মুক্তিবাহিনীর সাথে পাকিস্তানী বাহিনীর প্রচন্ড সংঘর্ষ হয়

প্রকাশিত: ১১:০২, ১৩ এপ্রিল ২০২১

আপডেট: ০৫:২৭, ১৩ এপ্রিল ২০২১

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছর ছিল ২০২০। তাঁর শততম জন্মবার্ষিকীর দিন, ১৭ই মার্চ থেকে শুরু হয়েছে মুজিববর্ষ উদযাপন, যা চলছে এই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরও। স্বাধীন বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু একাত্মা। তিনিই একাত্তরের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর ডাকেই মানুষ স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। শেখ মুজিবুর রহমানের বিরল ঐতিহাসিক নেতৃত্বের সেই উত্তাল আন্দোলন ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো নিয়ে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরজুড়ে বৈশাখী সংবাদের বিশেষ ধারাবাহিক আয়োজন- যাঁর ডাকে বাংলাদেশ। আজ ৩৮৩ তম প্রতিবেদন।

একাত্তরের ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষিত স্বাধীন বাংলাদেশে যে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, প্রথম থেকেই তার বিরোধীতা করে আসছিলো পাকিস্তান সরকারের বন্ধুদেশ চীন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই  ১৯৭১ সালের ১৩ই এপ্রিল এই বলে ঘোষণা দেন যে, বহিঃআক্রমণ থেকে পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষার জন্য গণচীন প্রতিশ্র“তিবদ্ধ। এক বিবৃতিতে চীনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের মুষ্টিমেয় লোক গেরিলা যুদ্ধ চালাচ্ছে।

একাত্তরের ১৩ই এপ্রিল ঢাকার বায়তুল মোকররম মসজিদে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাফল্যের জন্য মোনাজাত পরিচালনা করেন পাকিস্তানপন্থী জামায়াতে ইসলামীর আমীর গোলাম আজম। পরে পাকিস্তানী হানাদারদের সহযোগী শান্তি কমিটির আহŸায়ক খাজা খায়ের উদ্দিন এবং গোলাম আজমের নেতৃত্বে বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে মিছিল বের করে। তারা সমাবেশ থেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু নিধন ও ভাংচুরের মাধ্যমে নিজেদের তৎপরতা শুরু করে। 

একাত্তরের এদিন ঢাকার বাবুরহাট থেকে জিনারদী, মাঝখানে পাঁচদোনা গ্রামে, মুক্তিবাহিনীর সাথে পাকিস্তানী বাহিনীর প্রচন্ড সংঘর্ষ হয়। পাকিস্তানী হানাদাররা পিছু হটতে বাধ্য হয়। তবে ঢাকার বাইরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার পতন ঘটে।

পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে এদিন রাজশাহীতে সারদার পতন ঘটে। শত্র“ সৈন্যরা শহরে ঢুকে বেপরোয়া ভাবে গুলি চালিয়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করে। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে এদিন পতন ঘটে যশোরের কালিগঞ্জের। জনতার প্রতিরোধ ভেঙে নরসিংদী চন্দ্রঘোনার দখল নেয় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী।  

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর হাসপাতাল সংলগ্ন গ্রামে বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। হানাদাররা ৭২জন পুরুষকে হত্যা এবং বহু নারীর শ্লীলতাহানি করে, হিন্দুদের বাড়ি থেকে প্রায় ১ মণ স্বর্ণালঙ্কার লুট করে। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া দখলে নিয়ে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী রাঙ্গুনিয়া কলেজে ঘাটি গড়ে তোলে। তবে মুক্তিযোদ্ধারা আশে পাশে তাদের গেরিলা তৎপরতা অব্যাহত রাখে। 

এদিন চুয়াডাঙ্গায় বিপ্লবী বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় এলাকাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের তারিখ ও স্থান পাল্টায়, নির্ধারিত হয় ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলায়।

HIB/MSI

এই বিভাগের আরো খবর

পাকিস্তানকে সহযোগিতা বন্ধের দাবি ওঠে

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
আখাউড়া চেকপোস্ট দখল করে নেয় পাকবাহিনী

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
‘পাকিস্তানের মূল প্রতিপক্ষ ছিলেন বঙ্গবন্ধু’

গোলাম মোর্শেদ: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত
আমেরিকার সহায়তা চেয়ে বার্তা পাঠান ইয়াহিয়া খান

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছিলো’

বিউটি সমাদ্দার: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত
‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন দলমত নির্বিশেষে সকলের নেতা’

গোলাম মোর্শেদ: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *