রোহিঙ্গাদের পারাপার ও আশ্রয়দানে সক্রিয় এক শ্রেণীর দালাল চক্র আপডেট: ০৮:২৬, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

কক্সবাজার প্রতিনিধি: রোহিঙ্গাদের পারাপার ও আশ্রয় দেয়ার জন্য কক্সবাজারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দালাল চক্র। অর্থের বিনিময়ে এরা মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের নাফ নদী পারপার ও টেকনাফ উখিয়ার বিভিন্ন সীমান্তে পৌঁছে দিচ্ছে।

এই দালালরাই রোহিঙ্গাদের পথ দেখিয়ে নিচ্ছে বিভিন্ন জনপদে। শতাধিক দালালকে আটক এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল-জরিমানার দণ্ডও দেয়া হয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে। কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্তের পাশাপাশি নাফ নদী ও সাগরপথেও আসছে তারা। বিপদগ্রস্ত এসব রোহিঙ্গাকে সীমান্ত পার করে দেওয়া কিংবা নদী ও সাগরপথে নৌকায় পারাপারের জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে এক শ্রেণীর দালাল।

অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের সীমান্ত পার করে দিচ্ছে তারা। টাকা দিতে না পারলে স্বর্ণালঙ্কার থেকে শুরু করে এমনকি গবাদিপশু পর্যন্ত আদায় করছে দালালরা। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অভিযোগ-- পারাপারের জন্যে পাঁচ থেকে দশ হাজার করে টাকা দিতে হচ্ছে  দালালদের।

দালালদের সাহাজ্য নিয়ে অ স্থানীয়দের সঙ্গে আত্মীয়তার সুযোগ নিয়ে অনেক রোহিঙ্গা সীমান্ত এলাকা থেকে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন লোকালয়ে, এমনকি বিভিন্ন শহরেও।

এদিকে দালালদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। মোবাইল কোর্টে সাজা দেয়া হয়েছে অনেককে। সব জায়গায় মোবাইল কোর্টের টিম যেতে না পারলেও, প্রায় শতাধিক দালালকে ইতোমধ্যেই আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে জেল দেয়া হয়েছে বলে জানান জেলার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদ।

এ ছাড়াও দালালদের সহায়তায় রোহিঙ্গারা যাতে লোকালয়ে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য প্রয়োজনীয় নজরদারি রয়েছে বলে জানান কক্সবাজার পুলিশ সুপার ড. এ. কে. এম. ইকবাল হোসেন।

তিনি আরো জানান, রোহিঙ্গাদের সীমান্ত পেরিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করে এমন কোনো ব্যাক্তির সন্ধান পেলেই তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও আইন-শৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনকেও এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।