সুশৃঙ্খল জীবনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি নিয়ন্ত্রণ জরুরি আপডেট: ১০:৫২, ০৭ আগস্ট ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুশৃঙ্খল পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের স্বার্থেই সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্তি নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দিয়েছেন সমাজ ও মনোবিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, সময় বদলেছে, বদলেছে যোগাযোগের গতি। এর অপরিমিত ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণেই বাড়ছে অপরাধ; লোপ পাচ্ছে সমাজিক নিয়ন্ত্রণ। আবার অপরাধের কারণ ও মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এই ভার্চুয়াল জগত রুগ্ন করছে সমাজ ও রাষ্ট্রকে।

বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ ঘটনাতেও দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা। তাদের মধ্যে পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই। এরপর বনানীতেই আরেকটি ঘটনা ঘটে, তার পেছনেও রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।  

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিনিয়ত যে পরিমাণ সাইবার অপরাধ হচ্ছে তার শিকার হচ্ছেন ৭৩ শতাংশ নারী। আর ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী আক্রান্ত হচ্ছেন সাইবার বুলিং এর। যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এর ব্যাপক ব্যবহার মানুষকে দিন দিন একা করে দিচ্ছে এবং অবসাদগ্রস্ত করে তুলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহ্জাবিন হক বলেন, ‘এই আসক্তিটা কিন্তু অনেক  তীব্র মাত্রায় রয়েছে। এই কারণে তাদের পারিবারিক জীবনে, লেখা পড়ায়, সামাজিক জীবনে এই মাধ্যম সমস্যা সৃষ্টি করছে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিয়া রহমান বলেন, ‘‘আধুনিক জীবন যাপন করতে যেয়ে দেখেছি, এই মাধ্যম কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তা আমরা জানি না। ফলে এই সমস্যাগুলো সৃষ্টি হচ্ছে।”

এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য পারিবারিক সচেতনতা ও নজরদারি বাড়ানো, অপসংস্কৃতির ধারণ ও লালন থেকে বিরত থাকা এবং সাইবার জগতের অপরিমিত বিচরণ নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দিলেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল ইসলাম বলেন , “সামাজিক স্থিতিশীলতা যদি প্রযুক্তির জন্য তৈরী হয়, তাহলে এর চাইতে বিপর্যয়ের আর কিছু নাই।সুতরাং আমাদের সচেতন হতে হবে। আমাদের সামাজিক সম্পর্ক যাতে কোনো ভাবেই শিথিল না হয় (প্রযুক্তির কারণে)। যেন কোনো ভাবে নষ্ট না হয় প্রযুক্তির কারণে। প্রযুক্তি দিয়ে সামাজিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে হবে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার বলেন, “এই দিকগুলো বিবেচনার, প্রথম হচ্ছে কাউন্সেলিং (পরামর্শ প্রদান) ও সোসালাইজেশন (সামাজিকীকরণ)। সঠিক সামাজিকীকরণের প্রধান শিক্ষালয় হচ্ছে পরিবার।’’

তারা বলছেন সমস্যা সমাধানে এখনই উদ্যোগী না হলে পরবর্তী প্রজন্ম আরও হুমকির মুখে পরতে পারে।