সিস্টার অভয়া হত্যা; ২৮ বছর পর বিচার

প্রকাশিত: ০৪:৪০, ২৪ জানুয়ারি ২০২১

আপডেট: ০৪:৪০, ২৪ জানুয়ারি ২০২১

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ ২৮ বছর আগে খুন হয়েছিলেন কেরলের সিস্টার অভয়া। অবশেষে সেই মামলার সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। তিরুঅনন্তপুরমের বিশেষ সিবিআই আদালত এই মামলায় দুই দোষী সাব্যস্তকে খুনের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে প্রমাণ নষ্টের অভিযোগে আরও সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাদের। এর পাশাপাশি পাঁচ লক্ষ টাকা করে জরিমানাও হয়েছে তাদের। 

১৯৯২ সালের ২৭ মার্চ ভোরে নিজের হোস্টেলে খুন হন ২২ বছর বয়সী সিস্টার অভয়া। সন্ন্যাসিনী সেফির সঙ্গে একই হোস্টেলে থাকতেন তিনি। সেফি সেই হোস্টেলের ইন-চার্জও ছিলেন। অভিযুক্ত যাজকের কাছে পড়তেন অভয়া। খুন করার পরে তাঁর দেহ একটি কুয়োয় ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। অপরাধদমন শাখা প্রথমে এটিকে আত্মহত্যার ঘটনা বলেছিল। পরে পুরো ষড়যন্ত্রটি সামনে আসে। পুলিশ তখন জানিয়েছিল, খুনের দিন ভোরবেলায় দোষী সাব্যস্ত যাজক ও সন্ন্যাসিনীর মধ্যে ঘনিষ্ঠতার কথা জেনে ফেলেন অভয়া। তার পর পরই তাঁর মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে তাঁকে খুন করা হয়। এই মামলায় আর এক সন্দেহভাজনকে প্রমাণের অভাবে আগেই ছেড়ে দিয়েছে কোর্ট।  

রায়ের কপি থেকে জানা যায়, ১৯৯২ সালের ২৭ মার্চ কেরালার কোট্টায়মে পায়াস দশম কনভেন্টের এক কুয়োর মধ্যে পাওয়া যায় দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সিস্টার অভয়ার দেহ। প্রাথমিক তদন্তে স্থানীয় পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চ ঘটনাটি আত্মহত্যা মনে করলেও জোরালো প্রতিবাদের জেরে পরে সিবিআই-কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

আদালতে জমা দেওয়া সিবিআই চার্জশিট অনুযায়ী, কনভেন্টের দুই যাজক ও এক সন্ন্যাসিনীর মধ্যে অবৈধ সম্পর্কের বিষয়ে জেনে ফেলার কারণেই অভয়াকে খুন করা হয়েছিল। তাঁকে ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার পরে কুয়োয় ছুড়ে ফেলা হয় বলেও সিবিআই তদন্তে প্রকাশ পায়। 

১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে জমা দেওয়া রিপোর্টে সিবিআই প্রথমে জানিয়েছিল, সিস্টার অভয়া আত্মঘাতী হয়েছেন। কিন্তু আদালত সেই রিপোর্ট খারিজ করে পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেয়। 

এর পর ১৯৯৭ সালের মার্চ মাসে সিবিআই তার দ্বিতীয় রিপোর্টে জানায়, অভয়াকে খুন করা হয়েছে। সেই রিপোর্টও খারিজ পরে পুনরায় অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয় আদালত। 

২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তার তৃতীয় রিপোর্টে সিবিআই আদালতকে ফের জানায়, অভয়াকে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা সংস্থা। ধৃত ক্যাথলিক যাজক ফাদার টমাস কোট্টুর, ফাদার জোসে পুত্রুকায়িল এবং সন্ন্যাসিনী সোফির বিরুদ্ধে খুন, সাক্ষ্য-প্রমাণ লোপাট ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনে সিবিআই। 

ছয় মাস জেলে কাটানোর পরে ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে তিন অভিযুক্তই জামিনে ছাড়া পান। ওই বছরের জুলাই মাসে মামলায় আদালতে চার্জশিট জমা দেয় সিবিআই। তিন অভিযুক্তর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা) ও ২০১ (সাক্ষ্য-প্রমাণ লোপাট) ধারায় মামলা করা হয়। অভিযোগ অস্বীকার করে খালাস পাওয়ার জন্য আদালতে একাধিক আবেদন জানায় তিন অভিযুক্ত। 

ইতিমধ্যে মামলায় একাধিক সাক্ষী বয়ান প্রত্যাহার করে নেন। এর পর তিন অভিযুক্তের নার্কো অ্যানালিসিস টেস্ট করার নির্দেশ দেয় আদালত।  ২০১৮ সালের মার্চ মাসে ফাদার পুত্রুকায়িলকে প্রমাণের অভাবে মুক্তি দেয় আদালত। 

২০১৯ সালের অগস্ট মাসে ২৭ বছর পরে ফের মামলার শুনানি শুরু হয়। সিস্টার অভয়ার সুবিচার চেয়ে আবেদনকারী প্যানেলের একমাত্র জীবিত সদস্য বর্তমানে বেঁচে আছেন মানবাধিকার কর্মী জোমন পুতেনপুরাক্কাল।

১৯৯২ সালের ২৭ মার্চে ভোর ৪টে ১৫ মিনিট নাগাদ নিজের ঘর থেকে হোস্টেলের রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছিলেন অভয়া। তখনই সিস্টার সেফি, ফাদার কোট্টুর এবং আর এক যাজক জস পুথরিকায়িলকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলেন। ওই তিনজন ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে অভয়াকে খুন করে তাঁর দেহ কুয়োয় ফেলে দেয়। দাবি করে, আত্মহত্যা করেছেন তিনি। প্রমাণের অভাবে ২০১৮ সালে বেকসুর খালাস পান এক যাজক জস। বছর কয়েক আগে মারা গেছেন অভয়ার বাবা-মাও। শেষ পর্যন্ত সুবিচার পেলেন তিনি। রায়ে খুশি তাঁর প্রবাসী ভাই।    
 

এই বিভাগের আরো খবর

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধসে ৬ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার...

বিস্তারিত
গ্রীন কার্ড নিয়ে ট্রাম্পের আদেশ বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গ্রীন কার্ড নিয়ে...

বিস্তারিত
মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে নিষিদ্ধ করলো ফেসবুক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারে জান্তা...

বিস্তারিত
আবারো বিশ্বের শীর্ষ ধনী জেফ বেজোস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফের বিশ্বের শীর্ষ...

বিস্তারিত
বাইডেনের সাথে ট্রুডোর প্রথম বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কানাডার...

বিস্তারিত
১৭ হাজার বছর আগের গুহাচিত্রের সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ায় ১৭...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *