দেশে পেশাজীবী মানবসম্পদ রপ্তানী বাড়েনি

প্রকাশিত: ১০:১২, ১৪ জানুয়ারি ২০২১

আপডেট: ০১:০৫, ১৪ জানুয়ারি ২০২১

মেহের মণি: গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে প্রবাসে চার ক্যাটাগরিতে কর্মী গেছেন সাড়ে ৫৬ লাখ; যার মধ্যে পেশাজীবী ক্যাটাগরিতে গেছেন মাত্র ১ লাখ এক হাজার ৪শ ৪৬ জন। যা মোট প্রবাসী কর্মীর মাত্র এক দশমিক ৮৪ ভাগ। গবেষকরা বলছেন, বিদেশে বাংলাদেশের শিক্ষার মানের গ্রহণযোগ্যতা কম হওয়ায় এবং প্রবাসের বাজার সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় বাড়েনি পেশাজীবী কর্মী প্রেরণ। তাতে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় অধিক সংখ্যক কর্মী পাঠিয়েও বাংলাদেশের প্রবাসী আয় তুলনামূলক কম।

করোনা অতিমারির মধ্যে ২০২০ সালে ২২ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। টাকার অঙ্কে যা দাঁড়ায় এক লাখ ৮২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। একক বছরে এ  যাবৎকালের এটিই সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। 

গবেষকরা বলছেন, এই আয় আরো বাড়তে পারতো। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রেমিটেন্স আয় ছিলো বছরে গড়ে ১ হাজার ৩শ থেকে ১ হাজার ৬শ কোটি ডলার। অথচ এই সময়ে পাঁচ লাখ কর্মী কম পাঠিয়েও ভারত রেমিটেন্স আয় করে বাংলাদেশের প্রায় চারগুন। আর নেপাল বাংলাদেশের চারভাগের একভাগ লোক পাঠিয়ে উপার্জন করে ৯শ কোটি ডলার। বাংলাদেশের তুলনায় অর্ধেক লোক পাঠিয়ে দ্বিগুন রেমিটেন্স আয় করেছে ফিলিপিন্স।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রবাসী কর্মীদের প্রায় অর্ধেকই অদক্ষ। বাকীরা দক্ষ এবং আধা দক্ষ। যাদের পাঠানো হয় মূলত এক থেকে তিন মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে। গবেষকরা বলছেন, এসব প্রশিক্ষণ প্রবাসে ভাল পারিশ্রমিকের কাজ পাওয়ায়র জন্য পর্যাপ্ত নয়। আর খুবই নগন্য সংখ্যক কর্মী যায় পেশাজীবী ক্যাটাগরিতে। ফলে সার্বিকভাবে অধিক সংখ্যাক কর্মী পাঠিয়েও বেশি আয় করতে পারে না বাংলাদেশ।

ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ান, ইঞ্জিনিয়ারসহ অন্যান্য পেশাজীবী ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি দীর্ঘদিন ধরেই নগণ্য অবস্থায় রয়েছে। যদিও এই ধরণের পেশাজীবীরাই অধিক আয় করতে সক্ষম।

এক দশকে পেশাজীবী শ্রেণীতে বিদেশে কর্মী প্রেরণের চিত্র
   
সাল             সংখ্যা
২০১১       ১১৯২
২০১২       ৩৬০৮৪
২০১৩       ৬৮৯
২০১৪       ১৭৩০
২০১৫       ১৮২৮
২০১৬       ৪৬৩৮
২০১৭       ৪৫০৫
২০১৮       ২৬৭৩
২০১৯       ১৯১৪
২০২০       ৪৬২১১
বাংলাদেশের শিক্ষার মানের গ্রহণযোগ্যতা কম এবং বাজার সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকা বিদেশে পেশাজীবী প্রেরণ কম হওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন গবেষকরা। বিষয়টি স্বীকার করে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক বলছেন জনশক্তি রপ্তানির বাজার বিষয়ে সঠিক গবেষণা প্রয়োজন। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অধিক সংখ্যক পেশাজীবী ও চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা সম্পন্ন কর্মী পাঠাতে পারলে প্রবাসী আয় বাড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বাড়বে প্রবাসে ।

এই বিভাগের আরো খবর

দখলমুক্ত হচ্ছে না রাজধানীর ফুটপাত

ফাহিম মোনায়েম: অনেকটা ঢাকঢোল পিটিয়ে...

বিস্তারিত
পিলখানা ট্রাজেডি দিবস আজ

আশিক মাহমুদ: বাংলাদেশের ইতিহাসের...

বিস্তারিত
করোনা টিকার কার্যকারিতা জানতে জরিপ

ইমদাদুল্লাহ বাবু: করোনা টিকার...

বিস্তারিত
নদ-নদী দখলমুক্ত করার অভিযানে ধীরগতি

পার্থ রহমান: রাজধানীকে ঘিরে থাকা চার...

বিস্তারিত
তুরাগের বুকে ইটভাটা

পার্থ রহমান: রাজধানীর একদিকে...

বিস্তারিত
অনুমোদন ছাড়াই কেরাণীগঞ্জে সারি সারি ভবন 

তারেক সিকদার: কর্তৃপক্ষের অনুমোদন...

বিস্তারিত
আদালতে বাড়ছে বাংলা ভাষার ব্যবহার

এজাজুল হক মুকুল: উচ্চ আদালতে ইংরেজি...

বিস্তারিত
খাসজমি উদ্ধারে কঠোর আইন হচ্ছে

শাহনাজ ইয়াসমিন: সারাদেশের বেদখল হওয়া...

বিস্তারিত
রাজধানীর পথ-খাবারে বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া

শেখ হারুন: নিজের অজান্তেই খাবারের...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *