রাজধানীতে সক্রিয় কিশোর গ্যাং, বাড়ছে অপরাধ আপডেট: ১২:৫৯, ২০ আগস্ট ২০১৭

বিশেষ প্রতিবেদন: রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো সক্রিয় কিশোর গ্যাং। উত্তরায় কিশোর আদনান হত্যা মামলার আসামি ‘ডিসকো বয়ে’স ও 'নাইন এমএম' গ্রুপের দুই সদস্য জামিনে বেরিয়ে হুমকি দিচ্ছে আদনানের পরিবারকে। এখনও এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া এ দুই গ্রুপ।

এ ছাড়া মিরপুরেও সক্রিয় সজীব হত্যায় জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া কিশোর অপরাধীদের তৎপরতা বন্ধ করা সম্ভব নয়।

এ বছরের শুরুতে উত্তরার কিশোর আদনান ও মিরপুরের সজীব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে সবার নজরে আসে কিশোর গ্যাংগুলোর বেপরোয়া কর্মকাণ্ড।

ডিসকো বয়েস, বিগ বস, নাইনএমএম, দাদা বয়েস-- এমন নানা নামে চলে এসব গ্রুপের তৎপরতা। আবার নিজেদের মধ্যেও উপগ্রুপে  বিভক্ত এই গ্যাংগুলো।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক কয়েকজন গ্রেপ্তারের পর এসব গ্রুপের তৎপরতা কিছুটা কমে যায়।

তবে সম্প্রতি আদনান হত্যার মূল দুই অভিযুক্ত ‘ডিসকো বয়ে’স গ্রুপের নাফিজ আলম ডন ও নাইন এমএম গ্রুপের পোটলা বাবু জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে আদনানের পরিবারকে। এ নিয়ে থানায় জিডিও করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগি পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আদনান হত্যার বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতিতে এগুচ্ছে। সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় পরিবারের সদস্যরা।

কেবল আদনানের পরিবার নয়, তাদের নানা অপকর্মে অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীরা বলেন, বর্তমানে কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা অনেক তৎপর। তাদের অভিমত অপরাধ রুখতে সন্তানদের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কিশোর অপরাধ সমাজ থেকে নির্মূল হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

উঠতি বয়সি এসব বখাটে কিশোরদের নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার বলে মনে করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ।

মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আহম্মদ বলেন, কিশোর অপরাধকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে অন্যান্য অপরাধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাবে। এ ধরণের অপরাধকে প্রতিহত করতে প্রতিটি পরিবারকে সচেতন হতে হবে এবং পরিবার থেকেই আন্দেলন শুরু করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি ও প্রচারণার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।