হাসপাতালের মালামাল গায়েব; সিআইডির তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশিত: ০২:২৩, ১৬ নভেম্বর ২০২১

আপডেট: ০৪:৫৪, ১৬ নভেম্বর ২০২১

আশিক মাহমুদ: রাজধানীতে একটি বেসরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ও মালামাল রাতের বেলায় সরিয়ে ফেলে হাসপাতালটির এক অংশীদার। এ ঘটনায় অন্য দুই অংশীদার আদালতে মামলা করলে তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। তাদের দু'দফা তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয় মালামাল সরানো হয়েছে দিনের বেলা। অথচ মামলার বাদি, আসামি, সাক্ষী সবাই বলেছে হাসপাতালের মালামাল সরানো হয়েছে মধ্যরাতে। তাই সিআইডির তদন্ত নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দুই পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে প্রথম পর্ব। 

রাজধানীর নতুনবাজার ১০০ ফুট সড়কের পাশে এই ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে ল্যাবকো জেনারেল হাসপাতাল এ্যান্ড ডায়াগনেস্টিক সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন মফছেনা আক্তার ও তার স্বামী রুহুল আমিন। পরে শামসুদ্দিন নামে আরেকজনকে হাসপাতালের ৪০ শতাংশ অংশীদার করেন তারা। 

২০১৯ সালের ২৩শে ডিসেম্বর মধ্যরাতে হাসপাতালটির ২০ শতাংশের মালিক রুহুল আমিন বাড়ির মালিককে ভাড়া বাবদ বকেয়া ২৭ লাখ টাকার চেক দিয়ে সব মালামাল রাতের বেলা ট্রাকে করে নিয়ে যান। এর দু'দিন পর স্ত্রী মফছেনা বেগমকে তালাক দেন রুহুল আমিন।

মালামাল সরিয়ে নেয়ার পর অন্য দুই মালিক ভাটারা থানায় মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে ঢাকার সিএমএম কোর্টে রুহুল আমিন, বাড়ির মালিক মজিবর রহমানসহ ৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন মফছেনা। আদালত সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। প্রথমে সিআইডির পরিদর্শক আব্দুল লতিফ ও পরে এএসপি জাহাঙ্গীর হোসেন তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেন। দুটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ঘটনা রাতে নয় ঘটেছে দিনে। মামলার নথিপত্র  বাদি, সাক্ষী এবং বাড়ির মালিক মামলার ২ নম্বর আসামি বৈশাখী টেলিভিনকে  রাত ১০টার পর থেকে শেষ রাত পর্যন্ত রুহুল আমিন কয়েকটি ট্রাকে করে মালামাল নিয়ে গেছে।

সাভারের হেমায়েতপুরের এই ভবনের দুই তলায় হাসপাতাল বানানো জন্য মালামালগুলো রেখেছেন রুহুল আমিন। তবে এই ভবনের মালিক ক্যামেরার সামনে এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি। 

এ ব্যাপারে রুহুল আমিনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হয়। মোবাইল ফোনে তিনি এই প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানালেও পরে আর ফোন ধরেননি।

AM/MSI

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *

loading...
loading...