আইইএলটিএস সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন 

প্রকাশিত: ০৬:১৪, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

আপডেট: ০৬:১৪, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিদেশে উচ্চশিক্ষা, চাকরির বা ইমিগ্রেশনের জন্য নিজের যোগ্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রে প্রথমেই আসে আইইএলটিএস এর। বর্তমানে প্রতিবছর লাখো শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী উচ্চশিক্ষা, চাকরির ও ইমিগ্রেশনের জন্য অংশ নেন আইইএলটিএস পরীক্ষায়। গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে আইইএলটিএস এর মান অনেক বেশি স্বীকৃত। বিশ্বব্যাপী এই পরীক্ষা পরিচালনা ও শিক্ষার্থীদের কাছে তথ্য পৌছে দেওয়ার মূল ভূমিকায় রয়েছে বিট্রিশ কাউন্সিল ও আইডিপি।

বাইরের দেশে উচ্চশিক্ষা (স্নাতক, স্নাতকোত্তর অথবা পিএইচডি) এবং ইমিগ্রেশন/ চাকুরি/ব্যবসা ইত্যাদির উদ্দেশ্যে যেতে চাইলে এর প্রয়োজন পরে। সেক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার জন্য লাগে একাডেমিক। আর অন্য কোনো উদ্দেশ্যে জেনারেল পরীক্ষা দিতে হয়। এর জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন পরে না। যে কেউ এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। এ দুটির মধ্যে পার্থক্য খুব বেশি নয়। শুরুর দিকে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য এটি অপরিহার্য হলেও বর্তমানে পৃথিবির বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এটা লাগে। এই পরীক্ষার জন্য একজন প্রার্থীকে অবশ্যই ১৬ বছর বা তার বেশি হতে হবে।

পরীক্ষা পদ্ধতি ও প্রশ্ন কাঠামো
 
পরীক্ষা ২দিনে হয়। রেজিস্ট্রেশন করা হয় যে তারিখের জন্য সেই দিনে যথাক্রমে লিসেনিং, রিডিং এবং রাইটিং টেস্ট বিরতিহীন ভাবে নেয়া হয়। এই তারিখের আগে বা পরে কোনো এক দিন স্পিকিং টেস্ট নেয়া হয়। প্রতিটা টেস্টের এর জন্য স্কোর থাকবে ১-৯ স্কেলে এবং দক্ষতা অনুযায়ী প্রতিটা টেস্টে আলাদা আলাদা স্কোর প্রদান করে। পরে সেগুলির গড় করে মোট ব্যান্ড স্কোর প্রকাশ করা হয়।

পরীক্ষায় ২টি মডিউলে (একাডেমিক কিংবা জেনারেল) মূলত ৪টি অংশ থাকে-

লিসেনিং

এটি মূলত কথোপকথন শুনে বোঝার ক্ষমতা যাচাইকরন টেস্ট। এখানে সামনে প্রশ্নপত্র রেখে একটি পেসেজ ইংরেজীতে বাজিয়ে (অডিও) শোনানো হয়। অডিওটি শুনে ভালো ভাবে বুঝে, তার ভিত্তিতে উত্তর দিতে হয়। কিন্তু অডিওটির কোনো অংশ শুনে বুঝতে না পারলে, দ্বিতীয় বার শোনার কোনো সুযোগ নেই। কাজেই সেটি নিয়ে চিন্তা না করা বা মাথা না ঘামানোই শ্রেয়। ৩০ মিনিটের অডিওটির ৪টি বিভাগে ১০টি করে মোট ৪০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। প্রতিটির মান ১ ধরে কতটা সঠিক হলো তার উপর ভিত্তি করে ব্যান্ড স্কোর দেওয়া হয়।

রিডিং

এই টেস্টে ৩টি পেসেজ থাকবে এবং পেসেজ পড়ে উওর করতে হবে। এখানে মূলত পেসেজ পড়ে বোঝার ক্ষমতা যাচাই করা হয়। ৩টি বিভাগে মোট ৪০টি প্রশ্ন থাকবে এবং প্রতিটির মান ১ ধরা হবে। সময় থাকবে ১ ঘন্টা। পেসেজ থেকে বাক্য পূরণ, সংক্ষিপ্ত উত্তর, সঠিক উত্তর খুঁজে বের করা ইত্যাদি থাকবে।

এই অংশে একাডেমিক এবং জেনারেল এর মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। একাডেমিকের থেকে জেনারেল তুলনামূলক সহজ হয়। যেমনঃ একাডেমিকের পেসেজ বা আর্টিকেলটি জার্নাল, ম্যাগাজিন, বই থেকে আসে। অন্যদিকে জেনারেলে ম্যাগাজিন, পত্রিকা, বিজ্ঞাপন, বই অথবা হ্যান্ডআউট থেকে লেখা তুলে দিবে। একাডেমিকের মতো গবেষণা অথবা বিজ্ঞান বিষয়ক না, বরং দৈনন্দিন জীবনে মুখোমুখি হয় এমন বিষয়ই থাকবে জেনারেলে।

