খালেদা জিয়ার অসুস্থতা, মেডিকেল বোর্ডের ভাষ্য

প্রকাশিত: ০৫:৩৭, ০১ ডিসেম্বর ২০২১

আপডেট: ০৯:২৫, ০১ ডিসেম্বর ২০২১

ডেস্ক প্রতিবেদন: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। তাঁর দলের ভাষ্য, খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থায় তাঁকে দ্রুত বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো দরকার। তবে, সরকার বলছে ভিন্ন কথা। এরমধ্যে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে তাঁর মেডিকেল বোর্ড বক্তব্য দিলেও, এবারই প্রথম লিখিত ভাষ্য জানিয়েছে।

মেডিকেল বোর্ডের অন্যতম চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ এফ এম সিদ্দিকী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বহুদিন ধরে নানা রোগে আক্রান্ত। তিনি গত ১২ই নভেম্বর দুর্বলতা অনুভব করলে তাঁকে পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে লিভারের সমস্যার কথা বিবেচনায় নিয়েই ১৩ই নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি করনো হয়। ওইদিন রাত ৯টা ২০ মিনিটে খুবই রক্ত বমি হয়। বোঝা যায় যে তাঁর খাদ্যনালীতে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাঁকে জীবন রক্ষার উদ্দেশ্যে দ্রুত রক্ত ও প্লাজমা ফ্লুইড দেয়া হয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি খুবই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অধ্যাপক অধ্যাপক ডাঃ শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দ্রুত এন্ডোসকপির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা শুরু হয় এবং ৬টি জায়গায় Band Ligation এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক রক্তক্ষরণ বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সেই মুহূর্তে তিনি Shock এ চলে গিয়েছিলেন এবং তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়ার ফলে সেই যাত্রায় জীবন রক্ষা পায়। বেগম খালেদা জিয়া ডায়াবেটিস ও হার্ট ফেইলিয়রের রোগী। উনার হার্ট ফেইলিয়র এমন পর্যায়ে থাকে যেকোনো ডিকম্পেসেশন হলে হার্ট ফেইলিয়র হয়। তবুও দীর্ঘ সময় প্রচেষ্টার ফলে পরিপাকতন্ত্রের রক্তক্ষরণ বন্ধ করা সম্ভব হয়। এরপর নতুন ওষুধ দিয়ে তাঁকে তিনদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। 

১৭ই নভেম্বরের পর আবারও তাঁর রক্তক্ষরণ হলে হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করা হয়। কারণ প্রথমবার ১৩ই নভেম্বর হিমোগ্লোমিন ৫.৪ এ নেমে গিয়েছিলো। ৪ ব্যাগ রক্ত দিয়ে ৯ পর্যন্ত উঠেছিল। আবার সেটা ৭ এ নেমে আসে। এরপরই জীবন রক্ষার্থে অবিরত আইভি ইনফিউশন দেয়া হয়। ব্লাডও দিতে হয়েছে বেশ কয়েকবার। এভাবে তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হয়। ২১শে নভেম্বর থেকে আবারও তাঁর স্বাস্থ্যগত অবস্থার অবনতি হতে থাকে, ২৩শে নভেম্বর ব্যাপক অবনতি হয়। তার Haematemesis and melena হয়, ব্লাড প্রেশার ও হিমোগ্লোবিন কমে যায়, পুরো Colon জমাট বাধা রক্তে পূর্ণ হয়ে যায়। ২৪শে নভেম্বর রাতে তাঁকে আবার জেনারেল ওটিতে নেয়া হয় যাতে সিরিয়াস কিছু হলে তাৎক্ষনিক কিছু ব্যবস্থা নেয়া যায়। ঐ দিন অধ্যাপক ডাঃ মহসিন ও অধ্যাপক ডাঃ শামসুল আরেফিন এর মাধ্যমে তাঁর Endoscopy and Colonoscopy করা হয়। এ সকল প্রক্রিয়া অবলম্বন করার ফলে তাঁর রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়। তবে এসকল রোগীর পূণ:রক্তক্ষরণ খুবই স্বাভাবিক (প্রথম সপ্তাহে শতকরা ৫০ ভাগ এবং ৬ সপ্তাহের মধ্যে যা শতকরা ৭০ ভাগ)। পরবর্তীতে পূণ:রক্তক্ষরণে খালেদা জিয়ার মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। কারণ রক্তক্ষরণ বন্ধের জন্য আমাদের দেশে যে প্রযুক্তি আছে তা ইতিমধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে প্রয়োগ করা হয়েছে (Band Ligation), এছাড়া যে সমস্ত আধুনিক পদ্ধতি যেমন TIPS প্রযুক্তি আমাদের দেশে নেই, এমনকি উপমহাদেশের বা এশিয়ার অন্য কোনো দেশেও  নেই। এই প্রযুক্তিটি শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির সুনির্দিষ্ট কয়েকটি হাসপাতালে রয়েছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে উল্লেখিত দেশের উন্নত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে নতুবা পরবর্তীতে স্থানান্তর করাও মুশকিল হয়ে যাবে। 

বেগম খালেদা জিয়া গত এপ্রিল মাস থেকে প্রথম দফায় ৫৬ দিন এবং দ্বিতীয় দফায় ২৬ দিন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
 

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *

loading...
loading...