ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭, ৬ কার্তিক ১৪২৪, ৩০ মহাররম ১৪৩৯
শিরোনামঃ
উন্নত বাংলাদেশ গড়তে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখুন: জয় বেড়িবাঁধ ভেঙে বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ব্যাহত ফেরি চলাচল টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন বন্দরের কার্যক্রমে স্থবিরতা ডি-এইট সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে রোহিঙ্গা ইস্যু আওয়ামী লীগে জঙ্গি-সন্ত্রাসি ও চাঁদাবাজের ঠাঁই নেই: ওবায়দুল সু চি’র নীরবতায় রোহিঙ্গাদের ওপর সেনা নিপীড়ন চলছে: ইউনূস ভারী বর্ষণে কলাপাড়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ১১ গ্রাম প্লাবিত রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ: আমীর খসরু মালয়েশিয়ায় ৩৯ বাংলাদেশিসহ ১১৩ অভিবাসী আটক একটি গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহার করতে চায়: কামরুল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান ইনজুরির কারণে শেষ ওয়ানডেতেও খেলতে পারছেন না তামিম দিনাজপুর ও নেত্রকোনার চাষিরা দিশাহারা স্পেনের অংশ কাতালোনিয়া আছে, থাকবে: রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ আলফাডাঙ্গায় মধুমতির ভাঙন এলাকায় ড্রেজিং প্রকল্প উদ্বোধন আফগানিস্তানে দু’টি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৭২ হাঁস পালন করে ঝিনাইদহের শতাধিক খামারির মুখে হাসি ড্রাগন চাষে লাভবান হচ্ছেন পটুয়াখালীর চাষিরা ভারী বর্ষণে কলাপাড়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ১১ গ্রাম প্লাবিত

বায়ুদূষণ ভয়াবহতর, হুমকিতে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ

প্রকাশিত: ০৬:১৪ , ১১ মার্চ ২০১৭ আপডেট: ০৬:১৪ , ১১ মার্চ ২০১৭

বায়ুদূষণ বরাবরই দেশের পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। বিগত সাড়ে চার দশকে দেশে বায়ুদূষণের প্রক্রিয়া পাল্টেছে, কিন্তু ভয়াবহ দূষণের চিত্র পাল্টায়নি। বরং বায়ুদূষণ দিন দিন ভয়াবহতর হচ্ছে, যা ক্রমাগত উদ্বিগ্ন করছে সবাইকে।

নাগরিকরা রাজধানীর ধুলাময় দৃশ্য দেখলেই আঁতকে ওঠেন বায়ুদূষণের ভয়াবহতার কথা ভেবে। বায়ুদূষণের ভয়াবহতা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নানা অঞ্চলে বরাবরই ছিলো। তবে কয়েক দশক আগেই ঢাকা শহরেই দূষণের রূপ ছিলো আরেক রকম, যা এখন না থাকলেও আছে অন্য চেহারায় আরো ভয়াবহ দূষণ।

দূষণের বিপদ থেকে বেরিয়ে এসে মানুষকে সুস্থভাবে নিঃশ্বাস নেয়া ও বেঁচে থাকবার জন্য কয়েক দশক আগেও দূষণ প্রতিরোধে নানান ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সোচ্চার হয়ে উঠেছিলেন পরিবেশ ও বায়ুদূষণের গবেষক ও আন্দোলনকারীরা। এর প্রেক্ষিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক পরিবর্তন হলেও দূষণের রূপ পাল্টে যাওয়ায় বিপদ কাটেনি আজও।

সাধারণত সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে যেকোনো নেতিবাচক বাস্তবতা লুকিয়ে বা এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের বাযুর মান ও দূষণ পর্যবেক্ষণের দৈনিক প্রতিবেদনেও ভয়াবহতার বিষয়টি গোপন নয়।

বায়ুমান পরীক্ষার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ১১টি কেন্দ্র রয়েছে সারা দেশে, যার ভিত্তিতে দেশের ৮টি বিভাগের বায়ুমানের প্রতিবেদন তৈরি করা হয় প্রতিদিন। তা থেকে দেখা যায়, ৮টি বিভাগীয় শহরেরই বায়ুমান ভীষণ ভয়াবহ রকমের খারাপ।

সম্প্রতি বিশ্ব জুড়ে বায়ু দূষণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট ও ইন্সটিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস এন্ড ইভালুয়েশন-এর যৌথ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে বায়ু দূষণের ভয়াবহতা বিবেচনায় ভারতের রাজধানী দিল্লি সবার শীর্ষে, তার পরেই রয়েছে ঢাকা। 

অবশ্য এ তালিকা প্রস্তুত প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের পরিবেশবিদদের দ্বিমত রয়েছে। তাঁরা দূষণের ভয়াবহতা স্বীকার করলেও, এই আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের ফল মানতে নারাজ। 