রাইটিং

এই টেস্টে সাধারণত কতটুকু কল্পনা শক্তি খাটাতে পারবে বা কোনো বিষয়ের উপর লিখতে পারবে তার পরীক্ষা করা হয়। এক ঘণ্টার মধ্যে দুটি প্রশ্নের উত্তর বা দুইটি পেসেজ লিখতে হবে। প্রথম প্রশ্নে একটি গ্রাফ, ডায়াগ্রাম, চার্ট, অথবা ম্যাপ দেওয়া থাকে যেটিকে নিজের কথায় বিশ্লেষণ করতে হবে। দ্বিতীয় প্রশ্নে একটি আর্গুমেন্ট অথবা স্টেটমেন্ট থাকবে সেটার উপর মতামত এবং সেটার পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে হবে।

একাডেমিক এবং জেনারেল -এর রাইটিং এ প্রথম প্রশ্নে একটু পার্থক্য রয়েছে। জেনারেল এর ক্ষেত্রে ডায়াগ্রাম, চার্ট ইত্যাদির জায়গায় একটি চিঠি লিখতে হয়; সেটি ফরমাল, ইনফরমাল অথবা পার্সোনাল হতে পারে। কিন্তু ২য় প্রশ্ন একই রকম হবে।

স্পিকিং

এই টেস্টের জন্য নির্দিষ্ট একটি দিনে পরীক্ষাস্থলে যেতে হয়। দুই-তিন জন পরীক্ষক থাকেন যারা ইংরেজীতে প্রশ্ন করেন। তিনটি অংশে ১১ থেকে ১৪ মিনিটের এই টেস্টে- প্রথম অংশে কিছু সাধারণ প্রশ্নের (যেমন পরিবার, পড়াশোনা, কাজ, বন্ধু ইত্যাদি) উত্তর দিতে হয়। দ্বিতীয় অংশে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে এবং দুই মিনিট কথা বলতে হয়। তৃতীয় অংশে পরীক্ষকের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে কথোপকথন বা প্রশ্ন-উওর চালাতে হয়, যেগুলো একটু বিশ্লেষণধর্মী হয়।

পরীক্ষার রুমে পাসপোর্ট, পেন বা পেন্সিল এবং লেভেল ফি পানির বোতল নেওয়া যাবে কিন্তু কোন প্রকার ইলেক্ট্রনিকস যন্ত্র বা কোন প্রকার ব্যাগ নেওয়া যাবে না।

আইইএলটিএস এর ফলাফল পরীক্ষার ১৩ দিন পরে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রকাশ করা হয়।পাসপোর্ট দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে টেস্ট রিপোর্ট ফর্ম সংগ্রহ করতে হয়। এছাড়া এখন ইন্টারনেট থেকেও পরীক্ষার ফলাফল সংগ্রহ করা যায়।

সাধারণত পরীক্ষার স্কোর পরীক্ষার দিন থেকে ২ বছরের জন্য বৈধ বলে বিবেচনা করা হয়। যদি টেস্ট রিপোর্ট ফরমটি ২ বছরের চেয়ে পুরনো হয়, তাহলে আরেকটি টেস্ট রিপোর্ট ফর্ম পেতে পুনরায় পরীক্ষা দিতে হবে।


 

FA/PBC

এই বিভাগের আরো খবর

ত্বকের লাবন্য ধরে রাখে মধু

অনলাইন ডেস্ক: মধু প্রকৃতির অন্যতম...

বিস্তারিত
নিমিষেই ক্লান্তি দূর করে গ্রিন টি

ডেস্ক রিপোর্ট: ক্লান্তির ছাপ মুছে...

বিস্তারিত
বিশ্বের দামি কফি

অনলাইন ডেস্ক: শরীরকে চাঙা করার জন্য...

বিস্তারিত
ঘরে তৈরি করুন মজাদার চিকেন পাই

অনলাইন ডেস্ক: বর্তমানে সবাই কম-বেশি...

বিস্তারিত
জবা ফুলের অবাক করা গুণ

অনলাইন ডেস্ক: সাধারণত শোভাবর্ধনকারী...

বিস্তারিত
সুস্বাদু দই-ইলিশের রেসিপি

ডেস্ক রিপোর্ট: ইলিশ ভাজা, ইলিশের...

বিস্তারিত
ত্বকের কালচে দাগ দূর করার উপায়

অনলাইন ডেস্ক: চেহারার যত্ন নিলেও...

বিস্তারিত
ঘরেই তৈরি করুন এয়ার ফ্রেশনার

অনলাইন ডেস্ক: ঘরের সতেজতা ধরে রাখে...

বিস্তারিত
চুলের যত্নে সেরা নারকেল তেল

ডেস্ক প্রতিবেদন: ত্বক ও চুলের যত্নে...

বিস্তারিত
নারকেলের সন্দেশের রেসিপি

অনলাইন ডেস্ক: নারকেল দিয়ে বিভিন্ন...

বিস্তারিত
১২ বছরে দৈনিক ৩০ মিনিট ঘুম !!

ফারুক হোসাইন: জাপানের দাইসুকি হরি...

বিস্তারিত
হজমের সমস্যার সমাধান  

ফারুক হোসাইন: আমাদের অনেকেরই হজমের...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *