দেশে বেড়েই চলেছে কিশোর অপরাধীর সংখ্যা আপডেট: ০৪:৫৫, ১৫ মার্চ ২০১৭

অপরাধ সংঘটনের সাথে কখনো কখনো কিশোর-কিশোরীদের জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। চুরি-ছিনতাইয়ে এদের অংশগ্রহণ দেখা গেলেও, খুন-ধর্ষণের মতো ভয়ংকর অপরাধে সম্পৃক্ততা কমই জানা যেতো। সাম্প্রতিক কালে এমন গুরুতর অপরাধে কিশোর-কিশোরীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। 

কৈশোরে পা ফেলার সাথে সাথে একজন ছেলে বা মেয়ের পরিবারের আঙিনায় বেড়ে ওঠার বাইরে নিজের স্বাধীন চিন্তার  জগৎ গড়ে উঠতে থাকে। তেমনি ঘরের বাইরে ও বন্ধু-বান্ধব এবং সমাজের নানা মানুষের সাথে আরেকটি নতুন সম্পর্কের জাল বিস্তৃত হতে থাকে। এ সময় বাইরের জগতের প্রভাবে কে কী ধরনের পরিবেশে বেড়ে উঠছে তা যেমন অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তেমনি পরিবারের জন্য এক বড় উদ্বেগের সময়। এ সময়ের নানা ছোটখাটো বিচ্যুতি থেকে কিশোর-কিশোরীরা বড় ধরনের অঘটন বা অপরাধ সংঘটনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনিষ্টিটিউট-এর মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেখলা সরকার।

কয়েক বছর আগে, এক কিশোরীর বিরুদ্ধে তার পুলিশ বাবা এবং মাকে হত্যার অভিযোগ দারুণ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল দেশ জুড়ে। গত জানুয়ারি মাসে ১২ দিনের ব্যবধানে রাজধানীতে দু দল কিশোরের হাতে দুই কিশোর নৃশংসভাবে নিহত হয়।ফেব্রয়ারি ও মার্চ মাসে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকে বড়দের হাতে এক কিশোরের মৃত্যু ও আরেকজনের জখম হবার ঘটনা ভীষণ উদ্বেগের সাথে আলোচনায় উঠে এসেছে।

অপরাধের সাথে কিশোর-কিশোরীদের জড়িয়ে পড়ার ঘটনা কী হারে বাড়ছে, এসব নিয়ে সুস্পষ্ট পরিসংখ্যান পুলিশের কাছে পাওয়া যায়নি।তবে, শুধু গেল ফেব্রুয়ারি মাসের এক হিসেবে দেখা যায় দেশের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে অপরাধের অভিযোগে আটক হওয়া কিশোর-কিশোরীর সংখ্যা ৬৮৮ জন। তবে, উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তা মো. শাহজাহানের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অপরাধের সাথে সমাজের সব পর্যায়ের কিশোর-কিশোরীর সম্পৃক্ততা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। 

সমাজে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগের দুরত্ব ,নিঃসঙ্গতা ,নানা ধরনের প্রলোভনের হাতছানি এবং সহিংস মানসিকতাসহ আরো কত কারণে কিশোর-কিশোরীরা অপরাধে জড়াচ্ছে তা জানতে গভীর গবেষণার তাগিদ দেন বিশেষজ্ঞরা।

 

Publisher : .