কয়েক দশক আগেও যেসেব কারণে দেশের বায়ু দূষিত হতো, এখন তার অনেক কারণের প্রভাব কোথাও কোথাও কমলে্‌ দূষণের নতুন নতুন কারণ যুক্ত হয়েছে। ঘর,-বাইরে সর্বত্রই বায়ু দূষিত হয়। তবে বড় বড় কারণগুলোর পেছনে আছে নানান ধারাবাহিক বৃহৎ ব্যবসায়িক উদ্যোগ। বায়ুদূষণের প্রায় ৬০ ভাগই হয় ইটভাটার কারণে।

বায়ুতে দূষণ বছরের বারো মাসই অব্যাহত থাকে। তবে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের কারণে এবং বায়ু ভযাবহভাবে দূষিত করতে পারে এমন বেশ কিছু ব্যবসায়িক উদ্যো্‌ যেমন ইটভাটা, বন্ধ থাকায় বায়ুদুষণ তুলনামূলকভাবে কম হয়। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমের বায়ুদূষণ নিয়ে গবেষকদের পর্যবেক্ষণ লোমহর্ষক একটি ব্যাপার।

বায়ুদূষণের মাত্রা নিরূপণের ক্ষেত্রে অন্যতম বিবেচ্য বিষয় হলো, ২.৫ মাইক্রোমিটারের কম আকারের বস্তুকণা বায়ুতে কী পরিমাণ রয়েছে সেটা নির্ধারণ করা। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে-- বাতাসে এ উপাদানের সহনীয় মাত্রা ৬৫ মাইক্রোগ্রাম, যা ঢাকা-গাজিপুরের বাতাসে ৩৫০ মাইক্রোগ্রামের ওপরেও পাওয়া যায়। অন্যান্য বিভাগে এই ক্ষতিকারক উপাদান ২০০ থেকে ৩০০ মাইক্রোগ্রাম বা কখনও আরো বেশি পাওয়া যায়। এ ছাড়াও দূষণের কারণে বাতাসে আছে আরো অনেক ক্ষতিকর উপাদান।

ভয়াবহ বায়ুদূষণের জন্য সরকারের পরিবেশ বিভাগ যাদেরকে দায়ী করে, তাদের শীর্ষে রয়েছে ইটভাটা। মোট দূষণের ৫৮ শতাংশ হয় এই ব্যবসার কারণে। এরপর ১৫ শতাংশ দূষণ হয় ধুলাবালি থেকে, ১০ শতাংশ যানবাহনের ধোঁয়া থেকে, ৭ শতাংশ জীবাশ্মজ্বালানীর কারণে, এবং ৯ শতাংশ অন্যান্য কারণে।

গবেষকদের মতে, বায়ুদূষণের মাত্রা নগরগুলোতে খুব বেশি হলেও, গ্রামাঞ্চলের বায়ুও দূষণমুক্ত নয়। ঘরের বাইরে শুধু নয়, ভেতরেও বায়ুদূষণের বহু কারণ রয়েছে। একদিকে অসচেতন উন্নয়নের জন্য যেমন বায়ুদূষণ হচ্ছে, তেমনি উন্নয়ন করতে গিয়ে সবুজ প্রকৃতি ও জলরাশির পরিমাণ কমে যাওয়া বায়ুদূষণকে আরো মারাত্মক রূপ নিতে সহায়তা করছে।

অভ্যন্তরীণ নানা কারণে বায়ুদূষণের পাশাপাশি অন্যান্য দেশ থেকে দূষিত বায়ু প্রবাহিত হযে যুক্ত হয় দেশের বাতাসে। গবেষকদের মতে সেসব দূষিত বায়ু যুক্ত হয়ে দেশের দূষিত বাযুমণ্ডলকে আরো বেশি ক্ষতিকারক করে তোলে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, বিশ্বের ৯২ শতাংশ মানুষই বিষাক্ত বায়ু গ্রহণ করে। এর ফলে প্রতিবছর বিশ্ব জুড়ে ৪২ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। দেশে বায়ু দূষণের কারণে স্বাস্থ্যহানি রোগের প্রকোপ ও মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট জরিপ বা পরিসংখ্যান নেই। তবে চিকিৎসক, গবেষক ও পর্যবেক্ষকদের মতে, বহু মৃত্যু ও রোগের পেছনে কারণ হিসেবে রয়েছে দেশের ভয়াবহ বায়ুদূষণ। 

মানুষের মাথার একটি চুল যতটুকু চওড়া, তার ৩০ ভাগের এক ভাগ পরিমাণ চওড়া কোনো বস্তুকণা সাদা চোখে দেখা সম্ভব না। অথচ এমন সুক্ষ অনেক বস্তুকণা প্রতিমুর্হূতে দেশের মানুষের শরীরে যাচ্ছে, যেগুলো নিজেদের অজান্তেই দেহের ভেতর তৈরি করছে নানা জটিলতা, সমস্যা ও রোগ।

