মাত্র ৮৫০ মানসিক রোগীর আবাসিক চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে দেশে আপডেট: ১২:৩৬, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বিশেষ প্রতিবেদন: ১৬ কেটি মানুষের দেশে ৩২ শতাংশ কোনো না কোনো ভাবে মানসিক রোগী হলেও সংখ্যায় তা পাঁচ কোটির বোশি। কিন্তু মাত্র সাড়ে ৮০০ রোগীর আবাসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে দেশের সকল আয়োজন মিলিয়ে।

জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে যে বরাদ্দ হয়, তাতে অতি নগন্য পরিমাণ থাকে মানসিক স্বাস্থ্য খাতের জন্য। এই খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, হতাশাজনক বর্তমান বাস্তবতার পরিবর্তন জরুরি।

ষাট বছর আগে পাবনার হেমায়েতপুরে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতাল এখন পর্যন্ত মানসিক রোগের চিকিৎসার জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান।

সতের বছর আগে ঢাকার শ্যামলীতে আরেকটি মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান হয়। এছাড়া সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে এ বিষয়ে আছে আলাদা বিভাগ।

এই রোগের চিকিৎসার জন্য আবাসিক আয়োজন খুবই প্রয়োজন। অথচ, সব মিলিয়ে আছে মাত্র সাড়ে ৮০০।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সাড়ে ৮০০ শয্যা সরকারিভাবে রয়েছে ১৬ কোটি মানুষের জন্য । মানসিক স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ মোট স্বাস্থ্য বাজেটের .৪৪ শতাংশ যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।’   

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাইকোথেরাপি প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, ‘মানসিক রোগীর সংখ্যা দিন দিন যে হারে বাড়ছে তাতে আমরা ভীত । অপ্রতুল বরাদ্দ দিয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়বে। ’

পাবনার মানসিক হাসপাতাল ছয় দশকের পুরনো হলেও আজো এখানে সেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আয়োজনের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। চিকিৎসার আধুনিকায়ন থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি জর্জরিত নানান সমস্যায়।

পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাস জানান, হাসপাতালটিতে ৫০০ শয্যার জন্য রয়েছে মাত্র চার জন চিকিৎসক। এছাড়াও নেই কোনো কনসাল্টেন্ট।

ঢাকার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটেও চাহিদার তুলনায় সেবা দেবার সক্ষমতাও কম।

মানসিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও রোগের চিকিৎসা দিতে সরকারি আয়োজন অপর্যাপ্ত থাকায় এই সেবা খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, বেসরকারি হাসপাতালগুলো এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসলে ঘাটতি কিছুটা কমতে পারে।

এ ব্যাপারে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এর সহকারী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে অবকাঠামোর সংখ্যা বাড়াতে হবে। একই সাথে আমাদের ২১০ জন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন , তাদের সংখ্যাও বৃদ্ধি করতে হবে। ’

মানসিক রোগের চিকিৎসায় মনোবিজ্ঞানীদের কাউন্সিলিং বা নিবিড় পরিচর্যা জরুরী হলেও এ ক্ষেত্রে রয়েছে ভীষণ দুর্বলতা। এসব নিয়ে মানুষের জানার পরিধিটাও বিস্তৃত না থাকায় অনেকে পৌছাতে পারেন না সঠিক জায়গায়।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এর সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. জিল্লুর রহমান খান জানান, মানসিক রোগ মস্তিষ্কের রোগ। শারীরিক রোগের মতোই এর বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা রয়েছে। চিকিৎসা করলে রোগীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে।    

অপ্রতুল মানসিক স্বাস্থ্য সেবা মূলত শহরকেন্দ্রীক। দেশের বিপুল গ্রামীণ জনপদ এই সেবা থেকে শুধু বঞ্চিতই নয়, এ বিষয়ে তথ্যের অভাবেও থাকে। ফলে বিপুল জনগোষ্ঠিকে এই সেবা ও সচেতনতার আওতায় আনার মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন জরুরী বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।    

নানাভাবে মানসিক রোগে আক্রান্ত এসব মানুষের প্রতি করুণা বা দয়া নয়, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের আন্তরিক আচরণ এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি মানসিক রোগীদের সুস্থ হওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ । যথাযথ চিকিৎসা এবং সমাজের নাগরিক সচেতনতায় এরা ফিরে আসতে পারে সমাজের মূলধারায়।