দেশে বৌদ্ধ নিদর্শন অনেক, পর্যটনের সরকারি উদ্যোগ নেই আপডেট: ০৪:৫৯, ১৯ জুলাই ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ায় বৌদ্ধ ধর্মের অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলেও রয়েছে অনেক পুরনো বৌদ্ধ ঐতিহ্য। এই নিদর্শন ও ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে পর্যটনের বিকাশে ঢাকায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পর ৮ মাসেও তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি সরকার। পর্যটন এলাকা চিহ্নিত করা ও প্রচার-প্রচারণার কাজেও তেমন অগ্রগতি নেই বলে জানান পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা। 

গত বছর অক্টোবর মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বুদ্ধিস্ট হেরিটেজ এন্ড পিলগ্রিম সার্কিট’-এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশীয় বৌদ্ধ ট্যুরিজম সার্কিটে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। এ সার্কিটে রয়েছে ভারত, ভুটান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা। সেই সম্মেলনেই এক লাখ বৌদ্ধ পর্যটক আকর্ষণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে বাংলাদেশ। তবে এক বছরেও লক্ষ্য অর্জনে সরকার তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ পর্যটন সংশ্লিষ্টদেরণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক ড. সৈয়দ রাশেদুল হাসান বলেন, “বৌদ্ধ পর্যটন বলতে কী বোঝায় আমাদের দেশের নীতি নির্ধারকরা বোধহয় জানেন না।”

বেসরকারি ট্যুর অপারেটর সৈয়দ গোলাম কাদের বলেন, “এই পর্যটনের জন্য গবেষণা করা, পণ্য তৈরি করা, বৌদ্ধ মার্কেটে নিয়ে গিয়ে তুলে ধরা এবং বাংলাদেশের সক্ষমতাগুলো দেখানোর কাজগুলো আমরা করিনি।”

ভারতের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ২ লাখ ২৫ হাজার পর্যটক ভারতের গোয়া আর ১ লাখ ২৫ হাজার পর্যটক নেপালের লুম্বিনি ও সাড়ে তিন লাখ পর্যটক মিয়ানমার ভ্রমণ করেছেন। প্রতিবেশী এসব দেশ ঘুরতে আসা পর্যটকদের বাংলাদেশে আনতে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

তিনি বলেন, “থাইল্যান্ডের সাথে একটা চুক্তি করছি আমরা এবং ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও কম্বোডিয়ার সাথেও চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। চুক্তিটা মূলত পর্যটকদের আগমন নিয়ে হবে। সেখানে জোর দেয়া হবে বৌদ্ধ পর্যটনের ওপর।”

এ ধরনের বিশেষায়িত পর্যটন বিকাশে ভারত-নেপাল-ভুটানের সঙ্গে আন্তঃদেশীয় চুক্তির ব্যাপারেও ভাবছে সরকার।
 

 

Publisher : .