তসলিমা নাসরিনের সন্তানের সন্ধান মিললো!

প্রকাশিত: ০৯:৩০, ১৯ অক্টোবর ২০১৯

আপডেট: ০৯:৪১, ১৯ অক্টোবর ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক: আলোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে ‘মা’ এবং অভিনেতা ও বিজেপি নেতা জর্জ বেকারকে ‘বাবা’ বলে দাবি করেছেন কলকাতার পূর্ব বর্ধমানের ফিচার রাইটার অঙ্কিতা ভট্টাচার্য্য। তবে শৈশব থেকে নিজের মা-বাবা এই পরিচয় দিতে না পারার আক্ষেপ জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি কলকাতার ‘দ্য অফনিউজ ডটকম নামের একটি অনলাইনে তসলিমা নাসরিনকে তার মা এবং জর্জ বেকারকে বাবা দাবি করে একটি কলাম লিখেছেন অঙ্কিতা ভট্টাচার্য্য। বৈশাখী টেলিভিশন অনলাইনের পাঠকদের জন্য তার কলামটি হুবুহু তুলে ধরা হলো।

(শুরু হোক আমার মেয়ে বেলা)

আমি অঙ্কিতা ভট্টাচার্য্য, আমি আজ আপনাদের সামনে আমার মেয়েবেলা তুলে ধরছি। আজ আমার বয়স কত? আমি তা জানি না। আপনারা অবাক হচ্ছেন তো! আমার সহিত ঠিক এই ঘটনায় ঘটেছে। আমার জন্ম বৃত্তান্ত মনে নেই। কোন বাচ্চা তার নিজের জন্ম কিভাবে হয়েছে, অর্থাৎ স্বাভাবিক বা সিজার বেবি বা কোথায় হয়েছে, তা মনে পড়ার কথাও নয়। সমস্ত বাচ্চা জাতির হয়তো এটাই একটা অপরাধ। আর যদি এটা অপরাধ হয়, তাহলে প্রত্যেক বাচ্চাই অপরাধী। আপনাদের আমি জানিয়ে রাখি আমার জন্মদাতা পিতা অভিনেতা ও anglo-indian হিসেবে নির্বাচিত বিজেপি পাটির মাননীয় সাংসদ জর্জ বেকার।

আমার জন্মদাত্রী মা তথা বাংলাদেশি বিতর্কিত, নারীবাদী প্রতিবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন। আজ আমার লড়াই পিতৃ পরিচয় ও মাতৃপরিচয়।  পিতৃ পরিচয় ও মাতৃপরিচয় প্রত্যেক মানুষের জন্মগত অধিকার। এই অধিকার পেতে আমাকে যদি সামনের দিনে ডিএনএ টেস্টের সম্মুখীন হতে হয়, তাহলে আমার কোন দ্বিধাবোধ নেই। যখন আমার শৈশব মনে পড়তে লাগলো, তখন আমি কলকাতার বেহালার স্বরশুনার গিরিবালা স্কুলে কেজি ওয়ানে ভর্তি হলাম। এই স্কুলে দাখিল হওয়ার পূর্বে আমাকে সর্বপ্রথম দাখিলা করা হয় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল কাকলীতে। তখন আমার বয়স অনেক ছোট। আমি ঠিকভাবে কথা বলতে পারতাম না। কারণ আমি খুবই অসুস্থ ছিলাম। যার জন্য প্রত্যহ স্কুলে হাজির থাকতে পারিতাম না।

আমার সর্দি, কাশি, জ্বর লেগেই থাকতো এবং তার সাথে শ্বাসকষ্ট হতো। কাকলী স্কুলের হেডমাস্টার ছিলেন বাদল বাবু। এই বাদল বাবুই আমাকে কাকলী স্কুলে আসতে মানা করেছিলেন। আমি মাত্র ১৫ দিন ওই স্কুলে পড়াশোনা করি।

