উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সফলতার আড়ালে আছে অনেক সীমাবদ্ধতা আপডেট: ০৪:৪০, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বিশেষ প্রতিবেদন: দেশের উন্মুক্ত এবং দূরশিক্ষায় সফলতার আড়ালে আছে অনেক সীমাবদ্ধতার গল্প। পাঠ তৈরির জন্য আছে অত্যাধুনিক স্টুডিও, কিন্তু সেগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য নেই যথাযথ আয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার সুবিধা শতভাগ কাজে লাগানো হচ্ছে না। এ ছাড়া পরীক্ষা, ফল প্রকাশ, পাঠ্যপুস্তক বিতরণ সময়মতো না হওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যার কথাও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

রাজিয়া-- এ বছর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছেন। ক্লাস শুরু হওয়ার সাত মাস পরে সৃজনশীল পদ্ধতির পাঠ্যবই হাতে পান। ফলে পরীক্ষার প্রস্তুতি বিঘ্নিত হয়।

বই সময়মতো না পাওয়ায় রাজিয়ার মতো অনেক শিক্ষার্থীই এধরনের অভিযোগ করেছেন। পরীক্ষার ফল দেরিতে  প্রকাশের  অভিযোগ  রয়েছে । আর ফল নিয়ে সমস্যা হলে ঝুলে যায় অনিশ্চিত সময়ের জন্য।

গাজীপুরের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একটি অত্যাধুনিক স্টুডিও আছে। যেখানে আধুনিক মানের অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং-এর  মাধ্যমে ক্লাস করানো ও পাঠদান সম্ভব। টেলিভিশন, বেতার ও ইনটারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের হাতের মুঠোয় সে-শিক্ষা পৌঁছে যেতে পারে মূহূর্তে।

শুধু উন্মুক্ত বিশ্বাবদ্যালয়ের পাঠদানের জন্য ২৪ ঘন্টার শিক্ষামূলক একটি টেলিভিশন চ্যানেল চালু করার কথা থাকলেও আজও তা সম্ভব হয়নি, যা উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যায়ের দূরবর্তী শিক্ষাদান প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত গতি আনার ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধকতা।

উন্মুক্ত শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে আরো অনেক সম্ভাবনার জায়গা রয়েছে, যেগুলোকে কাজে লাগানো হচ্ছে না।

বিশ্বদ্যিালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, টেলিভিশনগুলোতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রোগ্রাম আরো বাড়াতে হবে। অথবা এর জন্য একটা নির্দিষ্ট টেলিভিশন থাকা উচিত, যেখানে ২৪ ঘন্টা এটাই চলবে।

তবে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে দেরিতে বই দেয়া, ফল প্রকাশে বিলম্বসহ নানা অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে অনাগ্রহী। তাদের দাবি-- সকল কার্যক্রমকে গতিশীল করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।