বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড দেশে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির প্রভাব ফেলে আপডেট: ১১:৩১, ১৩ আগস্ট ২০১৭

বিশেষ প্রতিবেদন: পাকিস্তানে গণতন্ত্রহীনতা, ধারাবাহিক সামরিক শাসন, রাজনৈতিক  নিষ্পেশন-নিপীড়ন, জাতিগত বৈষম্যসহ নানা বঞ্চনার অভিজ্ঞতায় নতুন আদর্শ মূলনীতিতে দেশ গড়তে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় তাঁকে হত্যা করা হয়, যা নেহায়েত কোনো হত্যাকাণ্ড ছিলো ন। সেটা ছিলো বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মূলনীতিকে হত্যা করার প্রচেষ্টা। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড তাই স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের সামগ্রিক চরিত্রের ওপর এক দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির প্রভাব ফেলে।

স্বাধীনতার মাত্র এক বছরের মধ্যে একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী সংবিধানের প্রণয়ন দেশে-বিদেশে বিপুল প্রশংসা কুড়োয়, যেখানে রাষ্ট্রের মূলনীতি ও আদর্শ পরিষ্করভাবে নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র-- এই চারটি জিনিস রাষ্ট্রের মূল চারটি স্তম্ভ হিসেবে ঘোষিত হয়। ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী-পরিচয় নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকারের নিশ্চয়তাও দেয়া হয়। এমন দেশ গড়ার জন্য বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন চুরমার করতে তাঁকে হত্যা করা হয় সপরিবারে।

অন্যতম সংবিধান প্রনেতা আমির উল ইসলাম বলেন, "সংবিধানে আমরা বলেছি সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে তা নেয়া। অতএব, সংবিধানে যে আদর্শের কথা বলা হয়েছে তার প্রতিফলন বঙ্গবন্ধু থেকেই ঘটেছে।"

বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় দেশের মৌলিক চরিত্রের শুধু পরিবর্তনই আনার চেষ্টা করা হয়নি, এই হত্যাকাণ্ডকে পাকিস্তানি চিন্তা-চেতনায় ও আদর্শে ফিরিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেন সংবিধান প্রণেতা, আইনজ্ঞ ও সমাজবিশ্লেষকরা।

এদিকে, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমীর হোসেন আমু বলেন, "সুখী সমৃদ্ধ জাতি গড়ার জন্য যেসব পদক্ষেপ নেয়ার দরকার ছিলো, বঙ্গবন্ধু সেগুলোর কেবলমাত্র সূচনা করতে পেরেছিলেন। পুরোপুরি বাস্তবায়ন করবার আগেই তাঁকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।"

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পাকিস্তানি ধারায় সামরিক শাসনের সংস্কৃতির প্রবর্তন ঘটে দেশে। সাম্প্রদায়িকতা ফিরে আসে রাজনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ সমাজের প্রতিটি স্তরে। বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতির চর্চার ওপর খড়্গ নেমে আসে।

ভিনদেশি বা পাকিস্তানি ভাবধারার সাংস্কৃতিক চর্চা জীবনাচারেও আনার অপচেষ্টা চলে। রীতিমত স্বপ্নভঙ্গের ঘটনা ঘটতে থাকে একের পর এক, যার মাশুল আজও গুণতে হচ্ছে দেশের মানুষকে।

এ ছাড়া সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, "বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরপরই স্পষ্ট হয়ে যায়, মুক্তিযুদ্ধের যে মূল ভিত্তি সে-ধারায় দেশ আর এগুবে না।”

 

Publisher : .