এরপর থেকে আমি গিরিবালা স্কুলে পড়াশোনা করতে থাকি। কিন্তু কাকলী স্কুল থেকে আমি গিরিবালা স্কুলে পরিবর্তিত হই, তখন কাকলী স্কুলের সমস্ত বই এবং আমার স্কুলের পরিচয়পত্র আমার কাছ থেকে নিয়ে নেয়া হয়। কে নিয়ে নিলেন, এই প্রশ্নের উত্তর আজও আমার কাছে নেই। আমার পালক মা গৌরি চক্রবর্তী/ভট্টাচার্য্য স্কুলে দিয়ে আসতেন এবং ছুটির পরে স্কুল থেকে বাড়ি নিয়ে আসতেন। আমার পালক মা গৌরি দেবি তখন কলকাতার বেহালার ব্যানার্জিপাড়া বাইলেনে বাড়ি ভাড়া থাকতেন। তার কিছুটা দূরে আমার বাবা জর্জ বেকার বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন। ছুটির দিনে কখনও কখনও আমি আর আমার বাবা জর্জ বেকারের সাথে থাকতাম। বাবার সাথেই ঘুরতাম এবং খাওয়া-দাওয়া করতাম। মাঝে মধ্যে আমি আমার বাবা জর্জ বেকারের সাথে টলিপাড়ায় ঘুরতে যেতাম। এইভাবে আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে এবং এই বড় হয়ে ওঠার মাঝে মাঝে আমার মা তসলিমা নাসরিন পরিচয় গোপন করে আমার সাথে দেখা করতে আসতেন। তখন আমি জানতাম বা এটা আমার একটা মাসি। এই পরিচয়ে আমার সাথে দেখা করতেন। আমার মা যখন আসতেন আমার জন্য অনেক চকলেট আনতেন। আমাকে কোলে তুলে আদর করতেন। এই আদরের এই ভালোবাসার ঠিক যেন অন্য অনুভূতি লাগতো আমার। কিন্তু সেই আদর পাওয়া আমার কাছে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতো না। গোপনীয় মাসি আবার চলে যেত। স্মৃতি হিসেবে আমার জন্য একটি-দুটি নতুন জামা রেখে যেতেন। এরপর একটু বড় হতেই আমি আমার বাবা জর্জ বেকারের সহিত বাবার বাড়িতে থাকতে শুরু করলাম। তখন আমার বাবা নিজে বাড়ি কিনেছেন। সেইদিনের স্মৃতি আজও আমার মনে আছে। আমার শোভার ঘরে সেগুন কাঠের পালং। আমার জন্মদিনে আমার বাবার দেয়া টেপরেকর্ডারের কথা। আজও মনে আছে দোলনায় দুলতে দুলতে ঘুমানো। সবথেকে বেশি মনে পড়ে আমার বাবা জর্জ বেকার ও অর্পিতা চক্রবর্তী (গৗরি চক্রবর্তীর বোন) এর ঝগড়া ও হাতাহাতি! ছোট থেকেই ঝগড়া মারপিট দেখতে খুব ভালো লাগতো বিশেষ করে আমার বাবা জর্জ বেকার ও অর্পিতা চক্রবর্তী। তখনও আমার বাবা জর্জ বেকার অর্পিতা চক্রবর্তীকে বিবাহ করেননি। হয়তো বিবাহ করার প্রস্তাব নিয়েই এই ধরনের ঝগড়া যুদ্ধ হতো। আমার নজর গিয়ে পড়তো অর্পিতা চক্রবর্তীর পিট পর্যন্ত, ঘনকালো চুল ‍গুটিয়ে খোপা করে রাখা, ওই খোপার ওপর। যতবার খোপা বাঁধতো ততবার আমি আমার ছোট নরম হাত ‍দু’টি দিয়ে সেই খোপা খুলে দিতাম। আর তারপর আমি অর্পিতা চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়ার জন্য বসে থাকতাম। অর্পিতা চক্রবর্তী কাকের কণ্ঠ নিয়ে উকিলের সুরে বলতো ‘এই মেয়ে আমায় বাঁচতে দিলো না’।  

এই বিভাগের আরো খবর

মধ্যপ্রাচ্যের ৫ দেশে গৃহকর্মী না পাঠাতে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক: যথাযথ আইনি সুরক্ষা...

বিস্তারিত
জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সঙ্কট বিষয়ে রেজুলেশন পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘের সাধারণ...

বিস্তারিত
মালয়েশিয়ার আদালতে ৪ বাংলাদেশি নারীর কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক: মালয়েশিয়ার আদালতে চার...

বিস্তারিত
পবিত্র ওমরাহ করতে গেলেন সাকিব

অনলাইন ডেস্ক: পবিত্র ওমরাহ পালন করতে...

বিস্তারিত
সৌদি আরবে নারী শ্রমিক না পাঠানোর দাবি সংসদে

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্যাতনের শিকার...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *