পূর্ব বাংলার অফিসিয়াল ভাষা হবে ‘বাংলা’: বঙ্গবন্ধু

প্রকাশিত: ১০:৩৪, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আপডেট: ১০:৫৭, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

রীতা নাহার: একাত্তরে অর্জিত স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন-সংগ্রামের গোড়াপত্তন হয়েছিল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই ভাষা আন্দোলনে ছিলেন একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী তরুণ ছাত্র নেতা। এ বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী। তাই এবার ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু মুজিবের ভূমিকা ও অংশগ্রহনের ঐতিহাসিক অধ্যায় নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ আঠারোতম পর্ব। 

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে ধারাবাহিক সভা সমাবেশ অব্যাহত থাকে ১৯৫২ সালের জানুয়ারিতেও। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর খাজা নাজিমউদ্দীন বায়ান্নর ২৭ শে জানুয়ারি ঢাকার পল্টনে এক জনসমাবেশে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন। 

সমাবেশে খাজা নাজিমউদ্দীন বলেন, “উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। পরীক্ষামূলক ২১টি কেন্দ্রে বাংলা ভাষাকে আরবী হরফে লেখার প্রচেষ্টা সফল হয়েছে।” দেশের সংবাদপত্রগুলোতে এ খবর ফলাও করে ছাপা হয়, কোন কোন পত্রিকা সমালোচনাও করে। ৫২’র ২৮শে জানুয়ারি দৈনিক আজাদের একটি শিরোনাম ছিল ‘প্রাদেশিকতার বিরুদ্ধে”। 

বঙ্গবন্ধু তাঁর ডায়রিতে লেখেন, “ তিনি অর্থাৎ খাজা নাজিমউদ্দীন ১৯৪৮ সালে পূর্ববাংলার প্রধামন্ত্রী থাকাকালে যে ওয়াদা করেছিলেন, সে ওয়াদার খেলাপ করলেন। ১৯৪৮ সালের  রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সাথে চুক্তি করেছিলেন এবং নিজেই পূর্ব বাংলা আইন সভায় প্রস্তাব পেশ করেছিলেন যে, পূর্ব বাংলার অফিসিয়াল ভাষা ‘বাংলা’ হবে।” এর প্রেক্ষিতে পূর্ব বাংলায় ভীষণ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। 
 

এই বিভাগের আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *