প্রখ্যাত অভিনেতা তুলসী লাহিড়ীর স্মৃতিবিজড়িত জমিদার বাড়িটি ধ্বংসের পথে আপডেট: ০৯:৪৭, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধায় সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে ধংসের পথে উপমহাদেশের বিখ্যাত নাট্যকার ও চলচ্চিত্র অভিনেতা তুলসী লাহিড়ীর স্মৃতিবিজড়িত জমিদার বাড়িটি।

এখনই এর সংস্কার না করলে ইতিহাসের প্রাচীন এই নিদর্শন হারিয়ে যাবে চিরতরে। তবে বাড়িটি রক্ষায় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

গাইবান্ধা শহর থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে নলডাঙ্গায় তুলসী লাহড়ীর জমিদার বাড়ি। ১৮৯৭ সালে সুরেন্দ্র দেবশর্মা ও শৈলবালা দেবীর ঘর আলো করে জন্মগ্রহণ করেন তুলসী লাহড়ী।

তুলসী লাহড়ী দীর্ঘসময় ধরে নলডাঙ্গা থেকে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, ডাউয়াবাড়ি, বগুড়ার শেরপুর ও পশ্চিম দিনাজপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে জমিদারি করেন। জমিদারির পাশাপাশি তিনি উপমহাদেশে বিখ্যাত নাট্যকার, শিল্পী ও চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবেও খ্যতি লাভ করেন।

১৯৫৯ সালের ২২ জুন কলকাতায় তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন ।

তাঁর মৃত্যুর পর থেকে দীর্ঘদিন এই ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন জমিদার বাড়িটি সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে এখন প্রায় ধ্বংসের পথে। কষ্টপাথরের শিবলিঙ্গ, শ্বেতপাথরের কৃষ্ণ মন্দির ও শৈলেশ্বর মন্দির এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

নিরাপত্তার অভাবে ইতিমধ্যে মন্দির দুটি থেকেই চুরি হয়েছে কষ্টিপাথরের মুর্তি। বাকি প্রত্নতাত্বিক যেসব সম্পদ রয়েছে, তাও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, এই জমিদার বাড়িটি এখন প্রায় ধ্বংসের পথে। সরকার যদি বাড়িটি সংস্কার করে তবে তারা উপকৃত হবেন।

জমিদার তুলসী লাহিড়ীর খনন করা পাঁচ একর ১৭ শতাংশ আয়তনের পুকুরটিও ব্যবহৃত হচ্ছে এলাকার মানুষের কাজে। যদি সময় থাকতে এসব নিদর্শন সংরক্ষণ করা না হয়, তা হলে তা চিরতরে হারিয়ে যাবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, সরকার যদি জমিদার তুলসী লাহিড়ীকে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চান, তা হলে এই বাড়িটির সংস্কার ছাড়া বিকল্প নেই।

অবশ্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়িটি রক্ষার জন্যে পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানানো হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, "প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাথে আমরা যোগাযোগ করেছি, যাতে করে বাড়িটিকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনার অধীনে নেয়া হয় এবং দ্রুত সংস্কার করা হয়।"

জমিদার তুলসী লাহড়ীকে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং জমিদার বাড়িটি রক্ষায় সরকার গুরুত্বের সাথে এগিয়ে আসবে-- এমনটাই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।