বায়ুদূষণের কারণে কত ধরনের রোগ হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা  দেশে কখনো হয়নি। তবে পরিবেশবিদ ও বায়ু নিয়ে কাজ করেন যাঁরা, তাঁদের সাধারণ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়-- বায়ু দূষণের কারণে মানুষ সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য কিছু করতে গিয়েও স্বাস্থ্যহানিকর বাস্তবতার শিকার হচ্ছে।

বৈশ্বিক বায়ু পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২২ শতাংশ মানুষ বাতাসে ভাসমান বস্তুকণা ও ৩০ শতাংশ মানুষ জ্বালানী-সংশ্লিষ্ট দূষণের শিকার, যার মারাত্মক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিশু ও বৃদ্ধদের ওপর।

দেশীয় গবেষক-চিকিৎকদের পর্যবেক্ষণ থকে জানা যায়, দেশে ৭০ লাখ হাঁপানি রোগী রয়েছে। এ ছাড়াও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ফুসফুসে ক্যান্সারসহ নানান প্রাণঘাতী রোগও মানুষের শরীরে বাসা বাঁধছে বায়ুদূষণের প্রভাবে। আর এক্ষেত্রে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে।

চিকিৎসক, গবেষক ও পরিবেশবিদরা বায়ুদূষণের কারণে মানুষের স্বাস্থ্যহানি, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর চিত্র কতটা ভয়াবহ, তা নিয়ে একটি ব্যাপক গবেষণা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মত দেন।

উন্নয়নের কারণে দূষণ বৃদ্ধির কথা বলা হলেও, গবেষকদের মতে দূষণ কমিয়েও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন-- সবার সচেতনতা এবং আন্তরিক উদ্যোগ। নাহলে বাযুদূষণের কারণে দেশের মানুষের সুস্বাস্থ্যের ভবিষ্যত আরোও হুমকির মুখে পড়বে বলে তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন।

সরকারের পরিবেশ বিভাগের পক্ষ থেকে বায়ুদূষণের প্রতিকার করতে নানান উদ্যোগ, প্রকল্প ও পরিকল্পনার কথা বলা হয়। কিন্তু যাঁরা পরিবেশবিদ, তাঁদের উদ্বেগ-- বায়ুদূষণ কমার কোনো লক্ষণ নেই, শুধুই বাড়ছে এবং বাড়বে।

বায়ুদূষণের গবেষক, পর্যবেক্ষক ও পরিবেশবিদদের মতে, অসচেতনতা, খামখেয়ালি এবং কিছু উদ্যোগ ও অর্থব্যয়ে অনীহা থেকে বাযুদূষণের মতো ভয়ংকর ঘটনা ঘটছে। এর জন্য যারা দায়ী, তারাও যে এ দূষণের বিপদ থেকে নিরাপদ থাকবেন না, সেটা তারা অনুধাবন করতে পারছে না। 

অনেকে বিতর্ক জুড়ে দিয়ে বলেন, যেহেতু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সমস্ত নগরীগুলো উন্নয়নশীল নগর, আর তাই এগুলোর স্থায়ী উন্নয়ন না হওয়া পর্যন্ত এই দূষণ স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে হবে। অনেকে গোটা দেশই উন্নয়নশীল বলে দীর্ঘমেয়াদে বায়ুদূষণের বিষয়টি চলমান বাস্তবতা হিসেবে গ্রহণীয় বলে যুক্তি দেন। কিন্তু গবেষকদের মতে, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেই বায়ুদূষণ কমানো ও প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বায়ুদুষণ কমাতে ও প্রতিরোধ করতে সরকারের পক্ষ থেকে নানান আইন ও বিধি তৈরির পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে। তবে গবেষকরা সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের তাগিদ দেন।

নানান রকমের অসচেতনতা ও অনিয়মের ফলে দেশের পরিবেশ আজ নানামুখী বিপর্যয়ের শিকার। বহু নদী ও জলাশয় নষ্ট হয়ে গেছে অসচেতনতা, খামখেয়ালিপনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, এবং জ্ঞানের অভাবের কারণে। বায়ুদূষণ আরো মারাত্মক হলে তা মানুষের বেঁচে থাকার জন্য কতটা ভয়াবহ হবে, সেটা অনুধাবন করার ক্ষেত্রে আর কালক্ষেপণের অবকাশ নেই বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।

 

 

 

এই সম্পর্কিত আরো খবর

ঢাকায় ফুলের সমারোহ, যেন রঙের উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রীষ্মের তাপদাহে দগ্ধ, ইট-কংক্রিটের কঠিন রাজধানী ঢাকায় নবপ্রাণের সঞ্চার করেছে বর্ণিল সব ফুলের সমারোহ। লাল-নীল-হলুদ...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is