জিন্নাহর রাষ্ট্রভাষার ঘোষণার প্রতিবাদ জানায় মুজিবসহ ছাত্ররা

প্রকাশিত: ১০:২৭, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আপডেট: ১১:৩৪, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১

রীতা নাহার: একাত্তরে অর্জিত স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন-সংগ্রামের গোড়াপত্তন হয়েছিল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই ভাষা আন্দোলনে ছিলেন একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী তরুণ ছাত্র নেতা। এ বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী। তাই এবার ভাষার মাস ফেব্র“য়ারিতে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু মুজিবের ভূমিকা ও অংশগ্রহনের ঐতিহাসিক অধ্যায় নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ নবম পর্ব। 

তেজগাঁওয়ের পুরাতন এয়ারপোর্ট ১৯৪৮ সালে আজকের বাংলাদেশে একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছিল। আটচল্লি­শের ১৯শে মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ঢাকার এই বিমানবন্দরে নামলে হাজার হাজার মানুষ তাঁকে স্বাগত জানায়। সেখান থেকে জিন্নাহ যোগ দেন রমনা রেসকোর্স ময়দানের জনসভায়, যা এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

জনসভায় জিন্নাহ ঘোষণা করেন, “ঊর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা”। শেখ মুজিবসহ উপস্থিত শিক্ষার্থী-ছাত্র জনতা দাড়িয়ে হাত তুলে “মানি না” বলে জিন্নাহ’র ঘোষণার বিরোধীতা করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবারো উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা করার ঘোষণা দেন জিন্নাহ। সেখানেও উপস্থিত ছাত্ররা বিরোধীতা করে।

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে শেখ মুজিবের বয়ানে ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায় এভাবে, “জিন্নাহ প্রায় পাঁচ মিনিটি চুপ করে ছিলেন, তারপর বক্তৃতা করেছিলেন। আমার মনে হয় এই প্রথম তার মুখের উপরে তার কথার প্রতিবাদ করলো বাংলার ছাত্ররা। এরপর জিন্নাহ যতদিন বেঁচে ছিলেন আর কোনদিন বলেন নাই, ঊর্দুই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে।”


 

এই বিভাগের আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *