দেশের রপ্তানি আয়ের শীর্ষ খাত হতে চায় পাদুকা শিল্প আপডেট: ০৩:৪৮, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: তৈরি পোশাক শিল্পের কারখানাগুলো যেমন বিশ্ব জুড়ে বড় বড় ব্র্যান্ডের জন্য জামা বানিয়ে রপ্তানি করে, তেমনি দেশের পাদুকা শিল্পের কারখানাগুলোও করছে। দেশের রপ্তানি আয়ের শীর্ষ খাত হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পের স্থানটিতে পৌঁছাতে চায় দেশের পাদুকা শিল্পের বৃহৎ উদ্যোক্তারা। বিশ্ব বাজারে নিজেদের জায়গা আরো বড় করার সম্ভাবনা দেখেন তাঁরা।

বিশ্বের শীর্ষ পাদুকা উৎপাদনকারী দেশ চিনে শ্রমের মূল্য বাড়ার ফলে বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকছেন, জানান দেশীয় পাদুকা শিল্পের উদ্যোক্তারা। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে দেশের পাদুকা শিল্পের ভবিষ্যত উজ্জ্বল হবে। এতে সৃষ্টি হবে বিপুল সংখ্যক  শ্রমিকের কাজের সুযোগ। ঘটবে আরো আধুনিকায়ন এবং পুঁজির বিনিয়োগ আরো বাড়বে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভাগীয় প্রধান অমল কান্তি দেব বলেন, “চিনের ১০ শতাংশ বাজার যদি আমাদের দেশে আসে, তা হলে পাঁচ বছরে এ শিল্পে আমাদের রপ্তানি ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে।"

এসকর্ট ফুটওয়্যারের ডিরেক্টর মাহফুজ আকতার বলেন, “আমাদের এ শিল্পের গুণগত মান ভালো। এ জন্য সারা বিশ্ব বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকছে।”

ট্যানার্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, “এখানে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”

২০১৩ সালে দুই কোটি ৩৮ লাখ, ২০১৪ সালে দুই কোটি ৫২ লাখ এবং ২০১৫ সালে দুই কোটি ৪২ লাখ জুতা উৎপাদন করে বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান করে নেয় বাংলাদেশ। দেশে উন্নত মানের চামড়ার উৎস থাকায় পাদুকা শিল্পের বিস্তৃতি অনেক সহজ।

চামড়া রপ্তানির পাশাপাশি জুতা স্যান্ডেলসহ চামড়াজাত আরো অনেক পণ্য রপ্তানি করা সহজ হচ্ছে দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য। তবে আর কিছু প্রয়োজনীয় আয়োজন সহজ হলে, তা এই শিল্পের জন্য দারুণ সহায়ক হবে।

ট্যানার্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, “কাঁচামালের কোম্পানি যদি এখানে প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে আমরা কিন্তু খুব কম খরচে এইগুলা কিনতে পারি।”

দেশীয় পাদুকা শিল্পের আরও উৎকর্ষ সাধন করতে এ বিষয়ে আরো গবেষণার সুযোগ দেশে সৃষ্টির প্রয়োজন বলে উদ্যোক্তাদের অভিমত। এ ছাড়াও স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বান্ধব পাদুকা উৎপাদনের দিকেও মনোযোগী হচ্ছেন এই শিল্প মালিকরা। তবে এমন অনেক নতুন ধারণার পাদুকা সম্পর্কে দেশীয় ক্রেতা মধ্যে তেমন স্বচ্ছ ধারণা নেই।

ক্রেতারা বলেন, “স্বাস্থ্যের বিষয়টা না দেখে নকশার বিষয়টা আমরা আগে দেখি। আরামদায়ক যেটা হয় সেটাই কেনা হয়।"

হরি ফ্যামিরি হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোস্তফা শরীফ বলেন, “উচু জুতার জন্য যে চাপ প্রয়োগ করতে হয় এর ফলে কোমরে ব্যাথা হতে পারে।”  

ক্রেতারা মূলত নকশা, রং, টেকসই হবে কিনা, পায়ের মাপ মতো হচ্ছে কিনা এবং দাম ক্রয় সাধ্যের মধ্যে কিনা শুধু এসব বিবেচনা করেই জুতা বা স্যান্ডেল কেনেন। কিন্তু প্রত্যেকের তার স্বাস্থ্যের জন্য উপযুক্ত পাদুকা পরিধান করার চিন্তা একবারেই অনুপস্থিত ব্যবহারকারীদের মধ্যে।