শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলার ১০ জনকে গুলি করে মৃত্যুদণ্ডের রায় আপডেট: ০৫:৩৪, ২০ আগস্ট ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ১০ জনকে গুলি করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত। একই ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক দ্রব্য মামলায় আদালত ৯ জনকে ২০ বছরের কারাদণ্ডও দিয়েছে। আজ রোববার ঢাকার ২ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মমতাজ বেগম এ রায় ঘোষণা করেন।

২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান মহাবিদ্যালয়ের উত্তর পাশে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার মঞ্চ নির্মাণের সময় মাটিতে পুঁতে রাখা ৭৬ কেজি ওজনের বোমা উদ্ধার হয়। পরদিন কোটালীপাড়া হেলিপ্যাড থেকে উদ্ধার করা হয় ৮০ কেজি ওজনের আরো একটি শক্তিশালী বোমা।

২০০১ সালের ৮ এপ্রিল আটজনকে আসামি করে মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়। পরে ২০০৯ সালের ২৯ জুন আরো নয়জনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে সম্পূরক চার্জশিট দেয়া হয়।

এর পর, হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা মামলা দুটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ যথাক্রমে ২৫ জন ও ১৪ জনকে আসমি করে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে মামলা দুটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

পরে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে মামলা দুটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ২৫ জন আসামির বিরুদ্ধে হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে অন্য মামলায়। বাকি ২৪ জন আসামির মধ্যে ১২ জন কারাগারে আর বাকি ১২ জন পলাতক।

৮৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ, রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রোববার হত্যা চেষ্টা মামলায় ২৪ জন আসামির মধ্যে ১০ জনকে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, ৩ জনের ১৪ বছর কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ জনকে খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা করে ঢাকা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় ১৩ জনের মধ্যে ৯ জনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড ও চারজনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

মামলা দুটিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন খন্দকার আব্দুল মান্নান, এবং আসামী পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন ফারুক আহম্মদ।

মামলার অন্যতম আসামি মুফতি হান্নানের অন্য একটি মামলায় এরইমধ্যে ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় তার নাম দুই মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।