলেকশন বোর্ডের সদস্যদের প্রতি তাঁর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস থাকার উল্লেখ করে বলেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন-সিলেকশন বোর্ডের সদস্যরা সকল ব্যক্তিগত পছন্দ, অপছন্দের উর্ধ্বে উঠে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আস্থাশীল, দক্ষ এবং দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদেরই পদোন্নতির জন্য নির্বাচন করবেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনা প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহম্মদ শফিউল হক, মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, প্রতিরক্ষা সচিব আখতার হোসেন ভূইয়া এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ইচ্ছেমতো দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শবে বরাতকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের দাম। মাছ ও মাংসের মূল্যের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে...

রাজধানীর মালিবাগ কাঁচাবাজারে আগুন, পুড়লো আড়াই’শ দোকান

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মালিবাগ কাঁচাবাজারে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে আড়াইশতাধিক দোকান। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে এই আগুন লাগে।...

পিআইবি’র মহাপরিচালক হলেন সাংবাদিক-লেখক জাফর ওয়াজেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশিষ্ট সাংবাদিক-লেখক জাফর ওয়াজেদকে প্রেস ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ পিআইবি’র মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। অন্যান্য...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is