বাদ্যযন্ত্রের নগরী 'মিটেনভাল্ড'

প্রকাশিত: ২২-০১-২০২৩ ১৬:১৩

আপডেট: ২২-০১-২০২৩ ১৬:১৩

আন্তর্জাতিক  ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী শিল্পীদের প্রিয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত জার্মানির বাভেরিয়া রাজ্যের ছোট্ট শহর মিটেনভাল্ড। সাড়ে তিন’শো বছরের ঐতিহ্য মেনে এখানে সরাসরি হাতে তৈরি হয় বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র।মিটেনভাল্ডে তৈরি প্রতিটি যন্ত্রের রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। পেশাদারী  হোক বা আনাড়ি,প্রত্যেক শিল্পীর জন্যই যত্ন নিয়ে তৈরি হয় ভিন্ন ভিন্ন বাদ্যযন্ত্র। হাতে তৈরি এসব বাদ্যের বাজারদরও তাই কিছুটা বেশি।

ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির অন্যতম পৃষ্ঠপোষক দেশ জার্মানি। দেশটির দক্ষিণের ছোট্ট শহর মিটেনভাল্ডকে বিবেচনা করা হয় বাদ্যযন্ত্রের নগরী হিসেবে। এখানে তৈরি যেকোনো ধরণের তার নির্ভর বাদ্যযন্ত্রই বিশ্বব্যাপী শিল্পীদের কাছে সমাদৃত। বাদ্যযন্ত্রগুলোর বিশেষত্ব হচ্ছে, যন্ত্রের খুঁটিনাটি থেকে প্রতিটি অংশই তৈরি হয় হাতে। মিটেনভাল্ডে তৈরি প্রতিটি বাদ্যযন্ত্র ভিন্ন। বিখ্যাত শিল্পী বা শিক্ষানবিশ যার জন্যই তৈরি করা হোক না কেন, প্রতিটি বাদ্যযন্ত্রের রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। যন্ত্রগুলো তৈরিতে ব্যবহার করা হয় বিশেষ ধরণের কাঠ।

১৬৮৪ সালে এই শহরের মাটিয়াস ক্লৎস নামের এক কারিগর প্রথম বাদ্যযন্ত্র তৈরিরকাজ শুরু করেন। ঐতিহ্য মেনে ক্লৎসের উত্তরসূরীরা এখন বছরে প্রায় ৫০টি বাদ্যযন্ত্র তৈরি করে।প্রতিটি যন্ত্রের দাম দেড় থেকে বিশ হাজার ইউরো। কয়েক শতকের ঐতিহ্য মেনে এই পেশায় যুক্ত হচ্ছেন বর্তমান প্রজন্মের তরুণরাও।

পৃথিবীর অন্যতম সেরা বেহালা তৈরি করা হয় এইমিটেনভাল্ডে। শহরটির শতবর্ষী এক বেহালা প্রস্তুতকারক কোম্পানীর কারিগর জানান, প্রতিটি বেহালায় প্রস্তুতকারক এবং কারিগরের স্বাক্ষর থাকে। একটি বেহালা প্রস্তুত করতে সময় লেগে যায় প্রায় ৪ মাস। তৈরির পর ক্রেতার হাতে হস্তান্তর করার আগে কারিগররা সুরের যর্থার্থতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি যন্ত্র বাজিয়ে দেখেন। মিটেনভাল্ড শহরের বাতাসে তাই সবসময় ভেসে বেড়ায় বেহালার সুর। 

shamima/sharif