রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর 

প্রকাশিত: ১০:৩২, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

আপডেট: ১০:৪৩, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতিসংঘে দেশান্তরিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মিয়ানমারের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বহুপক্ষীয় তৎপরতার পরও দেশটি বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়নি।

তিনি বলেন, গত চার বছর ধরে আমরা এই উচ্চাশাই পোষণ করে আসছিলাম যে এই সব স্থানচ্যূত লোকজন নিজেদের দেশ, তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদে, সুরক্ষিত ভাবে সসম্মানে ফেরত যেতে পারবে। তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক সমাবেশে এবং আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আস্থা রেখেছিলাম। তবে তিনি দুঃখের সঙ্গে বলেন, আমাদের কথা শোনা হয়নি, আমাদের আশা অপূর্ণই থেকে গেছে। আমরা এখন এই সংকটের পঞ্চম বছরে রয়েছি, আমরা এখনও আশা করি এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান হবে।

প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বাংলাদেশের চিন্তাধারাগুলো বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রথমত শীর্ষ অগ্রাধিকার হচ্ছে রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। আর সেই লক্ষ্যেই আমাদের কাজ করে যেতে হবে। দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারকেও এই সংকটের সমাধান বের করতে হবে। তৃতীয়ত, এ বিষয়ে আমরা মনে করি আসিয়ানের একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে এবং তিনি মনে করেন মিয়ানমার বিষয়ক আসিয়ান দূতের নিয়োগ এই প্রত্যাবসনকে তাদের কর্মসূচিতে শীর্ষে স্থান দেবে। 

তিনি বলেন, আসিয়ানকে মিয়ানমারে এমন আস্থা তৈরি করাতে হবে যাতে করে রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে যেতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। চতুর্থত, আমাদের মনে রাখতে মানবিক সহযোগিতা অত্যাবশ্যক তবে এটা কোন ক্রমেই স্থায়ী কোন সমাধান নয়; জাতিসংঘ এবং শরীকদের গ্রহণযোগ্য এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে করে মিয়ানমারে এমন পরিবেশ তৈরি করা যায় যা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উপযোগী হয়। এ পর্যন্ত আমরা এমন কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করিনি। পঞ্চমত, রোহিঙ্গাদের উপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে তার জবাবদিহিতা গুরুত্বপূর্ণ কারণ তাতে রোহিঙ্গাদের মনে এই আস্থা জন্মাবে। কোন ভাবেই এই ঘৃণ্য অপরাধকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যায় না। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতসহ সব ক্ষেত্রেই মিয়ানমারের জবাবদিহিতাকে বাংলাদেশ সমর্থন করে।

তিনি বলেন ২০১৭ সালে যখন মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ লোক বাংলাদেশে আসতে থাকে, শুরু হয় এই সংকট তখন আমাদের কাছে দুটি বিকল্প ছিল, তাদের জীবন রক্ষা করা অথবা সীমান্ত বন্ধ করে তাদেরকে জাতিগোষ্ঠিগত ভাবে নির্মূল হতে দেওয়া। আমরা মানবিক কারণে তাদের জীবন রক্ষা করার বিকল্পটিই গ্রহণ করলাম। 

শেখ হাসিনা বলেন সেই ২০১৭ সাল থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সব অধিবেশনে বৈঠকে এই সংকট নিরসনের জন্য তিনি এই সমস্যার টেকসই সমাধানের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়ে আসছেন। তিনি এ কথাও স্মরণ করিয়ে দেন যে তাঁর সরকার মিয়ানমাারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছেন। তিনি বলেন, বহু পাক্ষিক দিক থেকেও আমরা বিভিন্ন দেশ ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সামনে সমস্যাটি তুলে ধরেছি। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের এত প্রচেষ্টা মিয়ানমারের নাগরিকদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পক্ষে কোন সুফল আনতে পারেনি। তিনি বলেন আজ পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও তাদের স্বদেশে ফিরে যেতে পারেনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সম্পদ ও ভূমির সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা বাংলাদেশে তাদের অবস্থানকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখার জন্য সব রকমের চেষ্টা চালিয়েছি। তিনি ছোট্ট জায়গায় এই বিপুল সংখ্যক লোকের অবস্থান আশাপাশের পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে যে প্রতিকুল প্রভাব ফেলছে সে কথা ও তুলে ধরেন। 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে এই কভিড-১৯ এর চ্যালেঞ্জের মুখেও বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দিকে দৃষ্টি রেখেছে। তিনি বলেন রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যাবার কথাও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন , আমরা আমাদের নিজস্ব বাজেট থেকে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে ভাসানচরের উন্নতি সাধন করেছি এবং সেখানে যথার্থ অবকাঠামো নির্মাণ করেছি। তিনি আশা করেন শিগগিরই ভাসানচরে জাতিসংঘের কর্মতৎপরতা শুরু হবে।

তিনি বলেন, এই বিষয়ে বিলম্ব হলে আমাদের সম্মিলিত নিরাপত্তা ও বিঘিœত হবে। তিনি বলেন, তাদের হতাশার কারণে তারা উগ্রবাদি আদর্শের সহজ শিকারে পরিণত হতে পারে। আর এর ফলে গোটা অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার আশংকাও রয়ে গেছে। সুতরাং প্রকৃতত পক্ষে জরুরি ভিত্তিতে আমাদের এখনই কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধান সহযোগীদের এই আয়োজনে উপস্থিত দেখতে পেয়ে তিনি উৎসাহ বোধ করছেন। তিনি আশা করেন সকলেই এই গুরুতর সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের সঙ্গেই থাকবেন। তিনি বলেন, কথার ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রায়োগিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

MHS/PBC

এই বিভাগের আরো খবর

ফেনী ও রংপুরের এসপিকে বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ পুলিশের ৭...

বিস্তারিত
শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
৬ মাসে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  গত ৬ মাসে দেশের...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *