আড়াই দশকে বৃহৎ উদ্যোক্তায় পরিণত হয়েছে দেশের পাদুকা শিল্প আপডেট: ০২:৪৬, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: রপ্তানি বাজার সম্প্রসারিত হওয়ার কারণে মাত্র আড়াই দশকে দেশে পাদুকা শিল্প ছোট থেকে বৃহৎ উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। বিগত '৯০-এর দশকে এ শিল্পের যে-পুঁজি ছিলো, তা আড়াই দশকে বেড়ে তিনগুণ হয়েছে। রপ্তানিও বেড়েছে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায়। বিশ্বে সম্মানজনক অবস্থানে আছে দেশের এই শিল্প খাত।

জুতো বা স্যান্ডেল যাই হোক, বাংলায় যেমন পাদুকা, তেমনি ইংরেজিতে ফুটওয়ার। ওয়ার্ল্ড ফুটওয়ার ইয়ারবুকের তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালে বিশ্বে শীর্ষ জুতো উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো অষ্টম। যদিও শীর্ষ চিনের সাথে পার্থক্য অনেক, তবু পাদুকা শিল্পের অগ্রযাত্রাকে সফল করতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে রপ্তানিমুখী উৎপাদন কারখানা। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভাগীয় প্রধান অমল কান্তি দেব বলেন, “৯০ পরবর্তী যদি দেখি অমাদের যে ফুটওয়ারের উৎপাদনসহ রপ্তানি অনেক বেড়েছে সাথে এর মানও অনেক উন্নত হয়েছে।”

এসকর্ট ফুটওয়ারের ডিরেক্টর মাহফুজ আকতার বলেন, “এই শিল্পে আমদানি করে অনেক বিকশিত হয়েছে। এবং মফস্বলেও তারা মানুষের চাহিদা পূরণ করছে।”  

জার্মান, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, ইতালি, সুইডেন, জাপান, স্পেন, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয় দেশীয় কারখানায় তৈরি জুতা। জার্মানির ওয়াটম্যান, ইতালির আস্থানা গ্রুপ, পোল্যান্ডের সিসিসি, জাপানের লাসোকির মতো বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের জুতো তৈরি করা হয় দেশের অনেক কারখানায়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০০২-০৩ অর্থবছরে জুতো রপ্তানি করা হয়েছে মাত্র ২৮০ কোটি টাকা। গত ১৫ বছরে তা বেড়ে হয়েছে ৪৮০ কোটি টাকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভাগীয় প্রধান অমল কান্তি দেব বলেন, “১০০ টাকার জুতো যদি আপনি রপ্তানি করেন, তা হলে সরকার আপনাকে ১৫ টাকা ফেরত দিবে। সাথে আপনি তো লাভ করছেন।”

ট্যানার্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, “ভবিষ্যতে যদি আরএমজি হুমকির মুখে পড়ে, তা হলে কিন্তু এই শিল্প আমাদের অর্থনীতিতে একটা মূল চালিকাশক্তি হিসেবে চলে আসতে পারে।” 

রপ্তানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বড় হয়েছে দেশের পাদুকা শিল্প। '৯০-এর দশকে যার পুঁজি ছিলো ৪০০ কোটি টাকা, তা বেড়ে হয়েছে ১,২০০ কোটি টাকা।

ট্যানার্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, "অনেক কোম্পানি আছে যারা কয়েকশ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।” 

পাদুকা তৈরির জন্য আছেন পেশাদার নকশাবিদ। গরম এবং শীত মৌসুম অনুযায়ী নকশা করেন পাদুকার। রপ্তানির জন্য তৈরি  পাদুকার নকশা মূলত বিদেশি ক্রেতারাই দিয়ে থাকেন। তবে অভ্যন্তরীণ বাজারের জুতার নকশায় কাজ করছেন দেশের নকশাবিদরাই।

নকশাকাররা বলেন, “প্রশিক্ষিত এবং শিক্ষিত নকশাকারের অভাব আছে এই শিল্পে। গরম এং শীত দুই সময়ে ব্যবহার করতে পারে এমন জুতা আমরা তৈরি করি। ওয়েব দুনিয়ার কিছু নকশাকে একটু ভিন্ন করে আমি নতুন রূপে উপস্থাপন করি।”

প্রশিক্ষণ এবং পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে এই নকশাবিদদের আরও দক্ষ করে তোলা সম্ভব। এর ফলে রপ্তানির জন্য তৈরি জুতোয় আরো  বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারবেন দেশীয় উদ্যোক্তারা।