আতাউল গণি ওসমানী মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হন

প্রকাশিত: ১০:৫০, ১২ এপ্রিল ২০২১

আপডেট: ১১:১৮, ১২ এপ্রিল ২০২১

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছর ২০২০। তাঁর শততম জন্মবার্ষিকীর দিন, ১৭ই মার্চ থেকে শুরু হয়েছে মুজিববর্ষ উদযাপন। স্বাধীন বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু একাত্মা। তিনিই একাত্তরের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর ডাকেই মানুষ স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার দ্বারে পৌঁছানোর আগের বছরটি কেমন কেটেছিল বঙ্গবন্ধুর। সেই উত্তাল আন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক দিনগুলো নিয়ে মুজিববর্ষ জুড়ে বৈশাখী সংবাদের বিশেষ ধারাবাহিক আয়োজন- যাঁর ডাকে বাংলাদেশ। আজ ৩৮২ তম প্রতিবেদন।

একাত্তরে দিন যত গড়াতে থাকে, শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা করা বাংলাদেশের  মুক্তিযোদ্ধা এবং পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর মধ্যে যুদ্ধের তীব্রতা তত বাড়তে থাকে। ১৯৭১ সালের ১২ই এপ্রিল পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সাথে চাঁদপুরে মুক্তিবাহিনীর লড়াই হয়। ঈশ্বরদী ও পাবনার যুদ্ধে প্রায় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

এদিন, ঢাকায় নিযুক্ত এক বিদেশি কূটনীতিকের বরাত দিয়ে টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, “কোন সন্দেহ নেই যে পূর্ব পাকিস্তানে বিপুল ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে। এটি আক্ষরিক অর্থেই রক্তøান। চেঙ্গিস খানের সাথে এর কোন পার্থক্য ছিল না। সেনাদল এখন বিদ্রোহীদের দমন কাজে ব্যস্ত। ট্যাংক চড়ে বেড়াচ্ছে ঢাকার বুকে। ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে বিপুল বাড়িঘর।”
 
একাত্তরের এদিন, ঢাকায় পাতিস্তানী সামরিক কর্তৃপক্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়া সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত ও আধা সরকারি সংস্থাসমূহের সকল কর্মচারীকে ২১শে এপ্রিলের মধ্যে কাজে যোগদানের শেষ নির্দেশ দেয়। বাংলাদেশ ভূখন্ডে পকিস্তানী মুসলিম লীগের সভাপতি শামসুল হুদা, সাধারণ সম্পাদক এ এস এম ইউসুফসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ গভর্নর জেনারেল টিক্কা খানের সাথে দেখা করে পাকিস্তানী প্রশাসনকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। 

একাত্তরের ১২ই এপ্রিল, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার কর্নেল আতাউল গণি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়। যুদ্ধ পরিচালনার জন্য এম.এ.জি. ওসমানী সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করেন। বিপ্লবী বাংলাদেশ সরকার জনগণের কাছে গুজব রটানো, গুজবে কান না দেওয়া, সংগ্রামে ন্যায় ও সত্যের পক্ষে অবস্থান নেবার আহ্বান জানায়।

এদিন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তার জন্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে মূখ্যমন্ত্রী অজয় কুমার মুখার্জীর নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়। এই কমিটি মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা, মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের অভ্যর্থনা জানানো, শরণার্থী শিবিরে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা ও ত্রাণ সরবরাহে সহযোগিতা করে। অন্যদিকে, আমেরিকার ২৯জন বিশিষ্ট নাগরিক পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে একটি বার্তা পাঠিয়ে, অবিলম্বে বাংলাদেশের সমস্যা সমাধানে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

HIB/MSI

এই বিভাগের আরো খবর

পাকিস্তানকে সহযোগিতা বন্ধের দাবি ওঠে

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
আখাউড়া চেকপোস্ট দখল করে নেয় পাকবাহিনী

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
‘পাকিস্তানের মূল প্রতিপক্ষ ছিলেন বঙ্গবন্ধু’

গোলাম মোর্শেদ: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত
আমেরিকার সহায়তা চেয়ে বার্তা পাঠান ইয়াহিয়া খান

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছিলো’

বিউটি সমাদ্দার: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত
‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন দলমত নির্বিশেষে সকলের নেতা’

গোলাম মোর্শেদ: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *