ভুট্টোর দাবির সমালোচনায় বঙ্গবন্ধু 

প্রকাশিত: ১০:৩০, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আপডেট: ১১:৫৯, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছর ২০২০। তাঁর শততম জন্মবার্ষিকীর দিন, ১৭ই মার্চ থেকে শুরু হয়েছে মুজিববর্ষ উদযাপন। স্বাধীন বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু একাত্মা। তিনিই একাত্তরের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর ডাকেই মানুষ স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার দ্বারে পৌঁছানোর আগের বছরটি কেমন কেটেছিল বঙ্গবন্ধুর। সেই উত্তাল আন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক দিনগুলো নিয়ে মুজিববর্ষ জুড়ে বৈশাখী সংবাদের বিশেষ ধারাবাহিক আয়োজন- যাঁর ডাকে বাংলাদেশ। 

আওয়ামী লীগ প্রস্তাবিত ৬-দফার পক্ষেই জনগণ ভোট দিয়েছে এবং এই প্রস্তাবকেই মেনে নিতে হবে বলে একাত্তরের শুরুতে স্পষ্টতই জানিয়ে দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৭১ সালের ২৬শে ফেব্র“য়ারি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের করাচীতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান এবং বাঙ্গালি বিরোধী পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টো। বৈঠক শেষে বাইরে সাংবাদিকদেরকে ভুট্টো জানান, একাত্তরের ৩রা মার্চ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকায় নির্ধারিত জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে তার দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির দাবি-দাওয়া মেনে নিলে অধিবেশন বয়কট করবে না পিপিপি। দ্রুত ভূট্টোর এমন কথার প্রতিবাদ করেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান।

একাত্তরের এদিন দুপুরে ঢাকায় ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসায় তার সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ভাইস এডমিরাল এস এম আহসান। বৈঠক শেষে বাইরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন শেখ মুজিব। বলেন, “পাকিস্তানের জনগণ ৬-দফা কর্মসূচীর পক্ষে ভোট দিয়াছে এবং এই রাজনৈতিক বাস্তবতাকে মানিয়া নিতেই হইবে। ৭ই ডিসেম্বর বাংলা দেশের জনগণ বিধিগত স্বার্বভৌমত্বের মালিক হইয়াছে এবং এই স্বার্বভৌমত্বের বাস্তব প্রয়োগের পথে অন্তরায় সৃষ্টির যে কোন প্রচেষ্টা জনগণের রুদ্ররোষই ডাকিয়া আনিবে।” (সূত্রঃ ২৭ ফেব্র“য়ারি, ১৯৭১; দৈনিক ইত্তেফাক)


 

এই বিভাগের আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *