কণ্ঠযোদ্ধা জব্বারের গান উদ্বুদ্ধ করতো মুক্তিযোদ্ধাদের আপডেট: ০৮:৫৩, ৩০ আগস্ট ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: ষাট ও সত্তর দশকের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী, আব্দুল জব্বার। যার অসাধারণ  কন্ঠ ছুয়ে যেত দর্শক শ্রোতার মন। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত তার গাওয়া অনেক গান উদ্বুদ্ধ করতো মুক্তিযোদ্ধাদের।

একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত গুণী এই শিল্পীর চলে যাওয়ায় যেন সঙ্গীত জগতে তৈরি হলো অপূরনীয় ক্ষতি। ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে গান গাওয়া দিয়ে শুরু সঙ্গীত জীবনের। শেষ অবদী পর্যন্ত ছিলেন একজন শিল্পী হয়েই।

জয় বাংলা, বাংলার জয়, "সালাম সালাম হাজার সালাম" তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়, ও রে নীল দরিয়া এমন অসংখ্যা কালজয়ী গানের শিল্পী আবদুল জব্বার। জন্ম ১৯৩৮ সালে কুষ্টিয়ায়। ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে গান গাওয়া দিয়ে শুরু সঙ্গীত জীবনের।

এরপর ১৯৬২ সালে প্রথম চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু।১৯৬৪ সাল থেকে বিটিভির নিয়মিত গায়ক হয়ে ওঠেন শিল্পী আবদুল জব্বার।

১৯৬৪ সালে জহির রায়হান পরিচালিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গিন চলচ্চিত্র সঙ্গম-এর গানে কণ্ঠ দেন তিনি। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি এই শিল্পীকে। গুণী এই শিল্পীর গাওয়া অসংখ্য কালজয়ী গান একাত্তরে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় প্রেরণা ও মনোবল বাড়িয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের।

৭১ এ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত তৈরিতে আবদুল জব্বার প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে সাথে নিয়ে চষে বেড়িয়েছেন ভারতের মুম্বাইসহ বিভিন্ন এলাকায়। তুলে ধরেছেন পাকহানাদার বাহিনীর বর্বর নির্যাতনের চিত্র।

একাত্তরে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮০ সালে একুশে পদক পান গুণী এই শিল্প। আর ৯৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন আবদুল জব্বার। জনপ্রিয় ও কালজয়ী অসংখ্য গানের মধ্যে দিয়েই বেঁচে থাকবেন কিংবদন্তী এই কণ্ঠশিল্পী।