ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে দেশে নতুন করে বন্যা আপডেট: ১০:৪২, ১৩ আগস্ট ২০১৭

ডেস্ক রিপোর্ট: কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্রসহ দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি বেড়ে নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে দেশের অন্তত ১৪ জেলায়।

তিস্তার পানি রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। তীব্র স্রোতে তিস্তা ব্যারেজ হুমকির মুখে পড়ায় ব্যারেজ এলাকায় শনিবার রাত থেকে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৪৪টি স্লুইস গেইট খুলে দেয়া হয়েছে। কয়েকস্থানে বাঁধ ভেঙে লালমনিরহাটের প্রায় একশটি গ্রাম তলিয়ে গেছে। পানিতে ডুবে দুই শিশুর মুত্যু হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছে তিনজন। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থবির বুড়িমারী স্থলবন্দর।

লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলা শহররক্ষা বাঁধসহ ৪টি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে ৮০টি গ্রাম। পানিবন্দী দুলক্ষাধিক মানুষ। বিভিন্ন উপজেলার সাথে জেলার সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যহত হচ্ছে। ফলে বুড়িমারী স্থবন্দরের কার্যক্রম প্রায় স্থবির।

কুড়িগ্রাম ফেরিঘাট পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার উপরে থাকায় সদর উপজেলা, চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুরের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রাজারহাটের কালুয়ার চরে বাঁধ ভেঙে শিশুসহ দু’জন নিখোঁজ রয়েছে।

গাইবান্ধায় সব নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের ১০টি ইউনিয়ন দ্বিতীয় দফায় প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া নীলফামারী এবং ঠাকুরগাঁওয়েও প্লাবিত হয়েছে বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল।

দিনাজপুর শহররক্ষা বাঁধের ৫০ মিটার অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধ মেরামতে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যেরা। জেলার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন উপজেলার সাথে বন্ধ হয়ে গেছে জেলার সড়ক যোগাযোগ। পঞ্চগড়ে প্লাবিত হয়েছে পাঁচ উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন। রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও রুটের ট্রেন চলাচল।

জয়পুরহাটে প্লাাবিত হয়েছে দশটি ইউনিয়ন। জেলার পাঁচবিবি, ক্ষেতলাল, আক্কেলপুর ও সদর উপজেলার কয়েকশ মানুষ পানিবন্দী। নওগাঁর মান্দায় আত্রাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ২০০ পরিবার। তলিয়ে গেছে ১০০ হেক্টর ফসলি জমি।

সিরাজগঞ্জের চৌহালী বাঁধে আবারো ভাঙন দেখা দিয়েছে। জেলার কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর ও সদর উপজেলার মানুষ আবারও পানিবন্দী। এ নিয়ে চলতি বছরে বাঁধের বিভিন্ন অংশে ১৩ দফায় ধস নামার জন্য বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। জামালপুরেও নতুন করে বন্যায় ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় নিতাই নদীর পাড় ভেঙে ৩০টি গ্রামে বন্যা দেখা দিয়েছে। মালামাল, গবাদিপশুসহ অনেক মানুষ উঁচু সড়কে আশ্রয় নিয়েছে। পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার সোমেশ্বরী, মগড়া নদীসহ জেলার সব কয়টি নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় দুর্গাপুর উপজেলায় প্লাবিত হয়েছে অন্তত ৩০টি গ্রাম। ডুবে গেছে ৫০০ হেক্টর ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

এদিকে সুরমা, কুশিয়ারা, মনু ও খোয়াই নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এসব এলাকার ৫০ হাজার পরিবারের দুলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি ওঠায় জেলার ২৮৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
 

 

Publisher : .