পটুয়াখালীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলছে দুর্নীতি লুটপাটসহ নানা অনিয়ম আপডেট: ০৪:৫২, ১৩ আগস্ট ২০১৭

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিলেও কিছু অসাধু শিক্ষকের কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। পটুয়াখালীতে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলছে দুর্নীতি ও লুটপাটসহ নানা অনিয়ম।

এতে করে স্কুলবিমুখ হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। এজন্যে অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করাকে দায়ী করলেন অভিভাবকরা।

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ৩৬ নম্বর বাদুরা নতুন চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ স্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে উপস্থিত থাকলেও শিক্ষককে দেখা যায় পার্শ্ববর্তী বাজারে আড্ডা দিয়ে সময় পার করতে।

এমন চিত্র জেলার অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। স্কুলগুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকলেও স্কুলে পাঠদানে তাঁদের নিয়মিত উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ হারাচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা।

সদর উপজেলার ১২৬ নম্বর উত্তর পূর্ব মৌকরন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানে উপস্থিতির তুলনায় বেশি শিক্ষার্থী দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হচ্ছে উপবৃত্তির টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিদ্যালয়টিতে ২৩ জন শিক্ষার্থীর নামে উত্তোলন করা হয়েছে উপবৃত্তির টাকা। তবে বাস্তবে ওই সংখ্যক শিক্ষার্থীর কোনো অস্তিত্ব নেই। এমনকি শিক্ষণসামগ্রী ক্রয়ে সরকারি বরাদ্দ থেকেও টাকা আত্মসাত করা হচ্ছে।

উপকূলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করার জন্যে তদারকির বালাই নেই। শিক্ষকদের এমন কর্মকাণ্ডের পেছনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আর্থিক লেনদেন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা।

স্থানীয় অভিভাবকরা জানাণ, শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে আসেন সকাল ১১টা কি সাড়ে ১১টার পর। তারপর বিদ্যালয় ছুটি হয়ে যায় বিকেল ৩টার মধ্যেই।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা পরিষদের সভাপতি বলেন, “সরকারি নিয়ম-নীতি যেভাবে আছে সেভাবে পালন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো, এবং কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত প্রতিবেদন দেবো যাতে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।”

এদিকে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনে শাস্তির সুপারিশ করলেও, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান জানান, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে এ বিষয়ে মৌখিকভাবে আলোচনা করেছি। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে যদি বিভাগীয় মামলা দায়ের করার প্রয়োজন হয়, তবে সেটাই করা হবে।”

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে-- এমনটাই প্রত্যাশা অভিভাবকদের।

 

Publisher : .