ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫

2018-07-18

, ৫ জিলকদ্দ ১৪৩৯

রবী ঠাকুরের ৭৬তম প্রয়াণ দিবস আজ

প্রকাশিত: ০৬:২৮ , ০৬ আগস্ট ২০১৭ আপডেট: ০৬:২৮ , ০৬ আগস্ট ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৬তম প্রয়াণ দিবস আজ। মানুষের শান্তি ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় মানবতাবাদী এই কবি আমৃত্যু বিশ্বমানবতার কথা বলে গেছেন। বাঙালির আনন্দ, বেদনা, প্রেরণা, উৎসব, সংকট আর উত্তরণের উৎসও তিনি। বিশ্বকবির বহুমুখী সৃজনশীলতায় বাঙালি পেয়েছে আত্মপরিচয়ের সন্ধান। রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ ও অনুরাগীরা বললেন, সমকালে এবং সকল সংকটে রবীন্দ্রনাথ এখনো প্রাসঙ্গিক।

যখন পড়বেনা মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে
                            আমি বাইবোনা,
                            আমি বাইবোনা মোর খেয়াতরী এই ঘাটে গো ...  
                             চুকিয়ে দেবো বেচা কেনা, মিটিয়ে দেবো গো ...

গানের কথাকে পেছনে ফেলে, সৃজনশীলতার বিশাল ভুবন দিয়ে কবিগুরু আজও বিশ্ব-মানবিকীকরণে প্রাসঙ্গিক। আপন সৃষ্টির আলোয় সংকট কিংবা বেদনায়, বিশ্বালোকে দেখিয়ে চলেছেন পথের দিশা। আজ ২২শে শ্রাবণ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

বিশ্বকবির বহুমুখী সৃজনশীলতায় বাঙালি পেয়েছে জীবনবোধের দিশা। এই জাতির প্রেরণার উৎসও তিনি। বাঙালির যাপিত জীবনে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা অটুট এখনও। রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সময়ে ব্যক্তি ও সমাজের সংকটের সমাধান খুঁজে পাওয়া যায় তাঁর দর্শনে।

এশিয়ার প্রথম নোবেল বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ সাম্প্রদায়িকতা, গোঁড়ামী ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। একককে ভেঙ্গে বহুমাত্রিক করেছেন নিজ চেতনা বৈভবে।

বাঙালি সমাজ যেমন রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি ও চিন্তাকে ধারণ করে এগিয়ে গেছে তেমনি বিশ্বলোকেও বিরাজমান এই বিশ্বকবি। রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ হায়াৎ মামুদ বললেন, সভ্য ও সুন্দর কোনো মানুষই রবীন্দ্রনাথের জগতের বাইরে নন। তাই তিনি বিশ্বজনীন।

৮০ বছরের জীবনে সত্য ও সুন্দরের দিশারী রবীন্দ্রনাথ, যে আলোকবর্তিকা সারা বিশ্বের জন্য রেখে গেছেন তার অনুপ্রেরণা তিনি পেয়েছিলেন বাংলার প্রকৃিত ও মানুষ থেকে। তবে সে  আলোয় স্নাত হওয়ার আহবান ও পরিসর, দুইই রয়েছে রবীন্দ্রভুবন জুড়ে।

এশিয়ার প্রথম নোবেল বিজয়ী কবি, সাহিত্যিক, চিত্রকার, সুরকার, গীতিকার, দার্শনিক বহু গুণে গুণান্বিত কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আখ্যায়িত করা হয় সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি হিসেবে। বাংলা সাহিত্য ও কাব্যগীতির শ্রেষ্ঠ স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭১তম প্রয়াণ দিবস। ১৯১৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন ‘গীতাঞ্জলী (কবিতা গুচ্ছ)’ রচনা করে।

' রবীন্দ্রনাথ বর্ষা নিয়ে, আষাঢ়-শ্রাবণ নিয়ে লিখেছেন । তাতে ধরা পড়ে শ্রাবণ-বর্ষণের বহুমাত্রিক রূপ। তবে শ্রাবণের দিকেই কবির নজর ছিল বেশি। 'আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে/দুয়ার কাঁপে ক্ষণে ক্ষণে' শ্রাবণ-বর্ষণে তিনি যেন পেয়েছিলেন মুক্তির ডাক।

তারপর একদিন এই শ্রাবণেই তিনি চলে গেছেন সবাইকে কাঁদিয়ে। অবশ্য কবিগুরু তাঁর কর্মে আমাদের মধ্যে বর্তমান আছেন, থাকবেন চিরদিন। তাঁর ভাষায়, 'জীবনে মৃত্যু করিয়া বহন প্রাণ পাই যেন মরণে।' এবং ‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে/ মানবের মাঝে আমি বাঁচিবার চাই। এই সূর্যকরে এই পুষ্পিত কাননে/ জীবন হৃদয় মাঝে যদি স্থান পাই।’

তিনিই একমাত্র কবি, যিনি দুটি দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা। তাঁর সাহিত্যের আবেদন বিশ্বজনীন। তাঁর গান বাঙালির নিত্যদিনের জীবনচর্চায় মিশে আছে গভীরভাবে।

এই বিভাগের আরো খবর

মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা তুলে ধরে বিশ্বমানের চলচ্চিত্র নির্মাণের আহবান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা তুলে ধরা ও বিশ্বমানের চলচ্চিত্র নির্মাণের আহবান জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ...

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাসৈনিক হালিমা খাতুনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভাষাসৈনিক ও সাহিত্যিক হালিমা খাতুনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানালো সর্বস্তরের মানুষ। সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে তার...

কলকাতায় দুই বাংলার শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে চিত্র প্রদর্শনী

ডেস্ক প্রতিবেদন: হাতে মোবাইল ফোন, টেলিভিশনে দিন-রাত চোখ- অনেকেই আবার ফেসবুকে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। আর যারা একটু পড়াশোনায় বেশি মনযোগী তারা...

নজরুল শুধু জাতীয় কবি নন, জাগরণের-সাম্যের কবি: রাষ্ট্রপতি

ন্যাশনাল ডেক্স: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন নজরুল শুধু বাংলার জাতীয় কবি নন, তিনি জাগরণের কবি, সাম্যের কবি। তার লেখনী যুগ যুগ ধরে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is