বরেণ্য অভিনেতা আলী যাকেরের প্রয়াণ

প্রকাশিত: ০৮:৪৮, ২৭ নভেম্বর ২০২০

আপডেট: ০২:২৬, ২৭ নভেম্বর ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেষ হলো নাট্যাঙ্গনের আরো একটি সমৃদ্ধ অধ্যায়। চলে গেলেন মঞ্চনাটকের শক্তিমান অভিনেতা অন্যতম নাট্য সংগঠক ও শব্দসংগ্রামী আলী যাকের। শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে।

প্রায় ৪  বছর ধরে মরণব্যাধি ক্যান্সারে ভুগছিলেন আলী যাকের। অসুস্থ হয়ে পড়ায় সম্প্রতি তাঁকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে পরীক্ষার পর তাঁর শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই শুক্রবার ভোরে মারা যান ৭৬ বছর বয়সী আলী যাকের। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশের অভিনয় অঙ্গনে আলী যাকের ছিলেন অনন্য এক নাম। সফল নাট্য নির্দেশকও ছিলেন তিনি। সংস্কৃতি জগৎ ছাপিয়ে তার মেধা স্পর্শ করেছিলো দেশের বিজ্ঞাপনী খাতকেও। শিল্পকলায় অবদানের জন্য একুশে পদকসহ অসংখ্য সম্মননায় আলোকিত ছিলো আলী যাকেরের নাট্যজীবন।

মঞ্চে যখন তিনি গ্যালিলিও বা নূরলদীনের বিদ্রোহী সংলাপ আওড়ে দাপিয়ে বেড়ান তখন ব্যাক্তি আলী যাকের যেন অবাক হয়ে দেখেন কি করে সম্ভব এই প্রতিস্থাপন। আর এখানেই অভিনয়ের সবচেয়ে বড় দক্ষতা ছিলো দাপুটে এই অভিনেতার, মঞ্চের চরিত্রে অসম্ভব দক্ষতায় মানিয়ে নিতেন নিজেকে আলী যাকের।

যদিও পরিবারে নাটকের ছিটেফোঁটাও ছিলো না আলী যাকেরের। ১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর জন্ম নেয়া আলী যাকের কিশোর বয়সেও কখনো ভাবেননি মঞ্চে এভাবে দাঁপিয়ে বেড়াবেন প্রিয় সংলাপ আওড়ে। নাট্যাঙ্গনেই গড়ে উঠবে তার আসল পরিচয়।  তবে তরুন বয়সে উৎপলদত্ত, অজিতেশ বন্দোপাধ্যায় বা সম্ভু মিত্রের অভিনয়ে মুগ্ধ হতেন তিনি। মনের কোনায় হয়তো কোথায়ও দানাও বাঁধতে শুরু করেছিলো অভিনয়ের ইচ্ছেও।

কিশোর বয়সে অল্পদিনের মধ্যেই বাবা মা আর দিদির মৃত’্যর মতো ঘাঁতগুলো তাকে সেই ইচ্ছের পিছনে  ছোটার সুযোগ দেয়নি। বরং জীবীকার পিছনেই হন্যে হয়ে ছুটতে হয়েছিলো আলী যাকেরকে। দেশ মাতৃকার টানও ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিলো তাকে। অন্ত্র হাতে ট্রেনিংও নিয়েছিলেন। চলচ্চিত্র পরিচালক ও সাংবাদিক আলমগীর কবিরের অনুরোধে আগ্নেয়ান্ত্র ছেড়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ইংরেজি সার্ভিসের শব্দসংগ্রামী হয়ে প্রচারযুদ্ধের অংশী হয়েছিলেন আলী যাকের।

যুদ্ধকালীন সময়ে কলকাতাতেই প্রিয় বন্ধু নাট্যজন মামুনুর রশীদের কাছে অভিনয়ের ইচ্ছের কথা জানিয়েছিলেন আলী যাকের। স্বাধীন বাংলাদেশে এসে সেই বন্ধুর অনুরোধেই আরণ্যকের দলের হয়ে ১৯৭২ সালের ২১ শে ফেব্র“য়ারি মুনীর চৌধুরীর কবর নাটকে প্রথম মঞ্চে অভিনয় শুরু। আরণ্যক দল দিয়ে শুরুটা হলেও পরে তিনি আতাউর রহমান এবং জিয়া হায়দারের অনুরোধেই নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে যোগ দেন অভিনয় করেন বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ নাটকে। ১৯৭৩ সালে বাদল সরকারের বাকি ইতিহাস নাটকে প্রথম নির্দেশনা দেন। যা ছিলো দেশের প্রথম দর্শনীর বিনিময়ের নাটক। 

তারপরে আর থামতে হয়নি আলী যাকেরকে। মঞ্চের পাশাপাশি টিভি নাটকেও সমন দক্ষতা দেখিয়েছেন এই অভিনেতা। আজ রবিবার, বহুব্রীহি, একদিন হঠাৎ, নীতু তোমাকে ভালোবাসি নাটকে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। অভিনয় করেছেন চলচ্চিত্রেও। ঘরও বেধেছে নাট্যজন সারা যাকেরে সাথে। ছেলে মেয়েও অভিনয় জগতেরই মানুষ। অভিনয়ের পাশাপাশি সমসাময়িক বিষয়ে কলাম লিখতেন আলী যাকের। দক্ষতা দেখিয়েছেন ফটোগ্রাফিতেও।

একই সাথে দেশীয় বিজ্ঞাপনশিল্পের একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব তিনি। বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটির কর্ণধার। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি এই গুনী পেয়েছে একুশে পদক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী পদকসহ অসংখ্য সম্মাননা।

এই বিভাগের আরো খবর

দুই অপহরণকারী আটক, ব্যবসায়ী উদ্ধার

নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজধানীর উত্তরা...

বিস্তারিত
কাউন্সিলর হত্যায় জড়িতদের ছাড় নয়: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিরাজগঞ্জে পৌরসভা...

বিস্তারিত
২৬শে মার্চ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফেব্রুয়ারির প্রথম...

বিস্তারিত
২৩ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে জনশুমারি শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ২৩ জানুয়ারি...

বিস্তারিত
‘সৌদিতে বাংলাদেশি প্রমাণ হলেই পাসপোর্ট নবায়ন’

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবে থাকা কোন...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *