‘স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ বোপন করেছিলেন শেখ মুজিব’

প্রকাশিত: ১০:১৬, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আপডেট: ১০:১৬, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

রীতা নাহার: একাত্তরে অর্জিত স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন-সংগ্রামের গোড়াপত্তন হয়েছিল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই ভাষা আন্দোলনে ছিলেন একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী তরুণ ছাত্র নেতা। এ বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী। তাই এবার ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু মুজিবের ভূমিকা ও অংশগ্রহণের ঐতিহাসিক অধ্যায় নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ শেষ পর্ব। 

৫২’র ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞা মানেনি বাঙ্গালী ছাত্র জনতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় বেলা ১১টায় বিস্ফোরণোম্মুখ ছাত্র যুবকরা সভা করে। পরবর্তীতে প্রখ্যাত আইনজীবী, তৎকালে ছাত্র নেতা  গাজীউল হক সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং বলেন এভাবেই তারা পাকিস্তানি শাসকদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন। প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ ছিলেন তখন ছাত্র নেতা। তার প্রস্তাব থেকে সিদ্ধান্ত হয় ১০ জনের দল করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা হবে।

সেদিন বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভের উপর পুলিশ গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে শহীদ হন সালাম, রফিক উদ্দিন আহমদ, আবুল বরকত, আব্দুল জব্বার এবং আহত ও গ্রেফতার হয় অনেকে। তবে পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাষাশহীদের সংখ্যা ছিল আরো বেশি। প্রশাসন শহীদদের আজিমপুর গোরস্তানে দ্রুত দাফন করে।

এর আগেই ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আমরণ অনশন শুরু করলে শেখ মুজিবুর রহমানকে পাঠিয়ে দেয়া হয় ঢাকার বাইরে। ২১শে ফেব্রয়ারি রাজধানীতে ঘটে যাওয়া আন্দোলন থেকে দূরে রাখতে তাকে কয়েক দফায় স্থান পরিবর্তন করে পাঠানো হয় নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জসহ বেশ কিছু কারাগারে। 

এদিকে, পুলিশি হামলা ও রক্তপাতের প্রতিবাদ উঠে পাকিস্তান বিধান সভায়। পশ্চিম পাকিস্তানে বেতার শিল্পীরা তাৎক্ষণিকভাবে ধর্মঘট করে, বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা প্রকাশ করে লিফলেট, বুলেটিন, রচনা করে প্রতিবাদী কবিতা। ঢাকা মেডিকেল কলেজের তৎকালীন ছাত্র সংসদের গোলাম মাওলাকে আহ্বায়ক করে গঠন করা হয় সংগ্রাম পরিষদ। ৫২’র ২২শে ফেব্রুয়ারি আরো কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়, এর মধ্যে ২২ থেকে ২৫শে ফেব্রুয়ারি টানা ৯৬ ঘন্টা হরতাল ডাকে আন্দোলনকারীরা। তীব্রতর হয় রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে বাঙ্গালী ছাত্র জনতার আন্দোলন, যা সফলতা ছিনিয়ে আনে ছাত্র-জনতার রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে, আর সেই সফলতার ওপর দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ বোপন করে এগিয়ে যান শেখ মুজিব, হয়ে উঠেন দেশ স্বাধীনের নেতা, প্রতীক বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীন বাঙালী জাতির জনক।  
 

এই বিভাগের আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *