কর্মদক্ষ লোকবলের অভাবেই কার্যকর হতে পারছে না বিএসটিআই  আপডেট: ০৬:২৪, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বিশেষ প্রতিবেদন: মান পরীক্ষার জন্য বিএসটিআই-এর রয়েছে অত্যাধুনিক পরীক্ষাগার। কিন্তু এর সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করবার লোক নেই। পণ্যমানের সনদ দেয়ার পর বাজারে তার নিয়মিত পর্যবেক্ষণের যে-বিধান রয়েছে, সেটাও লোকবলের অভাবে ঠিকমতো করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি।

শিশুখাদ্যসহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খাদ্যপণ্য এবং ব্যবহার্য নানা পণ্যে ক্ষতিকর, ভেজাল ও ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান পাওয়া গেছে খোদ সরকারি অভিযানেি। আমদানিকৃত গুঁড়ো দুধে বিষাক্ত তেজস্ক্রিয় উপাদান, শিশুদের প্যাকেটজাত লিচিতে ক্ষতিকর উপাদানের খবর মেলে প্রায়ই।

অনেকে বিএসটিআই-এর সনদ এড়িয়েও বাজারে পণ্য আনে। আবার অনেকে সনদ নেয়ার পর মান রক্ষা করে না। এজন্য নিয়মিতভাবে বাজারে গিয়ে পণ্যের মান পরীক্ষার বিধান আছে, তবে তা খুব কার্যকর নয়।

তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছানোর মত সক্ষমতা এখনো বিএসটিআইয়ের হয়নি বলে জানালেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আ.ন.ম. আসাদুজ্জামান।ল্যাবরেটরিতে প্রতিষ্ঠনটির নিজস্ব কোনো কর্মদক্ষ জনবল নেই উল্লেখ করে বিএসটিআই’র আরেক পরিচালক প্রকৌশলী এস.এম .ইসহাক আলী জানালেন কিছু অফিসার ধার করে এনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রশিক্ষণ করিয়ে এনে তাদের দিয়ে ল্যাবে কাজ চালানো হচ্ছে। 

পণ্যমান পরীক্ষার এই প্রতিষ্ঠান এক সময় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কারিগরি সক্ষমতার অভাব বোধ করলেও বিগত কয়েকবছরে তা দূর হয়েছে। এখন আছে অত্যাধুনিক পরীক্ষাগার, প্রতিটি বিভাগে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন যন্ত্রপাতি। কিন্তু সেগুলো চালানোর লোক নেই।

প্রকৌশলী এস. এম .ইসহাক আলী আরো  বলেন, পণ্যের মান বজায় না রাখতে পারলে জরিমানা  ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত করার লক্ষ্যে আইনটি সংশোধনের জন্য মন্ত্রিপরিষদে  অনুমোদনও হয়েছে।

পণ্যের মান পরীক্ষার এই গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠানটির দেশব্যাপী বিস্তৃত থাকাটা জরুরি হলেও মাত্র ৬টি বিভাগের শহরগুলোতে এবং দুটি জেলায় কাজ করে। ফলে দেশজুড়ে বাজারে পণ্যের মান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষনের কাজটি সুচারুভাবে হচ্ছে না।

তবে বিএসটিআই-এর মহাপরিচালক মো. সাইফুল হাসিব জানান, নিম্নমানের শিল্প ও খাদ্যজাত পণ্যের বাজারজাতকরণ বন্ধ বা নিরুৎসাহ করতে বিএসটিআই কাজ করে যাচ্ছে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, দেশ জুড়ে খুচরা ও পাইকারি দোকানের সংখ্যা ৩৮ লাখ। বিএসটিআই-এর ফিল্ড অফিসার আছে ৬৪ জন। এ ছাড়াও ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনায় বিএসটিআই-এর রয়েছে সক্ষমতার অভাব।

বিএসটিআই-এর  নিজস্ব কোনো ম্যাজিস্ট্রেট নেই জানিয়ে আ. ন. ম. আসাদুজ্জামান বলেন, বিসটিআই সবসময় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করে।

সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিএসটিআই-এর কাজ ও ভূমিকা নিয়ে খুব একটা সচেতনতা নেই। শুধুমাত্র এ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেয়া তিনকোণা সিলটি ক্রেতা বা ভোক্তাদের কাছে পরিচিত।