ভারত থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন সিদ্দিকুর আপডেট: ১০:৩৭, ১১ আগস্ট ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারত থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন পুলিশের ছোঁড়া টিয়ার শেলে চোখে আঘাতপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান।

শুক্রবার বিকেল সোয়া তিনটার দিকে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

এসময় তিনি বলেন, “ডাক্তার বলেছে লিটিল হোপ একেবারেই সম্ভাবনা কম। তবে আরও ছয় সপ্তাহ গেলে এটা বোঝা যাবে। আমি সম্মানজনক একটা অবস্থান চাই, আমি লেখাপড়া শেষ করতে চাই।”

বিমানবন্দরে সিদ্দিকুর রহমানকে নিতে যান তার সহপাঠীরা। তারা বিমানবন্দরের সামনের সড়কে চোখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন করেন।

দেশে ফেরার আগে বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ের শঙ্কর নেত্রালয়ের চিকিৎসক লিঙ্গম গোপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সিদ্দিকুর রহমান। তাকে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের ওষুধ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, সিদ্দিকুর রহমানের চোখ ভালো হবে কি না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বাম চোখের রেটিনার ৯০ শতাংশের বেশি নষ্ট হয়ে গেছে। আর ডান চোখ তো আগেই নষ্ট হয়েছে। চেন্নাইয়ে অস্ত্রোপচারের পর এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও সিদ্দিকুর রহমানের চোখের কোনো উন্নতি হয়নি। তবে অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার চোখে আলো ফিরবে কি না তা চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর জানা যাবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গত ২৭ জুলাই দুপুরে একটি ফ্লাইটে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিদ্দিকুর রহমানকে চেন্নাইয়ের শঙ্কর নেত্রালয়ে নেওয়া হয়। তার সঙ্গে গিয়েছিলেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুল আহসান মেনন ও বড় ভাই নওয়াব আলী।

চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর ২৮ জুলাই প্রথম চিকিৎসক দেখানো হয়। পরে ৩১ জুলাই চিকিৎসক সিদ্দিকুর রহমানের চোখ পরীক্ষা করে জানান, তার দুই চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। তবে রোগী চাইলে তারা অস্ত্রোপচার করবেন। পয়লা আগস্ট রোগীর কাছ থেকে সম্মতি পেয়ে চার আগস্ট অস্ত্রোপচার করা হয়।

সিদ্দিকুর রহমান চেন্নাই যাওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানান, সিদ্দিকুর রহমান যাতে অন্তত একটি চোখে দেখতে পান, সেজন্য চিকিৎসকরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। সিদ্দিকুর রহমান দেশে ফিরলেই তাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চাকরি দেওয়া হবে।

চেন্নাইয়ে পাঠানোর আগে সিদ্দিকুর রহমান জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীরা সময়সূচিসহ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিতে শাহবাগে আন্দোলন করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় রাজধানীর তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান দুই চোখে আঘাত পান। প্রথমে সিদ্দিকুরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক দফা তার চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়।

 

Publisher : .