করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে চুইংগাম উদ্ভাবন

প্রকাশিত: ১২:৩২, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১

আপডেট: ১২:৩২, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের চুইং গাম তৈরি করছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা সাময়িকী মলিকিউলার থেরাপিতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের একটি চুইং গাম তৈরি করছেন বিজ্ঞানীরা, যা মুখের ভেতরে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসকে আটকে দেয়ার ফাঁদ হিসেবে কাজ করে। লালারসের মধ্যে করোনাভাইরাস রোধে এবং সম্ভাব্য সংক্রমণ কমাতে ভূমিকা রাখবে এই চুইং গাম। এমন দাবি করছেন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী।

গবেষকদলের প্রধান অধ্যাপক হেনরি ডেনিয়েল বলেন, সার্স-কোভ-২ ভাইরাস লালা গ্রন্থিগুলোতে প্রতিলিপি তৈরি করে এবং আমরা জানি যে, সংক্রমিত কেউ যখন হাঁচি, কাশি দেন অথবা কথা বলেন তখন সেই ভাইরাস বেরিয়ে যেতে পারে এবং অন্যদের কাছেও পৌঁছাতে পারে। ডেনিয়েল আরো বলেন, এই চুইং গাম ভাইরাসকে মুখের ভেতরের লালারসের মধ্যে আটকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। যা এই রোগের সংক্রমণের উৎস কমাতে সম্ভাব্য সহজ উপায় হিসেবে কাজ করে। 

এর আগে দাঁতের ওপর জমে যাওয়া ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ব্যবহার একটি চুইং গাম তৈরির গবেষণা করেছিলেন ডেনিয়েল এবং তার সহকর্মী হিউন কু। একই ধরনের প্রোটিন থেকে তৈরি চুইং গাম মুখের ভেতরে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসকে নিস্ক্রিয় করতে পারে কিনা তা জানার চেষ্টা করছিলেন তারা। চুইংগাম পরীক্ষা করার জন্য গবেষক দল প্রথমে উদ্ভিদের মধ্যে এসিই-২ তৈরি করে। পরে সেটি অন্য একটি যৌগের সাথে যুক্ত করা হয়; যা প্রোটিনকে মিউকোসাল বাধা অতিক্রমে সক্ষম করে তোলে।

গবেষকরা দারুচিনির স্বাদযুক্ত গাম ট্যাবলটে উদ্ভিদের উপাদানগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। পরে তা করোনা পজিটিভ রোগীদের কাছ থেকে গামের মাধ্যমে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষায় দেখা যায়, মুখের লালারসের মধ্যে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসকে নিস্ক্রিয় এবং কম সংক্রামক করতে  সক্ষম। বিজ্ঞানীদের দাবি, তাদের তৈরি বিশেষ এই চুইং গাম মূলত ভাইরাস অথবা ভাইরাল কণাকে কোষে প্রবেশ করতে বাঁধা দেয়। এতে তারা দেখতে পান, ভাইরাল আরএনএর মাত্রা এতটাই নাটকীয়ভাবে কমে গেছে যে, তা প্রায় শনাক্তই করা যায় না।

বর্তমানে গবেষক দলটি করোনা সংক্রমিত ব্যক্তিদের নমুনা পরীক্ষার জন্য এই পদ্ধতি নিরাপদ এবং কার্যকর কিনা তা মূল্যায়ন করার জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানোর অনুমতি পেতে কাজ করছেন। যদি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে চুইং গাম নিরাপদ এবং কার্যকর প্রমাণিত হয়, তাহলে যাার এখনো করোনায় আক্রান্ত নন, একইসাথে যারা আক্রান্তদের সেবা দেন তাদের শরীরে করোনা প্রতিরোধক হিসেবে এটি দেওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

FI/MSI

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *

loading...
loading...