ভোক্তার জন্য সঠিক মানের নিরাপদ-নির্ভেজাল পণ্য বাজারে নিশ্চিত করতেই বিএসটিআই আপডেট: ০৬:২৫, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বিশেষ প্রতিবেদন: খাদ্য কিংবা অন্য যেকোনো ব্যবহার্য পণ্য যথাযথ মানসম্পন্ন কিনা, তা সাধারণ ক্রেতার বুঝবার উপায় নেই। কিন্তু ভোক্তার জন্য সঠিক মানের নিরাপদ-নির্ভেজাল পণ্য বাজারে নিশ্চিত করা জরুরি। এমন ধারণা থেকে প্রায় শত বছর আগে পরিকল্পিত ও সংগঠিতভাবে পণ্যমান যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হয় উন্নত দেশগুলোতে।

আমাদের দেশেও এ চর্চা শুরু হয় পঞ্চাশের দশকে, যার ধারাবাহিকতায় তিন দশক আগে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস্ এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন, যা সংক্ষেপে বিএসটিআই নামে পরিচিত।

হাজার হাজার পণ্য রয়েছে বাজারে যার কোনোটা খাবার, কোনোটা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের। কিন্তু ভোক্তার বুঝবার সাধ্য নেই তাঁর প্রয়োজনীয় পণ্যটি যথাযথ মানের কিনা। টাকা দিয়ে পণ্য কিনছেন কিন্তু মানের নিশ্চয়তা কে দেবেন।

পণ্যের মান নিয়ে ভোক্তার এ অধিকার নিশ্চিত করতে ১৯২৬ সালে উন্নত দেশগুলোতে একটি বেসরকারি সংগঠন গড়ে ওঠে, যা ১৯৪৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর সমন্বয়ে ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশন ফর স্ট্যান্ডারডাইজেশন বা সংক্ষেপে আইএসও-তে রূপান্তরিত হয়। ২৫টি সদস্য দেশ নিয়ে গঠিত আইএসও’র বর্তমান সদস্যসংখ্যা বাংলাদেশসহ ১৬২টি।

দেশের ভেতর উৎপাদিত এবং বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের যথাযথ মান নিশ্চিত করতে ১৯৫৫ সালে সরকারি উদ্যেগে ঢাকায় সেন্ট্রাল টেস্টিং লেবোরেটরিজ, সংক্ষেপে সিটিএল প্রতিষ্ঠিত হয়। একাত্তরে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস্ ইনস্টিটিউশন, সংক্ষেপে বিএসআই হয়। এই প্রতিষ্ঠান এবং সিটিএল একত্রিত করে ১৯৮৫ সালে গঠন করা হয় বিএসটিআই।

বিএসটিআইয়ের পরিচালক আ.ন.ম আসাদ্দুজামান বলেন, গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা প্রদানে সহায়তা  করে বিএসটিআই।

কেউ যদি বিএসটিআইয়ের প্রশংসাপত্র নেওয়ার পরে সেই মান যথাযথ রক্ষা না করলে বিএসটিআই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতাসম্পন্ন বলে জানালেন কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান।

শুধু পণ্যমান নয়, সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সেবার মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে। তবে, তা বিএসটিআই এর বাধ্যতামূলক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। কোনো প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় চাইলে বিএসটিআই সেবার মান যাচাই করে সনদ দিতে পারে।

বাজারের সমস্ত পণ্যের মান নিশ্চিত করা বিএসটিআই এর মতো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একটি অসম্ভব কাজ। নানা সীমাবদ্ধতা যেমন আছে, তেমনি কাজের পরিমান বাড়ার সাথে সাথে তার দায়িত্বেও বিভাজন ও বণ্টনের ঘটনা ঘটে।