মৎস উৎপাদন ও আহরণে শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২৬-০১-২০২০ ০৯:৪৩

আপডেট: ২৫-০১-২০২২ ১০:০৩

বিউটি সমাদ্দার: মাছে ভাতে বাঙালি, এ দেশের মানুষের আদি পরিচয়। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা নির্বাহ, প্রাণীজ আমিষের চাহিদা পূরণ ও কর্মসংস্থানে আদিকাল থেকে নদ-নদী, হাওর-বাওর, খাল বিলসহ নানান প্রাকৃতিক জলাশয়ের নানা প্রজাতির মাছের উপর নির্ভর করে আসছে। প্রাকৃতিক জলাশয়ের সেই নির্ভরতা কমতে শুরু করে আশির দশক থেকে। নব্বইয়ের দশক থেকে বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মাছ চাষের নতুন চর্চা শুরু হয়। এখন এটাই হয়ে উঠেছে দেশের মাছের প্রধান উৎস। মাছের চাহিদা পূরণে দেশ কেবল সংসম্পূর্ণই নয়, ধারাবাহিকভাবে গত এক যুগ ধরে মাছ চাষে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএওর তথ্য অনুযাীয় মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়; প্রাকৃতিক ও চাষ মিলিয়ে চতুর্থ এবং বদ্ধজলাশয়ে মাছ উৎপাদনে দেশের অবস্থান পঞ্চম। তবে প্রাকৃতিক জলাশয় কমতে থাকায় দেশী মাছের পরিমাণও কমতে থাকে। দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় মাছগুলোকে মানুষের খাবার টেবিলে নিয়ে আসতে কাজ করছে বাংলাদেশ মৎস গবেষণা ইনস্টিটিইট। ইতিমধ্যে ৬৪ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছের মধ্যে ২০ প্রজাতির মাছের জীনপুল সংরক্ষণ ও চাষবাদ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। তাদের গবেষণার ফলে গেল কয়েক দশকে তেলাপিয়া এবং পাঙ্গাস মাছ উৎপাদনে বিল্পব ঘটেছে। পাশাপাশি টেংরা, গুলশা, শিং, কই এবং মাগুর মাছের উৎপাদনও বেড়েছে কয়েকগুন। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মাছের মোট উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪৩ লক্ষ মেট্রিকটন। যা দেশের মোট জিডিপির ৩.৫০ শতাংশ। রপ্তানী আয়েরও একটি খাত হয়ে উঠেছে দেশের মাছ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে আমাদের চিংড়ী মাছের বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। চিংড়ী পাশাপাশি এখন অন্য মাছও বিদেশের বাজার জায়গা করে নিচ্ছে। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকার সমপরিমান মাছ রপ্তানি হয়েছে। তবে এর সিংহভাগ এসেছে হিমায়িত চিংড়ী থেকে। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ১১ শতাংশের বেশি মৎস্যখাতে বিভিন্ন কাজে যুক্ত। তবে চাষিরা তেমন কোন সরকারি সহযোগিতা পান না। মাছ চাষে আধুনিক পদ্ধতি ও মাছের নিরাপদ খাবারের বিষয়টা এখন নিশ্চিত করা যায়নি। যা এই খাতের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতাই মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্ঠরা।

/admiin