বছরে কতজন পর্যটক আসছেন, কর্তৃপক্ষের জানা নেই আপডেট: ০৯:৫৫, ১৪ জুলাই ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যক্তিগত, দাপ্তরিক, ব্যবসায়িক প্রয়োজনসহ নানা কাজে গত ছয় বছরে বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন ৩১ লাখেরও বেশি বিদেশি পর্যটক। তবে এরমধ্যে কেবল পর্যটক হিসেবে কতজন বিদেশি বাংলাদেশে আসছেন তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, পর্যটনের বিকাশে এ তথ্য জরুরি। এর অভাবে নেওয়া যাচ্ছে না বাস্তবসম্মত ও পর্যটনবান্ধব কোনো পরিকল্পনা।

নানা চড়াই উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের পর্যটন খাত। একযুগেরও বেশি সময় ধরে সরকার পর্যটনের বিকাশে নানা পদক্ষেপ নিলেও দেশে আসা পর্যটকের কোনো হিসাব রাখা হয়নি। অথচ পর্যটনকেন্দ্রীক যে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রথম শর্তই হলো পর্যটকের তথ্য।

বেসরকারি ট্যুর অপারেটর মাসুদ হোসেন বলেন, ‘শুধু পর্যটকদের পরিসংখ্যান না, গত ৪৪/৪৫ বছরে আজ পর্যন্ত  পর্যটন নিয়ে কোনো গবেষণা হয়নি’।

বেসরকারি ট্যুর অপারেটর সৈয়দ গোলাম কাদের বলেন, ‘আমার যদি (মার্কেট স্টাডি) বাজার গবেষণা না থাকে, আমাদের যদি (ইনফরমেশন) তথ্য না থাকে, তাহলে আমি যে মার্কেটিং করবো, সেটা আমি কি যথার্থ গবেষণা করতে পারবো?।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক ড. সৈয়দ রাশিদুল হাসান বলেন, ‘পরিসংখ্যান না থাকলে তো আপনি পরিকল্পনা করতে পারবেন না। পরিকল্পনা ছাড়া আপনি কোনো কিছু অর্জন করতে পারবেন না।’

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে দেশে পর্যটক এসেছেন ৫ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৫। ২০১১ সালে এ সংখ্যা ছিল- ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৬৭৭। ২০১২ সালে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ১৯৩ ও ২০১৩ সালে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৯৬ জন। ২০১৪ সালে ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৫৩১ পর্যটক ও ২০১৫ সালে ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৯৪জন বিদেশি বাংলাদেশ ভ্রমণে এসেছেন।

তবে ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছ থেকে পাওয়া মন্ত্রণালয়ের এ হিসেব বাংলাদেশে আসা যে কোনো বিদেশির জন্য প্রযোজ্য। ব্যবসায়িক বা অন্য কোন প্রয়োজন ছাড়া যারা শুধু ঘুরতে আসেন, তাদের জন্য আলাদা কোনো তালিকা নেই বলে জানালেন পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

তিনি বলেন, ‘আমরা পর্যটকদের সংখ্যার হিসাবটা পাই ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে। সাধারণত যারা ব্যবসার কারণে আসেন, তাদের হিসেবটাই মূলত এখানে থাকে। এর বাইরেও অন্য পর্যটকরাও বিভিন্ন সম্মেলনে আসেন। তারাও ঘুরে বেড়ান। তাদের সংখ্যা জানার চেষ্টাও করা হয়।’
পর্যটনমন্ত্রী আরও জানান, ‘পর্যটন নিয়ে মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে এবং তার জন্য (বাস্তবায়নের জন্য) দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।’

 

 

Publisher : .