বিএসটিআই-এর পণ্যমান পরীক্ষা প্রক্রিয়া পেয়েছে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আপডেট: ০৬:২৪, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বিশেষ প্রতিবেদন: ইতিমধ্যে বিএসটিআই-এর পণ্যমান পরীক্ষা ও নির্ধারণের যে প্রক্রিয়া, তা বাইরের বিশ্বে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। কিন্তু দেশ জুড়ে নিজেদের কার্যক্রম বিস্তৃত করাটাই বিএসটিআই-এর জন্য এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এ ছাড়াও নানাধরনের অসাধু চর্চা বন্ধের ব্যাপারটিও বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। কেমিক্যাল, ফুড ও মাইক্রো-বায়োলজিক্যাল, সিমেন্ট, এমএস রড, টেক্সটাইলসহ দেশে উৎপাদিত ২৭টি পণ্যের মান সম্পর্কে বিএসটিআই-এর সনদ ভারত স্বীকৃতি দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পণ্যের মান পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিএসটিআই-এর গ্রহণযোগ্যতা তৈরিতে এ ধরনের স্বীকৃতিকে গুরুত্বের সাথে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএসটিআই-এর মান নির্ণয় বিভাগের পরিচালক আ. ন. ম. আসাদুজ্জামান বলেন, "যেকোনো ধরনের পণ্যের যদি কোনো মান থাকে , তা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হতে পারে । সেই মানের ভিত্তিতে বিএসটিআই তা পরীক্ষা করার সক্ষমতা রাখে।"

গোটা প্রতিষ্ঠান ও বিএসটিআই-এর কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান প্রশাসন কাজ করছে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের জনসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬ কোটি। নিয়মিতভাবে এই বৃদ্ধি অব্যাহত। জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে চাহিদা ও পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিকভাবেই বাজারে বাড়বে।

এমন বাস্তবতায় নিরাপদ, নির্ভেজাল ও সঠিক মানসম্পন্ন পণ্যের বাজার নিশ্চিত করতে দেশ জুড়ে কাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি বিএসটিআই-এর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন নীতি নির্ধারকরা।

বিএসটিআই এর ওয়ান স্টপ সার্ভিস এর উপ-পরিচালক ও প্রধান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণভাবে অটোমেশনে যাচ্ছি । লাইসেন্স ইন সিস্টেম  অটোমেশন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।’  

বিএসটিআই-এর মেকানিক্যাল বিভাগীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক অলোক কুমার মজুমদার বলেন, "যেসব ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং যেসব ক্ষেত্রে মান বাড়ানো দরকার, সে জায়গাগুলোর প্রতি বিএসটিআই-এর নজর বাড়ানো দরকার।" 

প্রতিষ্ঠানটিকে আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে মান নিশ্চিত করার জন্য বাধ্যতামূলক ১৫৪টি পণ্যের তালিকায় আরো যুক্ত হতে যাচ্ছে ১৩টি পণ্য। এ  তালিকা ক্রমাগত বাড়তে থাকবে বলে ধারণা দেন কর্মকর্তারা।

বিএসটিআই-এর সিএম পরিচালক প্রকৌশলী এস. এম. ইসহাক আলী জানান, নতুন আরো ৩০টি পণ্যের লাইসেন্স প্রদান কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মাঝেমধ্যে বিএসটিআই-এর সিল নকল করে সনদ তৈরি করা, অসাধু উপায়ে পণ্যের মেয়াদ বাড়ানোসহ নানান অভিযোগ ওঠে। এসব নিয়ে খুব স্পষ্ট করে কেউ কথা না বললেও এ ক্ষেত্রে বিএসটিআই-এর সতর্ক পর্যবেক্ষণ রয়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা।

যানবাহনের তেলের পাম্প ও গ্যাস স্টেশনগুলোতে নতুন একধরনের পর্যবেক্ষণের কাজ হাতে নিয়েছে বিএসটিআই। ডিজেল থেকে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সালফারের মাত্রা কমানো এ প্রকল্পের বড় একটি কাজ।

বিএসটিআই-এর মেকানিক্যাল বিভাগীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক অলোক কুমার মজুমদার বলেন, "ডিজেলের মধ্যে সালফার থাকে, যা ক্যানসার রোগের কারণ। এই সালফারের পরিমাণ নির্ধারণ করা বিএসটিআই-এর আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।"

ডিজেলে যাতে আরোও লো-গ্রেডেড সালফার ব্যবহার করা হয়, সে-বিষয়ে বিএসটিআই তৎপর বলে জানিয়েছেন তিনি।

অদূর ভবিষ্যতে অন্তত আরো ১২টি জেলায় বিএসটিআই-এর কার্যক্রম বিস্তৃত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে । ভোক্তা অধিকারকে আরো নিশ্চিত করতে যুগোপযোগী করা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট আইনকে। পাশাপাশি ক্রেতা ও ভোক্তাদের সচেতনতা তৈরি করাটাও খুব জরুরি কাজ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।