রোহিঙ্গা ইস্যুতে হস্তক্ষেপ চেয়ে জাতিসংঘকে চিঠি ১২ নোবেল জয়ীর আপডেট: ১০:৩৮, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন নিপীড়নে সমালোচনার ঝড় বইছে বিশ্বজুড়ে। সেনাবাহিনীর আক্রমণে শত শত রোহিঙ্গা নিহত ও লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একে মানবীয় ট্রাজেডি ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ১২ জন নোবেল জয়ী ও বিশ্বের খ্যাতিমান ১৫ নাগরিক। এ অবস্থার অবসানে জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দিয়েছেন তারা।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ও ১৫টি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের কাছে পাঠানো খোলা চিঠিতে এই এই মানবিক সংকট অবসানে জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।

শান্তিতে নোবেল জয়ী বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বেটি উইলয়ামস, ডেসমন্ড টুটু, মালালা ইউসুফজাই, শিরিন এবাদিসহ ১২ জন নোবেল জয়ী এবং নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, ইতালির প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মালয়েশিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিশ্বের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এই চিঠিতে সই করেন।

ঢাকায় ইউনূস সেন্টার থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়- এই আক্রমণ জাতিগত ও ধর্মীয় নিধনের উদ্দেশে সুপরিকল্পিত। রাখাইনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরাপত্তা পরিষদকে সব ধরনের ভূমিকা পালনের আহবান জানান নোবেল জয়ী ও বিশিষ্টজনেরা। এছাড়া আনান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে দাবি জানান তারা।

মিয়ানমারের সাথে সামরিক সহযোগিতা বন্ধের আহবান জানিয়েছেন মার্কিন রিপাবলিকান জ্যেষ্ঠ সিনেটর জন ম্যাককেইন ও হাউস ডেমোক্রেটিক ককাস চেয়ারম্যান জোসেফ ক্রাউলিসহ কয়েকজন কংগ্রেসম্যান।

এদিকে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন না শন্তিতে নোবেল জয়ী সু চি। তার মুখপাত্র জানান, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সংঘাত বন্ধের চেষ্টায় সূচি ব্যস্ত।

জাতিগত নিধনের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার। জেনেভায় মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি হিতিন লিন বলেন, এমন অভিযোগ করার আগে আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।

এদিকে, কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে আরেকটি কমিটি গঠন করেছে মিয়ানমার সরকার। প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানায়, ১৫ সদস্যের এই কমিটি রোহিঙ্গা এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করবে।

রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগত নিধনের’ বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদ উপেক্ষা করছে বলে অভিযোগ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা ও নির্যাতনের জন্য মিয়ানমারকে শাস্তি দেয়ার হুমকি দিয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠী- আল কায়দা।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সাহায্যে ৩০ লাখ ইউরো দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সংস্থাটি।