দেশের পাদুকা শিল্পে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অবদান কম নয় আপডেট: ০২:৪৮, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বিশেষ প্রতিবেদন: কেউ হয়তো লাখ টাকায় এক জোড়া জুতো কিনতে দ্বিতীয় বারও চিন্তা করেন না। আবার কেউ ১০০ টাকায় পছন্দের এক জোড়া জুতো কিনতে রাস্তায় রাস্তায় খুঁজে ঘাম ঝরান। এটা পাদুকার চাহিদার ক্ষেত্রে দেশের মানুষের মধ্যে এমন চরম এক বিপরীতমুখী চিত্র।

এর ফলে দেশের পাদুকা শিল্পে প্রস্তুতকারকদের মধ্যেও বিস্তর পার্থক্য দেখা যায়। দামি জুতো যাঁরা বানান, তাঁরা এ শিল্পের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। আর গরীবের পাদুকা যাঁরা বানান, তাঁরা দরিদ্র ব্যবসায়ী।

রাস্তার পাশে যারা ছিঁড়ে যাওয়া জুতো, স্যান্ডেল মেরামত করে তাদের মুচি বললেই সবাই চেনে। এমন অনেক মুচি কিছু বাড়তি আয়ের আশায় নিজে নিজে কয়েক জোড়া জুতো বানিয়ে বিক্রির চেষ্টা করেন।

এধরনের উদ্যোগে সফল কোনো কোনো মুচি ছোট ছোট দোকানের মালিক হয়ে থাকেন। এঁরা দেশের পাদুকা শিল্পের ক্ষুদ্রতম নির্মাতা।

কিন্তু তাঁরা জানালেন তাঁদের কষ্টের কথা। প্রচণ্ড গরমে কাজ করে এক ডজন জুতো বানানোর পারিশ্রমিক মেলে মাত্র দুশ টাকা। পেটের দায়ে দিনের পর দিন এভাবেই কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা।

এ ধরনের মুচিরা একসময় পুরো জুতো নিজ হাতে বানাতেন। হাতেই সেলাই করতেন, আঠা লাগাতেন, পুরো জুতো জোড়া দিতেন। সেই মুচিদেরই যাঁরা ছোট ছোট কারখানা তৈরি করলেন, তখন কিছু কাজে যুক্ত করলেন মেশিন। এসব কারখানায় নানা বয়সীদের পছন্দের জুতো তৈরি হলেও কাজের পরিবেশ খুবই কষ্টকর।

বিগত '৯০ দশক থেকে দেশে বৃহৎ পুঁজি নিয়ে জুতো-স্যান্ডেলের কারখানা গড়ে ওঠে, সেগুলো সংখ্যায় মাত্র একশর কিছু বেশি। তবে উৎপাদনের পরিমাণ বৃহৎ, কাজের পরিবেশ কর্মীদের জন্য স্বস্তিকর।

১৬ কোটি মানুষের দেশে বড় বড় আধুনিক কারখানায় তৈরি হওয়া দামি জুতো-স্যান্ডেলের ক্রেতা সংখ্যায় খুব কম। বরং অনাধুনিক কিংবা আরো ছোট পরিসরে উৎপাদিত কম মূল্যের জুতো-স্যান্ডেলের বাজার সবচেয়ে বড়।

এসব জুতো-স্যান্ডেল সুসজ্জিত দোকানে নয়, বরং ফুটপাতে অথবা গলি রাস্তার পাশে সাধারণ দোকানে বিক্রি হয় নিম্ন-আয়ের মানুষের জন্য। ঢাকা এবং তার চারপাশকে ঘিরে সবধরনের জুতো-স্যান্ডেলের কারখানাগুলো মূলত গড়ে উঠেছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি পাদুকা তৈরির কারখানাগুলোর লক্ষ্য স্থানীয় বাজার। অন্যদিকে, বৃহৎ কারখানাগুলোর মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাজার, বিদেশে রপ্তানি।