বগুড়ায় শতকোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় সস্ত্রীক আওয়ামী লীগ নেতা জেলে

প্রকাশিত: ০২:১৭, ২৫ অক্টোবর ২০২০

আপডেট: ০৭:২৭, ২৫ অক্টোবর ২০২০

নিজস্ব সংবাদদাতা:  শাশুড়ির শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানা এবং তার স্ত্রী আকিলা শরীফা সুলতানাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত। আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রবিউল আওয়ালের আদালত এ আদেশ দেন।

আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন রানা এবং তার স্ত্রী আকিলা শরীফা সুলতানা জামিনের আবেদন করলে জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর আনোয়ার হোসেন রানা তার স্ত্রীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে শাশুড়ি দেলওয়ারা বেগম।

মামলার  বাদী ভুক্তভোগী দেলওয়ারা বেগম বগুড়া সদরের কাটনারপাড়া এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মৃত শেখ সরিফ উদ্দিনের স্ত্রী। গত ৫ বছর ধরে দেখা শোনার অজুহাতে তার কাছেই ছিলেন মেয়ে-জামাই। সেবা-শুশ্রুষার অজুহাতে কখনো শাশুড়িকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে আবার কখনো জিম্মি করেন রানা।

ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, স্বামীর মৃত্যুর পর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিফ বিড়ি ফ্যাক্টরী পরিচালনা করছিলেন তিনি। এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে ছিলেন তার পাঁচ মেয়ে আকিলা সরিফা সুলতানা, মাহবুবা সরিফা সুলতানা, নাদিরা সরিফা সুলতানা, কানিজ ফাতিমা ও তৌহিদা সরিফা সুলতানা।

অংশীদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা শহরের শাকপালা ও চারমাথা এলাকায় সরিফ সিএনজি লিমিটেড নামের দুটি ফিলিং স্টেশন এবং নবাববাড়ি রোডে দেলওয়ারা-শেখ সরিফ উদ্দিন সুপার মার্কেট পরিচালনা করে আসছিলেন।

দেলওয়ারা বেগম আরো অভিযোগ করেন, শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত কারণে জামাই আনোয়ার হোসেন রানা ও মেয়ে আকিলা সরিফা সুলতানাকে ব্যবসা দেখাশোনার মৌখিক অনুমতি দেন।

কিন্তু এক পর্যায়ে তাকে অস্ত্রের মুখে জম্মি করে ফাঁকা স্ট্যাম্প, ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক চেক ও এফডিআরসহ বিভিন্ন নথিপত্রে তার সই নেন জামাই। এরপর তার নিজের নামের ব্যাংক একাউন্ট থেকে নগদ টাকাসহ এফডিআর ভাঙিয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকারও বেশি তুলে নেন।

২০১৫ সালের ১ জুন থেকে এই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অর্থ তুলে আত্মসাৎ করেছেন মেয়ে-জামাই। এরই বাইরে একই সময়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও তার নামের ব্যাংক হিসাব থেকে আরো ৫০ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।

আর তাদের এই কাজে সহায়তা করেছেন সরিফ বিড়ি ফ্যাক্টরীর ব্যবস্থাপক কাম ক্যাশিয়ার নজরুল ইসলাম, ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক হাফিজার রহমান  এবং সুপার মার্কেটের ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলাম।

দেলওয়ারা বেগম জানান, জামাই আনোয়ার হোসেন রানা পিস্তল উঁচিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। এরই মাঝে গত ২১ সেপ্টেম্বর বাসার আলমারি-সিন্দুক থেকে নগদ অর্থ, ব্যাংকের চেক, এফডিআর এবং ব্যবসায়ীক সকল নথিপত্র নিয়ে চলে যায়।

এর আগে গত ২৪ শে সেপ্টেম্বর আনোয়ার হোসেন রানার বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল মরহুম সরিফ উদ্দিনের চার মেয়ে মাহবুবা সরিফা সুলতানা, নাদিরা সরিফা সুলতানা, কানিজ ফাতিমা ও তৌহিদা সরিফা সুলতানা। তাদের অভিযোগ ছিল অসুস্থ বিধবা মা দেলওয়ারা বেগমকে জিম্মি করে ভুল বুঝিয়ে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন আনোয়ার হোসেন রানা।

এই বিভাগের আরো খবর

১৭ ভারতীয় জেলেকে কারাগারে প্রেরণ

মোংলা সংবাদদাতা: বঙ্গোপসাগরের...

বিস্তারিত
খুলনায় গৌতম হত্যায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

খুলনা সংবাদদাতা: খুলনায় গৌতম হত্যা...

বিস্তারিত
বিএনপির ৬৫ নেতার জামিন আপিলে বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীতে বাসে...

বিস্তারিত
পিকে হালদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশে পালিয়ে থাকা...

বিস্তারিত
বাউল শিল্পী রিতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিজিটাল নিরাপত্তা...

বিস্তারিত
পিকে হালদার ইস্যুতে হাইকোর্টের অসন্তোষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশে পালিয়ে থাকা...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *