ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ৯ কার্তিক ১৪২৪, ৩ সফর ১৪৩৯

কাঁসা-পিতল সামগ্রী রপ্তানি হয় না আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় 

প্রকাশিত: ০৪:২৭ , ২০ জুলাই ২০১৭ আপডেট: ০৪:২৭ , ২০ জুলাই ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে চাহিদা অনেক কমে গেলেও, কাঁসা ও পিতল শিল্পের সাথে উদ্যোক্তা কারিগররা বিশ্বাস করেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও পৃষ্ঠপোষকতা মিললে এ খাত আবারও সতেজ হয়ে উঠতে পারে। এমনকি কাঁসা-পিতলের সামগ্রী বিশেষ করে শিল্পকর্ম রপ্তানি করে এ খাতকে লাভজনক করে তোলা সম্ভব।

কাঁসা-পিতলের কারুকার্যপূর্ণ ভাস্কর্যের কদর বিশ্বজুড়েই। কারণ একটি ছাঁচ থেকে শুধুমাত্র একটিই ভাস্কর্য তৈরি সম্ভব। কোনো যন্ত্রে নয়, আন্তরিক হাতের ছোঁয়ায় কারিগররা সোনরঙে চকচকে করে তোলেন এসব শিল্পকর্ম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের ভাস্কর্যে বেশি আগ্রহ দেখা যায় বিদেশিদের, কিন্তু এগুলো এ দেশ থেকে নিয়ে যেতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকায় রফতানি বা বিক্রি কম।

এ শিল্পের কযেকজন কারিগর বলেন, “এসব জিনিস বিদেশে পাঠাতে গেলে কাস্টমসে আটকে দেয়। তারা পুরাতত্ত্ব বিভাগে তুলে ধরে। তাদের একটা কমিটি আছে, যেখানে মাসের পর মাস এটা নিয়ে বসে থেকে, পরে ক্লিয়ারেন্স দেখায়।”

আমলাতান্ত্রিক জটিলতার পেছনের কারণ হিসেবে একটি আশংকার কথা বললেন সংশ্লিষ্টরা। কাঁসা ও পিতলে তৈরি নতুন কোনো  শিল্পকর্মের আড়ালে একই ধরনের কোনো পুরাতাত্ত্বিক বস্তু পাচার হবার ভয় পান তাঁরা। এক্ষেত্রে কঠোর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকলে ভীতি দূর হবে, বাড়বে বাণিজ্য।

ড. শহনেওয়াজ বলেন, “যেহেতু এটা রপ্তানির সাথে যুক্ত, আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তাদেরকে ক্লিয়ারেন্স দিয়ে দিই। পুরাতত্ত্ব বিভাগে বিনা কারণে এসব পণ্য পড়ে থাকে না।”

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুসারে, অন্যান্য দেশের চেয়ে এ দেশের কাঁসা-পিতলে স্বতন্ত্র গুণাবলী রয়েছে। ফলে, এর বিশেষ চাহিদাও রয়েছে বিশ্ব পরিমণ্ডলে। ক্ষয়িষ্ণু এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার তাগিদ দিচ্ছেন তাঁরা।

অধ্যাপক নাসিমুল খবির বলেন, “শিল্পগুলো সৃষ্টি হওয়ার যেসব কারখানা , সেগুলো টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারি ও সামাজিক পৃষ্ঠপোষকতার বিকল্প নেই।"

বিসিক চেয়ারম্যান মুস্তাক হাসান মোহাম্মদ ইফতেখার বলেন, “এ শিল্পের কারিগররা যখন আমাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে, তখন আমাদের দায়িত্ব হবে, কীভাবে তাদেরকে আমরা তুলে ধরবো। কীভাবে বিদেশে বাণিজ্য করবে তাও দেখতে হবে।”

সময়ের ইতিহাসের সাক্ষী ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী কাঁসা-পিতল শিল্প। বর্তমানে বিশ্ব বাজারে ব্যাপক সম্ভবনা থাকার পরও, সঠিক প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বাজার পাচ্ছে না এই শিল্পপণ্য। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে হারিয়ে যেতে বসা এই শিল্প রক্ষায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণের দাবি সংশ্লিষ্টদের।

আরো পড়ুন:

কাঁসা-পিতলের ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী হারিয়ে যাচ্ছে

দিন দিন কমতে শুরু করেছে কাঁসার পণ্যের কদর 

এই সম্পর্কিত আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is